Posted on

৭ কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী, রেখেছো বাঙালি করে, মানুষ করোনি। – রবীন্দ্রনাথের এই কয়টি লাইন অনেকের হয়তো মনে আছে। পাশ্চাত্যর প্রকোপ আসার আগে রবীন্দ্রনাথের যুগে তিনি ধরে নিয়েছেন সবাই বাঙালি ছিল। কিন্তু এখন হয়তো বলতে হবে, ১৬ কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী, বাঙালি বা মানুষ কোনটাই করোনি।

২১ শে ফেব্রুয়ারির দিনে একটা টিভি চ্যানেল প্রায়ই একটা কাজ করে সেটা হল শিশু এবং বড়দের জিজ্ঞেস করে, আচ্ছা আজকের দিনে কি হয়েছিলো? এবং অনেক শিশুই বলে আজকে দেশ স্বাধীন হয়েছিলো। সেই ভিডিও শেয়ার করা হয় সোশ্যাল মিদিয়াতে। আমরা সবাই সেটা দেখে ছি ছি করি।

বাংলা নববর্ষ পালন করার দিন শিশুরা দেখে একতারা, মুখোশ, শুনে বিভিন্ন গান। কিন্তু খুব কম শিশুরাই জানে এর পেছনের ব্যাপারটি কি।

ইংরেজি মাধ্যমে যেসব শিশুরা পড়ে তাদের বেশিরভাগ ঠিকমতো বাংলা লিখতে সমস্যায় পড়ে, এদের অনেকেই জীবনে ঠাকুমার ঝুলির গল্প পড়েনি, কিন্তু ডিজনির সব গল্প গড়গড় করে বলে দেয়।

৫ম শ্রেণী পাস করে ৩০% শিশু ঠিকমতো বাংলাতে লিখতে, পড়তে এবং বলতে পারে না।

একটা পুরো জেনারেশন আমরা তৈরি করছি যারা আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে খুব ধারণা নিয়ে বড় হচ্ছে। এর প্রভাব কিছুটা আমরা টের পাচ্ছি। অনেক বেশি পাবো যখন আমাদের সন্তানদের বয়স ২৫-৩০ হবে এবং আমরা সহসা দেখব আমরা নিজের দেশটাকে নিজের সমাজকে আর চিনতে পারছি না।

বছরে একবার খালি ঘটা করে বাংলা নববর্ষ পালন না করে এই কাজগুলো আমরা এখন থেকে করার সিদ্ধান্ত নেইঃ

১। ঠাকুমার ঝুলি, উপেন্দ্রকিশোরের গল্প, এবং বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে শিশুতোষ বইগুলো কিনে দেই সন্তানদের। সেগুলো পড়তে উৎসাহ দেই। ছোটবেলা থেকে পড়ে শুনাই।

২। রবীন্দ্র, নজরুল সঙ্গীত টুকটাক শুনাই। শিশুদের জন্য দুজনেরই সুন্দর সুন্দর কবিতা এবং গান আছে।

৩। জাদুঘরে ঘুরতে নিয়ে যাই যেখানে আমাদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যর দেখা পাওয়া যায়।

৪। বাসায় ছোট্ট একটা লাইব্রেরি করে সেখানে শিশুদের উপযোগী বাংলা বইগুলো রাখি। আমরা ৩-১২ বছর বয়সী শিশুদের এমন একটা তালিকা করেছি। আগ্রহীরা নিচে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন।

 

৫। সময় পেলে বাংলা একাডেমী, শিশু একাডেমী এইসব জায়গায় নিয়ে যান ছুটির দিনে।

৬। অনলাইনে আমাদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য নিয়ে নিজে একটু পড়াশুনা করি। এতে করে নিজেরদেরও জানা হবে এবং শিশুদেরকেও আমরা সেগুলো জানাতে পারি।

 

বাংলা নববর্ষকে কেবল বছরে এক দিনের একটা অনুষ্ঠানে যেন রূপ না দিয়ে ফেলি। নিজের সংস্কৃতি নিজের অস্তিত্বের একটা অংশ। সেটিকে সবসময় লালন করা দরকার। আর অভিভাবক হিসাবে আমাদের দায়িত্ব আমরা যেন নিজের সন্তানকে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি নিয়ে সঠিক শিক্ষা দিতে পারি।

এবারের নববর্ষে সেটিই হোক আমাদের মন্ত্র।

সবাইকে ‘শুভ নববর্ষ’।