আমরা বর্তমানে প্রযুক্তি দিয়ে ঘিরে আছি, যখন যেখানে যাই করতে যাই, সেখানেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রযুক্তি। আর ছোট বড় সকলেই এই প্রযুক্তির কাছে বন্দি। আর এই প্রযুক্তি থেকে মুক্তি পায়নি শিশুরাও। কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখবেন কি আপনি আপনার শৈশব কিভাবে কাটিয়েছেন?
আপনিও নিশ্চয়ই চান আপনার সন্তান তেমন করে বেড়ে উঠুক, যেভাবে আপনি আপনার শৈশব কাটিয়েছেন। সেজন্য আপনার তাকে গড়ে তুলতে হবে ঠিক যেভাবে আপনি গড়ে উঠেছেন। আসলেও কি তাই? মোটেও না। আপনার ছেলেবেলায় আপনি টেলিফোনে বাবার সাথে অফিসে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু আপনার সন্তান আপনাকে ইমোতে ভিডিও কল দিয়ে অফিসে কথা বলবে। অতএব একবিংশ শতাব্দীর এই টেকনোলোজির যুগে আপনার সন্তানকে গড়ে তুলতে হবে সেভাবেই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি কি আপনার সন্তানের হাতে এখুনি ট্যাবলেট স্মার্টফোন এসব তুলে দিবেন? কোন বয়স থেকে তার হাতে এগুলো দেয়া যায়?
প্রথমত, ইন্টারনেটে অনেক কিছুই করা যায় এবং একইসাথে এর ভালো ও খারাপ দু’টো দিকই আছে। খারাপ দিকের ভয়ে যেমন ভালোকে ফেলে দেয়া যাবে না, তেমনি ভালোর আশায় খারাপটাও গ্রহণ করা যাবে না। আপনি যেহেতু প্রাপ্তবয়স্ক, আপনি জানেন কোনটা ভালো কোনটা খারাপ। কিন্তু আপনার সন্তান কি জানে বা বোঝে? অতএব প্রথমে আপনাকে এইটুকু নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার সন্তানকে আপনি ভালো-খারাপ বিচার করতে শিখিয়েছেন। তারপর নাহয় তার হাতে স্মার্টফোন ট্যাবলেট তুলে দিবেন।
দ্বিতীয়ত, স্মার্টফোন ট্যাবলেট এসব আপনার সন্তানের অন্য কোনো ক্ষতি করছে না তো? এই ক্ষতির দিকটা অবশ্যই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। এবার আসুন আপনাদের জানাই কি কি ক্ষতি ট্যাব আপনার সন্তানকে করতে পারে।
১। ক্ষুধামন্দা তৈরি করেঃ
ক্ষুধামন্দা জিনিসটা খুব পরিচিত। এর অনেক রকম কারণ থাকতে পারে। দুশ্চিন্তা, ধূমপান, মদ্যপান ইত্যাদি। তবে স্মার্টফোন ট্যাবলেটের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিও হতে পারে ক্ষুধামন্দার কারণ। দেখা যায় যে বাচ্চা ট্যাবলেটের প্রতি আসক্ত হয়ে গেলে খাওয়ার কথা ভুলে যায়। এটা ছেড়ে খেতেও যেতে চায় না। আমরা প্রায় সময়ই বাচ্চাকে ট্যাবলেট সামনে নিয়ে কিছু দেখিয়ে খাওয়াই। এতে আসলে কোনও লাভ হচ্ছে না। উল্টো বাচ্চার আরো খারাপ অভ্যাস হচ্ছে।
২। শিশুর মনোযোগ বিঘ্ন করেঃ
স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট আপনার মনোযোগকে বিঘ্নিত করতে পারে। বিশেষ করে যখন ট্যাবলেট নিয়ে আপনার সন্তান ভিডিও গেমস খেলতে থাকে, তখন তার পূর্ণ মনোযোগ সেদিকে দেয় এবং খেলার বাইরেও সে অবচেতনমনে বাহ্যিক জীবন নিয়ে অসচেতন হয়ে পড়তে পারে। এতে তার সামাজিক-মানসিক দক্ষতার প্রচণ্ড অভাব হয়। বোস্টন মেডিকেল সেন্টারের জেনি রাডেস্কি নামের এক ডাক্তার তার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন এভাবে, “আমি অবাক হয়ে পড়লাম এটা দেখে যে বাচ্চাটি তার মায়ের সাথে ঠিকমতো কথা বলছে না এবং তার মাও জানালো বাসায় সে একইরকম করে। অর্থাৎ তার কাছে তার মায়ের কথার বিশেষ গুরুত্ব নেই। অনেকটা যেন সে তার নিজের জগত নিয়ে ব্যস্ত যেখানে তার বাবা-মায়ের বিশেষ গুরুত্ব নেই।” এ ধরণের পরিস্থিতি হতে পারে অতিরিক্ত ট্যাবলেট বা স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে। মানুষের সাথে যোগাযোগ কমে যেতে পারে। এর ফলে দেখা যেতে পারে একসময় হয়তো আপনার সন্তান আর মানুষের আবেগগুলো ধরতে পারবে না। যেমন আপনি আপনার পিতা-মাতার কথা শুনে বুঝতে পারেন তাদের মনের অবস্থা কি। কিন্তু আপনার সন্তান হয়তো তা পারবে না। কারণ সে ছোটবেলা থেকে আপনাকে বুঝতে অভ্যস্ত হয়ে উঠে নি।
আমাদের Kids Time সেন্টারে বাচ্চারা মনোযোগ দিয়ে ক্র্যাফটের কাজ করছে। আমাদের ৪টি সেন্টারে এখন ভর্তি চলছে। পুরো জানুয়ারিতে ভর্তি ফি এর উপর থাকছে ৫০% ডিসকাউন্ট অফার।
৩। শিশুর মানসিক গঠন বদলে দেয়ঃ
স্মার্টফোন আপনার সন্তানের মানসিক গঠনও বদলে দিতে পারে। আপনি ছেলেবেলায় বড় হয়েছেন প্রকৃতির সাথে খেলা করে। আপনার কৈশোর কেটেছে পাড়ার ছেলেদের সাথে খেলার মাঠে। যৌবনের শুরুতে পাড়ার চায়ের দোকানে পাশের বাড়ির বড় ভাইয়ের সাথে আড্ডা দিয়ে সময় পার করেছেন অনেক। কিন্তু আপনার সন্তানের ক্ষেত্রে কি তাই হবে? বাকিগুলো না হোক, অন্তত ছেলেবেলায় প্রকৃতির কাছে আপনার সন্তান থাকছে না, যেটা থাকা জরুরী। আপনার সন্তানকে যদি ছেলেবেলায় আপনি টেকনোলজির সাথে রাখেন তাহলে ফলাফল হতে পারে তার আচরনের পরিবর্তন, অনুভূতিহীনতা। আর ঠিক একথা ভেবেই স্বয়ং ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গ তার সন্তানদের সবুজ মাঠে ছেড়ে দিয়েছেন শৈশব কাটানোর জন্য। আপনি যেভাবে ছোটবেলায় গাছে উঠেছেন বা দিবা-স্বপ্ন দেখেছেন, শৈশব কালে আপনিও নিশ্চয়ই ফুল খুঁজেছেন, ঘর বানিয়েছেন বা ছবি এঁকেছেন। আপনার সন্তানকেও এসবের সাথেই শৈশবটা পার করতে দিন। হার্ভার্ডের একজন শিশু গবেষক ক্যাথেরিন স্টেমার সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন অতিরিক্ত প্রযুক্তিমুখী শৈশব পরবর্তীতে অনুভূতিশূন্য মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে। (তথ্যসূত্রঃ মার্ক জাকারবার্গের ফেসবুক পেইজ)
আমাদের Kids Time সেন্টারে গল্পবলা কোর্সে বিভিন্ন রকম ছবি দিয়ে কল্পনা করে বাচ্চারা তাদের গল্প বানাচ্ছে। বাচ্চাদের লেখা গল্পগুলো পাবেন এখানে-
https://kidstimebd.com/stories-by-kids/
৪। স্মার্টফোনে আসক্তি তৈরি হয়ঃ
‘নোমোফোবিয়া’ নামে একটি মানসিক রোগ সম্প্রতি আবিষ্কার হয়েছে, যা হচ্ছে মূলত মোবাইল বা ট্যাবলেট থেকে দূরে থাকতে অসহ্য বোধ করা বা থাকতে না পারা। হাহাহা। ভাবছেন, আরে আমার ও তো এই রোগ। এই কারণে মাঝে মাঝে আশেপাশে কি হয় তার কোন খেয়ালই থাকে না। তাহলে ভাবুন শিশুর যদি এখনই এই রোগ হয়, তাহলে বাকি জীবনে কি হবে। যেসব শিশু ছোটবেলা থেকে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহারে আসক্ত, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে এই রোগ প্রবল হয়ে উঠতে পারে।
৫। শিশুর ঘুমে ব্যঘাত ঘটেঃ
যেসব শিশু ঘুমানোর আগে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহার করে তাদের ঘুমে বিশেষ ব্যঘাত ঘটতে থাকে এবং একসময় তাদের মধ্যে ইনসমনিয়া তৈরী হতে পারে। এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়, যারা ঘুমানোর সময় স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহার বেশি করেন, তাদের ঘুম গড়ে অন্যদের তুলনায় ২০.৬ মিনিট করে কম হয় এবং তারা ঘুমের মধ্যে জেগে উঠেন অন্যদের থেকে বেশি। কারণ ট্যাবলেট বা স্মার্টফোনের স্ক্রীনের নীল আলোয় মেলাটোনিন নিঃস্বরণ কমিয়ে দেয়, যেটি সিরকাডিয়ান রিদমের সাথে সংশ্লিষ্ট।
রাতে ঘুমানোর সময় গল্পের বই থেকে গল্প পড়ে শোনানো হল শিশুর ভালো ঘুমের জন্য সবথেকে ভালো উপায়।
স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহারের এতসব নেগেটিভ ইফেক্ট থাকার পরেও শিশুদের জন্য সেসব বড়দের চেয়ে বেশি ভয়ংকর। কারণ মোবাইল নেটওয়ার্কের মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশন শিশুদেরকে বড়দের তুলনায় অনেক বেশিই প্রভাবিত করতে পারে এবং সাম্প্রতিককালে মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশন কার্সিনোজেনিক অর্থাৎ ক্যান্সার সৃষ্টিকারী – এই ধরণের ধারণা কোনো কোনো গবেষণায় উঠে আসছে। আর আপনার তুলনায় আপনার শিশুর এতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে মোবাইলে কেউ সারাদিন কথা বলে না। কিন্তু ইন্টারনেট কিন্তু আমরা প্রায় সারাদিনই ব্যবহার করি। অতএব আপনার শিশুকে অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না দেয়াই উত্তম। আর তাছাড়া ছোটবেলায় খেলাধুলা করলে স্বাস্থ্য ঠিক মতো বেড়ে উঠে। খেলার বদলে ইন্টারনেট বা ট্যাবলেট কোনো ভালো সমাধান নয়।
এরচেয়েও বড় ব্যাপার cyber bullying এই সময়ে অনেকেরই সমস্যা। মানুষকে গণ্ডির ভেতর আবদ্ধ করে ফেলে। কৃত্রিম ভয় তৈরী করে। কৃত্রিম শূন্যতা তৈরী করে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই আপনার সন্তানকে প্রযুক্তির ব্যবহার শেখাবেন। প্রযুক্তি এইযুগে ব্যবহার করতেই হবে। তাই বলে আপনার সন্তানের পৃথিবীটা যেন ট্যাবলেটের স্ক্রীনে বন্দী হয়ে না পড়ে সেদিকে অবশ্যই আপনার সজাগ নজর থাকতে হবে।
Kids Time ৪-১০ বছর বয়সী শিশুদের creativity, problem solving skill বাড়ানোর জন্য খুবই মজার কিছু course করাচ্ছে।
আপনার শিশুকে আমাদের কোন একটি সেন্টারে যদি নিয়ে আসতে চান তাহলে নিচের ছবিতে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন করে ফেলতে পারেন। আমরা আপনাকে কল করে আসার সময় জানিয়ে দিবো। ৩-১০ বছর বয়সী শিশুদের অভিভাবকরা করতে পারবেন রেজিস্ট্রেশন।
