Posted on

শিশুরা কেন লাজুক হয় ?

আমার শিশু অতিরিক্ত লাজুক, কারোর সাথে মিশতে চায় না। নতুন কোথাও গেলে খালি আমার কোলেই বসে থাকে। আমাদের Kids Time সেন্টারে অনেক অভিভাবক তাদের শিশুদের নিয়ে আসার একটা বড় কারণ হচ্ছে এটি এমন একটা জায়গা যেখানে সে অন্য আরও বড়-ছোট শিশুদের সাথে মিশতে পারছে, একসাথে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু আসলে অভিভাবক হিসাবে আমাদের জানতে হবে শিশুরা কেন লাজুক হয়। 

শিশুরা স্বভাবসুলভভাবে লাজুক হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে তার লজ্জাবোধ কাটানোর জন্য যথেষ্ট সময় দিতে হবে। তাদের সাথে যথেষ্ট গল্প করতে হবে। গল্পের মাধ্যমে তাদের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে জানতে হবে। তাদের পছন্দ-অপছন্দ জেনে নিয়ে তাদের সাথে সঠিক আচরণ করতে হবে। তাহলে তাদের লজ্জাবোধ কিছুটা কমে আসবে। চলুন প্রথমে জানি কি কি কারনে শিশু এই লাজুক আচরণ করে – 

নতুন পরিবেশঃ 

শিশুরা নতুন পরিবেশে লজ্জা পায়। শিশুকে যখন নতুন পরিবেশে নিয়ে যাবেন তখন তাকে সময় দিতে হবে যেন সে নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে ও সহজ হতে পারে। সহজ হতে তাকে সাহায্য করুন। অন্যের সামনে যদি শিশুকে বলা হয় “তুমি কথা বলছ না কেন?”, তাহলে আরো বেশি খারাপ হবে। এতে শিশু অনেক বেশি লজ্জা পাবে এবং সে আরো বেশি চুপ করে থাকবে।

এটেনশন ফোবিয়াঃ

অনেক শিশু আছে তাঁরা কথা বলতে লজ্জা পায় কারন সে মনে করছে সে যখন কথা বলে তখন সবাই তাকে দেখছে, তাতে সে আরো বেশি লজ্জাবোধ করে। শিশুরা লজ্জা পায় ভয় থেকে। লোকজনের সামনে কথা বলতে ভয় পায়। এই ভীতিটার কারনে সে লজ্জা পায়।

আত্মবিশ্বাসের অভাবঃ 

আবার অনেক সময় সে আত্মবিশ্বাসী হয়না বলে সে অন্যদের সামনে লজ্জা পায়।কোন ভুল কাজ করলে সেই ভুলের জন্য তিরস্কার করলে বা নতুন কারও সামনে বকা দিলে শিশুদের আত্মবিশ্বাস কমে যায়।শিশুদেরও সম্মানবোধ থাকে। তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে যে সে এই কাজটি এইভাবে না করে অন্যভাবে করা যেত।

লাজুক শিশুদের লজ্জাবোধ কাটানোর জন্য সামাজিকীকরণ করাতে হবে। ৫টি উপায়ে শিশুকে সামাজিক করা যায়ঃ

১। শিশুর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা 

শিশুর সাথে কথা বলার সময় শিশুর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন এবং শিশুকেও উৎসাহ দিন যেন শিশুও যখন কারো সাথে কথা বলবে তখন সেও যেন অন্যের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলে।

২। শিশুর আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখানো 

তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা শেখাতে হবে। কখন কি ব্যবহার করতে হবে, কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হবে, কখন হাসতে হবে বা রাগ হলে কিভাবে তা নিয়ন্ত্রনে আনতে হবে তা খুব ভালোভাবে শেখাতে হবে। আবেগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে শিশুদের অন্যের সাথে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়বে। 

৩। অন্যদের সাথে যোগাযোগের অনুশীলন পরিবারেই করা

শিশুদের অন্যদের সাথে যোগাযোগ করা শেখাতে হবে। তাদের গুছিয়ে কথা বলার অনুশীলন করাতে হবে। যদিও এই বয়সী শিশুদের গুছিয়ে কথা বলার কথা না, তাহলেও আমরা বড়রা যখন তাদের সাথে কথা বলবো তখন গুছিয়ে বলবো এবং যার সাথে কথা বলবো কথাগুলো যেন সে বুঝে। অর্থাৎ, যোগাযোগটা যেন ঠিকভাবে হয়। তাহলে শিশুও যখন কথা বলবে তখন সেও চেষ্টা করবে আপনাকে অনুসরণ করতে এবং সেও সেইভাবে কথা বলবে।

৪। শিশুর কথা বলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা 

শিশুকে কথা বলার পরিবেশ দিতে হবে। যে পরিবেশে শুধু বড়রাই কথা বলে এবং শিশু বেশী কথা বলতে গেলে থামিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেই শিশু কথা বলা কমিয়ে দিবে এবং লাজুক আচরণ দেখা যাবে। শিশুর সাথে ‘কথা বলা’ খেলা খেলতে পারেন। পরিবারের সবাই মিলে বসে তাদের সারাদিনে কে কি কাজ করল একজনের পর একজন বলবে। যখন শিশুর পালা আসবে তখন সেও বলবে। শিশুকে বলার সময়টা বেশি দিতে হবে। এক্ষেত্রে হয়তো সে বানিয়ে বানিয়ে অনেক কিছু বলবে এবং সেটা শুনতে হবে। তাকে থামিয়ে দেওয়া যাবে না বা তাকে বলা যাবে না যে তুমিতো এইটা করনি তাহলে বললে কেন? এতে শিশু লজ্জা পাবে এবং কথা বলা কমিয়ে দিবে। সুতরাং শিশুকে কথা বলার পরিবেশ দিতে হবে।

৫। বাইরের নতুন মানুষের সাথে নিয়মিত কথা বলা 

শিশুদের বড় পরিসরে নিয়ে যেতে হবে। আত্মীয়- স্বজনদের বাসায় নিয়ে যেতে হবে। তাদের সাথে কথা বলার উৎসাহ দিতে হবে। তাকে দোকানে নিয়ে যান এবং বলে দিন দোকানদারকে বলতে আপনি কি কি জিনিস কিনতে চান? এক্ষেত্রে সে সম্পূর্ণ নতুন একজনের সাথে কথা বলতে পারবে। এতে করে শিশুর লাজুকভাব কেটে যাবে এবং তার অন্যদের সাথে মেশার ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

…………………………………………………………………………………………………………………………………………………..

এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন রাকা আবেদিনের ‘Nature of Children’ কোর্সে। অভিভাবক এবং শিক্ষকরা রেজিস্ট্রেশন করে  Teachers Time এর অনলাইনে  ফ্রি কোর্সটি করে ফেলুন।  

নিচের ছবিতে ক্লিক করে সরাসরি দেখুন কোর্সের বিস্তারিত।