Posted on

বাচ্চারা প্লে-ডো নিয়ে খেলার প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করে। যখন প্লে-ডো দিয়ে খেলতে দেয়া হয়, বাচ্চারা তাদের সহজাত প্রবৃত্তি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে খেলতে থাকে। ছোট নরম হাতে এই নরম জিনিস নিয়ে নাড়াচাড়া করতে ও খেলতে তাদের খুব ভালো লাগে। তারা এটাকে ধরে, চাপে, দলা পাকায়, মোচড়ায়, উপরে তোলে, নিচে ছুঁড়ে ফেলে। তারা খুব মজা পায় কারণ তারা ডো নিয়ে যাই করতে চায় তাই করতে পারে এবং দেখে যে তাদের প্রত্যেকটা কাজের একটা ফলাফল আছে। যেভাবেই করতে চায় সেভাবেই করতে পারছে এবং যা করতে চায় তাই করতে পারছে।

প্লে-ডো দিয়ে খেলা বাচ্চাদের বিভিন্ন মোটর স্কিল বৃদ্ধি করে, কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ায়, ক্রিয়েটিভিটি বাড়ায়, স্ট্রেস কমায় এবং কথা বলা ও সামাজিক দক্ষতা উন্নয়নেও ভূমিকা রাখে। চলুন দেখে নেয়া যাক প্লে-ডো দিয়ে খেলার ফলে বাচ্চাদের কি কি উপকার হয়।

১। মোটর স্কিল ডেভেলপ করেঃ শিশুর ফাইন মোটর ও সেন্সরি মোটর স্কিলগুলো ডেভেলপ করতে প্লে-ডো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত ৪ বছরের পর থেকেই শিশু হাত দিয়ে কাজ করা শুরু করে। প্লে-ডো এর দলা কাঁটা, দলা পাকানো, রোল করা এবং স্ট্যাম্পিং করা- এই সব কিছুই শিশুর ফাইন মোটর স্কিল বাড়ায়। হাত দিয়ে ডো নাড়াচাড়া করার ফলে তাদের হাতের ছোট-বড় সব মাসেল ডেভেলপ হয় এবং হাত-চোখের কর্ডিনেশন ভালো হয়। এটা তাদের ফাইন মোটর ও সেন্সরি মোটর স্কিল ডেভেলপ করে যেটা তাদের দৈনন্দিন কাজের জন্য উপকারী। শিশু এখনো লিখতে পারছে না ঠিকমত? প্লে-ডো দিয়ে খেলার ফলে বাচ্চার হাতের মুষ্টি দৃঢ় হয় এবং হাতের লেখার দক্ষতা বাড়ে। ডো দলা পাকানোর দক্ষতা থেকে শিশুরা জুতার ফিতা বাধা এবং জামার বোতাম লাগানো শিখে।

২। ইন্দ্রিয়ের দক্ষতা বাড়েঃ প্লে-ডো খেলার মাধ্যমে বাচ্চার বিভিন্ন ইন্দ্রিয়ের দক্ষতা বাড়ে কারণ এটার মাধ্যমে দৃষ্টি, গন্ধ এবং স্পর্শের ব্যবহার হয়। প্লে-ডো তে বিভিন্ন রঙ ব্যবহারের মাধ্যমে বাচ্চা বিভিন্ন রঙ এবং আকৃতি শিখতে পারে। প্লে-ডো তে সুগন্ধি ব্যবহার করে বাচ্চার ঘ্রান ইন্দ্রিয়ের বিকাশ ঘটানো যায়। তাছাড়া প্লে-ডো এর মাধ্যমে বাচ্চা শক্ত এবং নরম এর পার্থক্য বুঝতে পারে এবং সেইভাবে জোড়া লাগাতে পারে।

৩। ক্রিয়েটিভিটি বাড়েঃ প্লে-ডো দিয়ে খেলার সময় শিশুরা নিজের ইচ্ছেমত শেপ, চরিত্র বা মডেল বানাতে পারে। তাদের কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে অনেক মেটারিয়াল ব্যবহার করা, ডো তে বিভিন্ন রঙ, গন্ধের ব্যবহার এবং অনেকরকম ভাবে বুনন এর মাধ্যমে বাচ্চার ক্রিয়েটিভিটি স্কিল বাড়ে। বাচ্চা নিজের ইচ্ছামত যাই করতে চায় তাই করতে পারে। বাচ্চা চাইলে বিভিন্ন চরিত্র বানিয়ে তাৎক্ষণিক একটা গল্প পর্যন্ত বানিয়ে ফেলতে পারে প্লে-ডো দিয়ে খেলার মাধ্যমে।

https://kidstimebd.com/registration-form-lalmatia_friday_evening/

৪। বাচ্চাদের মনোযোগ বৃদ্ধি হয়ঃ প্লে-ডো দিয়ে খেলা সম্পূর্ণ হাতের কাজ। গবেষণায় দেখা গেছে যে যেসব কাজের সাথে হাত এবং চোখ জড়িত সেইসব কাজে মনোযোগ বেশি থাকে। প্লে-ডো দিয়ে খেলা বাচ্চাদের ব্যস্ত রাখে এবং কাজের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি করে। বাচ্চারা অনেক সময় আঠালো জিনিস ধরতে অপছন্দ করে। তারা অনেক সময় খাবার নিজ হাতে তুলে খেতে চায় না অথবা ফল খেতে বা ধরতে অপছন্দ করে কারণ সেটা ভেজা এবং আঠালো থাকে এই জন্য। কিন্তু প্লে-ডো দিয়ে খেলার পর তাদের এই অভ্যাস অনেকটা দূর হয়ে যায়। আঠালো বা ভেজা জিনিস ধরার ক্ষেত্রে আর কোনো সমস্যা থাকে না। অনেক সময় দেখা যায় যে ক্র্যাফট এর কাজ করার সময় বাচ্চারা আঠা ধরতে চায় না। ডো দিয়ে খেললে বাচ্চার এই সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

৫। বাচ্চাদের স্ট্রেস কমায়ঃ ছোট বাচ্চারা আসলে তাদের স্ট্রেস বোঝাতে পারে না ঠিকভাবে। তখন তারা ভয় পেয়ে আরো আতংকিত হয়ে যায়। প্লে-ডো দিয়ে খেলার সময় হাতের উপর অনেক চাপ পড়ে এবং এর মাধ্যমে স্ট্রেস দূর হয়। এটা অনেকটা থেরাপির মত কাজ করে। তাই প্লে-ডো শুধুমাত্র আনন্দের কাজ নয়, এটি আপনার বাচ্চার মানসিক চাপ কমানোর একটি কার্যকরী উপায়।

৬। বাচ্চার প্রিস্কুলিং এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেঃ প্লে-ডো সাধারণত প্রিস্কুলের বাচ্চাদের জন্য। প্লে-ডো খেলার ছলে শিশু অনেক শব্দ শিখে। যেমনঃ ধাক্কা দেয়া ও টানা, উপর থেকে ফেলা, নিংড়ানো, চাপ দেয়া, বাঁকানো, মোচড়ানো, টেনে ছিঁড়ে ফেলা ইত্যাদি। তাছাড়া ডো এর বিভিন্ন গঠন যেমনঃ চ্যাপ্টা বা দলা পাকানো, লম্বা ইত্যাদি বোঝে। প্লে-ডো এর মাধ্যমে শিশুর গাণিতিক দক্ষতাও বাড়ে। শিশু বিভিন্ন শেপ বানাতে পারে, শেপের সাইড কয়টা গুণতে পারে এবং একটি শেপকে বিভিন্ন ভগ্নাংশে ভাগ করতে পারে। তাছাড়া ডো দিয়ে বিভিন্ন সাইজের বল বানিয়ে সেগুলোকে বড় থেকে ছোট সাজাতে পারে।

 

…………………………………………………………………………………………………………………………………………………

আমাদের Kids Time সেন্টারগুলোতে আগামী ব্যাচের ভর্তি শুরু হয়েছে। ক্লাস শুরু হবে জানুয়ারি ২০১৯ থেকে।

আমাদের প্রতিটি সেন্টারে সীট খুব সীমিত। প্রতি ৫ টি আবেদনের মধ্যে ১ জন সাধারণত ভর্তির সুযোগ পায়।

বিস্তারিত জানতে নিচের ছবিতে ক্লিক করুন।

(উপরের লেখাটি লিখেছেন এ এম সালাহউদ্দিন সোহাগ। তিনি বর্তমানে লাইট অফ হোপে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (ট্রেইনিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট) হিসেবে কর্মরত আছেন)