fbpx

Select Your Favourite
Category And Start Learning.

ছোট কিছু ধাপ ফলো করে সন্তানের আচরণের বড় পরিবর্তন আনুন

সন্তানের ভালো আচরণ যেমন আমাদের আনন্দ দেয় একইভাবে খারাপ আচরণগুলো আমাদের পীড়া দেয়। প্রতিটি অভিভাবক বলে- আমি চাই আমার সন্তান যেন ভালো মানুষ হয় এবং সুখী হয়। 

কিন্তু এই ভালো মানুষ হওয়া আর সুখে থাকার মত বড় ফলাফলের জন্য ছোট্ট বয়স থেকেই সন্তানকে তৈরি করতে হয়। তাঁকে আচরণগুলো শেখাতে হয়। প্র্যাকটিসগুলো নিয়মিত করতে হয়। এই আর্টিকেলে আমরা ধাপগুলো নিয়ে আলোচনা করবো। 

ধাপ ১ঃ পরিচয় বা Introduction

ধাপ ২ঃ প্ল্যান তৈরি করা

ধাপ ৩ঃ ছোট্ট পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করুন

ধাপ ৪ঃ কাজটি শুরু করার জন্য স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিন সন্তানকে

ধাপ ৫ঃ সাসটেইন করানো বা অভ্যাসটি ধরে রাখা

চলুন এবার বিস্তারিত জানি। 

ধাপ ১ঃ পরিচয় বা Introduction

প্রথম ধাপেই আপনি শিশুর যে আচরণটি নিয়ে কাজ করতে চান তা নিয়ে গল্প আর উদাহরণের মাধ্যমে শিশুকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। যেমন ধরুন আপনি চাচ্ছেন আপনার শিশুর অন্যের সাথে মেলামেশা করবে আর প্রতিদিন নতুন একজনের সাথে কথা বলবে। তাই এই ব্যাপারটির সাথে শিশুর পরিচয় করিয়ে দিতে হবে গল্পের মাধ্যমে। আপনার বন্ধু, বন্ধুত্ব নিয়ে গল্প করতে পারেন আর পাশাপাশি তাঁকে আগ্রহী করে তুলতে পারেন। 

ধাপ ২ঃ প্ল্যান তৈরি করা

আপনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিশুকে শেখাবেন নতুন বন্ধু তৈরি কিভাবে করতে হয় তা নিয়ে। কিন্তু এই ব্যাপারটিতে অবশ্যই আপনার সন্তানকেও একমত হতে হবে। আর মজার ব্যাপার হল শিশু যখন নিজে কোনও একটি কাজে মতামত দেয় এবং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে তখন তাদের ঐ কাজটি করার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। 

তাই যে কোনও প্ল্যানই করতে চাচ্ছেননা কেন তা শিশুকে নিয়ে করুন। যেমন – এই প্ল্যানটি করার জন্য শিশুর সাথে ক্যালেন্ডার, নোটবুক, রংপেন্সিল ইত্যাদি নিয়ে বসুন। তাঁকে প্রথমে বলুন আপনি নিজে নতুন কারও সাথে কথা বলে তাঁর সাথে বন্ধুত্ব করতে কি কি সমস্যায় পড়েন আর তা থেকে বের হয়ে আসতে কি কি ধাপ অনুসরণ করেন। এরপর তাঁর নিজের প্ল্যানটি করতে বসুন। আপনার শিশুকেই বলুন সে কি কি করতে চায়? প্রথমেই সে কোন কাজগুলো করতে চায়? এভাবে প্রতিদিনের কাজ অনুযায়ী প্ল্যান করে তাঁর ছবি এঁকে ফেলুন। ছবিগুলো দুজন মিলে রঙ করুন। প্ল্যানের ছবিটি আপনার শিশুর পড়ার টেবিলের পাশে ঝুলিয়ে দিন। 

ধাপ ৩ঃ ছোট্ট পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করুন 

ছোট্ট পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করুন। যেমন- আপনারা দুজন হয়তো যে প্ল্যান করেছেন তা দিয়ে সপ্তাহের সাতটি দিনেরই সারাদিনের কাজের মাঝে প্ল্যানের ধাপগুলো আসবে। কিন্তু আপনাকে মাথায় রাখতে হবে কাজগুলো শুরু হবে ছোট কোনও ধাপ দিয়ে। সবকিছু একইসাথে  মেনে চলা হয়তো সম্ভব নয়।আবার সবকিছু একবারে মেনে না চললে আপনার রাগ করা বা মন খারাপ করা চলবেনা।যেমন – প্রথম দিনের কাজ হতে পারে আপনার শিশু অপরিচিত ৫ জনকে জিজ্ঞেস করবে ঐ অপরিচিত মানুষটা কেমন আছে। 

ধাপ ৪ঃ কাজটি শুরু করার জন্য স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিন সন্তানকে

এবার সন্তানকে ছেড়ে দিন কাজটি করার জন্য। স্কুল বা বাসার যে কোনও জায়গায় সে পাঁচজনকে জিজ্ঞেস করবে তারা কেমন আছে। কিভাবে বা কোথায় এ সব দায়িত্ব আপনি আপনার শিশুর উপর ছেড়ে দিন। 

ধাপ ৪.৫ঃ রিপোর্ট নেয়া 

এই ধাপকে আমরা ৪.৫ বলছি। কারণ দিন শেষে এবার আপনার রিপোর্ট নেয়ার পালা। আপনার শিশু আসলেই অপরিচিত কারও সাথে কথা বলেছে কিনা, বা কথা বলার আগে-পরে তাঁর অনুভূতি কী হয়েছিল এই নিয়ে জানতে চান। গল্প করুন আপনার সারাদিনের কাজগুলো নিয়ে। আর একই টাস্ক আপনিও মেনে চললে ভালো হয়। সেক্ষেত্রে দুজনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা আরও মজাদার হবে। 

ধাপ ৫ঃ সাসটেইন করানো বা অভ্যাসটি ধরে রাখা

সবচেয়ে কঠিন ধাপ হল এই ব্যাপারটি। দিনের পর দিন প্ল্যান মাফিক পুরো প্রসিডিওরটি মেনে চলতে হবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনি আপনার সন্তানের জন্য রোল মডেল। সে শিখবে আপনাকে দেখে। আপনি যদি প্ল্যান তৈরি করে নিজে তা মেনে না চলেন তবে আপনার সন্তানও একই ধরনের কাজে আগ্রহী হবে। তাই  প্ল্যান করার মতই তা সামনে রেখে কাজ করে যাওয়া আরও বেশি জরুরি। 

একই নিয়ম মেনে একটি কাজ বা অভ্যাস এভাবে গড়ে তোলার পর নতুন আরও একটি ভালো কাজে বা ব্যবহারে অভ্যস্ত করে তুলতে পারেন । আর এভাবেই একজন ভালো মানুষ হিসেবে আপনি আপনার সন্তানকে তৈরি করতে পারবেন। 

লিখেছেন – Tahmina Rahman, Operation Head, Kids Time.

Reference- Sandy Hook Promise

শিশুর আচরণের পরিবর্তনের জন্য লাইট অফ হোপ থেকে প্রকাশিত হয়েছে Goofi Storydoo সিরিজ যেখানে ৫ টি গল্পের বইয়ের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা এবং আচরণগত পরিবর্তন আনার কাজ করা হয়েছে। 

বইয়ের সিরিজটি পাবেন নিচের ছবিতে ক্লিক করে। 

এছাড়া শিশুর সৃজনশীলতা বাড়ানোর জন্য ভিন্নধর্মী বইয়ের সিরিজ নিয়ে লাইট অফ হোপ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ‘Goofi Series’. বিস্তারিত দেখুন নিচের ছবিতে ক্লিক করে।

Comment List

  • অনেক ভাল লাগল।আরেকটা প্রবলেম সমাধানে সহযোগিতা চাই।কিভাবে বাচ্চার অল্পতেই রাগ আর কান্না কমাবো।

Leave a comment