Posted on

কিডস টাইমের শুরুটা খুব মজার। অভিভাবকদের সাথে আমরা প্যারেন্টিং নিয়ে ওয়ার্কশপ করাতাম ২০১৬ সালে। বিষয় ছিল কিভাবে শিশুর সাথে কোয়ালিটি সময় দিতে হবে যেন শিশুর সৃজনশীলতা এবং মানসিক বিকাশে সহায়তা হয়। সেই ওয়ার্কশপগুলো থেকেই অভিভাবকরা আমাদের বললেন যে, আমরা কি শিশুদের জন্য কিছু করতে পারি কিনা। ঢাকায় যেহেতু শিশুদের সেভাবে কোয়ালিটি সময় ব্যয় করার মতো ভালো তেমন কোন সুযোগ নেই, আমরা কি সেই দায়িত্ব নিতে পারবো কিনা।

আমরা অভিভাবকদের কথামতো শিশুদের জন্য ২-৩ ঘণ্টার ক্র্যাফট সেশন শুরু করলাম যেখানে এসে শিশুরা বিভিন্ন জিনিস বানানো শিখবে, পাশাপাশি আমরা অভিভাবকদের জন্য আলাদাভাবে সেশন রাখলেম। পুরো ওয়ার্কশপটাই হতে থাকলো ঢাকার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে। ওই সময় আমাদের নিজস্ব কোন জায়গা ছিল না যেখানে আমরা এই ধরণের কোন সেশন নিতে পারি।

এরকম বেশ কিছু ওয়ার্কশপ করার পর অভিভাবকরা আমাদের বললেন যে আমরা কি আরও লম্বা সময় নিয়ে কিছু করতে পারি কিনা। শিশুরা খুব উপভোগ করে এবং তারা বলে আবার কবে হবে এরকম প্রোগ্রাম। ততদিনে আমরা লালমাটিয়াতে আমাদের অফিস নিয়েছি। সেখানেই ২০১৭ সালের মে মাসে আমরা প্রথম আয়োজন করলাম ১ মাসের ক্র্যাফট কোর্স। সেই সময় গ্রীষ্মের ছুটি ছিল শিশুদের। সেই থেকে যাত্রা শুরু।

ধীরে ধীরে আমরা আমাদের কাজের পরিধি বাড়ালাম। শিশুদের সৃজনশীলতা বাড়াতে আরও কি কি ধরণের কাজ হতে পারে যেগুলো তারা খুব আনন্দ নিয়ে শিখতে পারে সেটি নিয়ে গবেষণা চলল, আমরা নতুন নতুন সব কোর্স পরিক্ষামুলকভাবে চালু করলাম। শেখান থেকে যেসব জিনিস ভালো সেগুলো নিয়ে ধীরে ধীরে এখন দাঁড়িয়ে গেছে আমাদের ৩ বছরের সম্পূর্ণ কোর্স।

এখন আমাদের মোট ৪ টি কোর্স আছে –

  • Creative Genius,
  • Story Maker,
  • Puppet Master
  • Little Scientist.

প্রতিটি কোর্সেই বিভিন্ন দারুণ টেকনিক দিয়ে শিশুদের সৃজনশীলতা বাড়ানো, তাদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং আবেগিয় দক্ষতা বাড়ানো নিয়ে কাজ করা হয়।

লালমাটিয়া সেন্টার ভালো করার পর আমাদের ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিভাবকদের অনুরোধ পেতে থাকলাম যেন তাদের এলাকাতেও আমরা একটা সেন্টার শুরু করি। এভাবে দেখতে দেখতে এখন আমাদের ঢাকায় ৭ টি সেন্টার হয়ে গেলো। সেন্টার গুলোর ঠিকানা দেখুন নিচের ছবিতে। সেন্টারগুলোর গুগল ম্যাপ লোকেশন জানতে ছবিতে ক্লিক করুন।

২০১৭ সালে একটি রুমে ১৫ টি শিশু নিয়ে চালু করা কিডস টাইম আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আফটার-স্কুল ব্র্যান্ড। আমাদের সবগুলো সেন্টার থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজারেরও বেশি শিশু বের হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রথম আমরা করলাম কিডস টাইম মেলা। দারুণ সাড়া পেলাম অভিভাবক এবং শিশুদের। ২০১৯ এ আবারও করলাম অক্টোবর মাসে। প্রতি মেলায় ১০ হাজারেরও বেশি অভিভাবক এবং শিশুরা আসে। মাত্র দুটি ইভেন্টের মাধ্যমেই কিডস টাইম মেলা হয়ে গেলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিশুদের মেলা।

আমাদের তৈরি ক্র্যাফট প্যাকেজ এখন অনলাইনের পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে আড়ংয়ের মতো জায়গায়। কিডস টাইমের সাথে যারা যুক্ত তারা কাজ করতে লাগলেন বিভিন্ন সৃজনশীল বই তৈরিতে। গুফি থেকে প্রকাশ হওয়া বিভিন্ন প্রোডাক্ট এবং বইগুলো এখন দারুণ জনপ্রিয় শিশুদের এবং অভিভাবকদের মধ্যে।

কিডস টাইম থেকে প্রকাশিত লেখাগুলো প্রতি মাসে পড়েন কয়েক লক্ষ অভিভাবক। সেই সব লেখায় আমরা নিয়মিতভাবে শিশুদের মানসিক বিকাশ এবং সৃজনশীলতা বাড়ানোর জন্য নিয়মিত টিপস দেই। কিডস টাইমের ইউটিউব চ্যানেলে এখন আছে কয়েকশো ক্র্যাফট ভিডিও যেগুলো শিশুরা, অভিভাবকরা এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা দেখেন এবং নিজেরা সেগুলো করেন। আমাদের গত ২ বছরের কার্যক্রম দেখে উৎসাহ পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠতে লাগলো ছোট ছোট সেন্টার। তারাও শিশুদের ক্র্যাফট করানো শুরু করলো। বিভিন্ন স্কুলেও তারা ক্র্যাফট করানো শুরু করলো শিশুদের জন্য।

এতো বেশি ক্র্যাফট করার জিনিস এখন আমাদের লাগে যে আমাদের জন্য আলাদাভাবে দেশের বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। পুরো একটা Industry কে আমরা চাঙ্গা করে দিতে পেরেছি গত ২-৩ বছরে

আমরা খুব গর্ববোধ করি যে আমাদের গত ২-৩ বছরের এইসব কাজের কারণে এখন অভিভাবকরা আরও বেশি সচেতন হচ্ছেন, স্কুলগুলো সচেতন হচ্ছে, তারা বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। আর এতে করে উপকৃত হচ্ছে আমাদের শিশুরা। বড় একটা ধন্যবাদ পাবেন আমাদের সাথে যুক্ত সব অভিভাবকরা যারা আমাদের উপর বিশ্বাস রেখেছেন। আমাদের কথা আরও অনেককে বলেছেন, আমাদের উৎসাহ জুগিয়েছেন সবসময়।

আর অবশ্যই ধন্যবাদ আমাদের কাজের মধ্যমণি শিশুদের। তাদের হাসি, তাদের আনন্দ এবং তাদের ভালোবাসা আমাদের প্রতিনিয়ত নতুন কিছু করতে, নিজেদের আরও ভালো করতে অনুপ্রেরণা দেয়। আমাদের গত ৩ বছরের সবচেয়ে বড় অর্জন বলবো আমাদের কিডস টাইম সেন্টারের শিশুদের ভালোবাসা।

সামনের সময়গুলোতে যেন আমরা সব অভিভাবকদের পাশে পাই সেটাই থাকবে আমাদের চাওয়া। আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করার এই লড়াইয়ে যেন আমরা সবসময় আপনাদের পাশে পাই।

ধন্যবাদ।

কিডস টাইম

কিডস টাইম জানুয়ারি ২০২০ সেশনে ভর্তির জন্য ক্লিক করুন উপরের ছবিতে।