fbpx

Select Your Favourite
Category And Start Learning.

জাপানের শিক্ষাব্যবস্থার ১০ টি চমকপ্রদ তথ্য!

সূর্যোদয়ের দেশ-নিপ্পন বা জাপান। শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত উন্নতিতে আছে অনেকটাই এগিয়ে। জাপানের শিশুদের ভদ্রতার খ্যাতি জগতজুড়ে। তাদের শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন ব্যতিক্রমী দিক তাদেরকে করে তুলেছে অনন্য। চলুন জেনে নেই জাপানের শিক্ষাব্যবস্থার ১০ টি চমকপ্রদ তথ্য।

১। ১০ বছর বয়সের আগে কোন পরীক্ষা নয়

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে,জাপানে ৪র্থ গ্রেড পর্যন্ত অর্থাৎ ১০ বছর পর্যন্ত জাপানের শিক্ষার্থীদের কোন পরীক্ষা হয়না। তারা বিশ্বাস করে প্রথম ৩ বছর শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করার সময় নয়। বরং তাদের আচার আচরণ আরও উন্নত করে তোলার সময়।

২। শিক্ষকরা কখনও কোন ছাত্রকে শাস্তিস্বরূপ ক্লাসের বাইরে পাঠান না

জাপানে কোন অপরাধে শিক্ষার্থীকে ক্লাসের বাইরে বের করে দেয়া এমনটি কখনই  হয়না। জাপানী সংবিধানের ২৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “সমান শিক্ষা অর্জনের অধিকার সবাইকেই দেয়া হবে …” এবং এই কারণে, জাপানি শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসের বাইরে পাঠাতে সাহস পায় না। শিক্ষকরা বরং চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীদেরকে কিভাবে আরও আনন্দের সাথে পড়ানো যায় যেন তারা ক্লাসে আরও মনোযোগ দিয়ে বিভিন্ন জিনিস শিখতে পারে।

। শিক্ষক-ছাত্র একই সাথে দুপুরের খাবার খায় ক্লাসরুমে

জাপানের স্কুলগুলোতে শিক্ষক-ছাত্র সবাই একসাথে একই মেনু দিয়ে দুপুরের খাবারের পর্বটা সম্পূর্ণ করে ক্লাসরুমেই। এবং সেই খাবার সার্ভ করে কারা জানেন? শুনতে অবাক লাগলেও খাবার সার্ভ করে ছাত্ররা। এবং খাবার শেষে খাবার পাত্র পরিষ্কার করা এবং তা আবার গুছিয়ে রাখার কাজগুলোও তারা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে করে। এভাবেই তাদেরকে নিজের কাজ নিজেদের করার একটা শিক্ষাও দেয়া হয়।

। স্কুল পরিষ্কার করার জন্য কোন অতিরিক্ত লোক নেই !

তাহলে এত বড় স্কুল পরিষ্কার করে কে? উত্তরটা জানলে আবারো অবাক হতে হবে – ছাত্ররা ! ক্যাম্পাসের প্রতিটি অংশ, টয়লেট সব ভাগ করে দেয়া থাকে একেক দলকে। প্রতিদিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করার আগে ১মিনিট নীরবতার মধ্য দিয়ে ধ্যানও করে তারা।

। প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২৩৫ মিনিট নিয়মিত গণিত ক্লাস

গণিতের প্রতি একটু বাড়তি নজরই দেয় বলতে হবে জাপানিরা। অন্যান্য দেশে এই হার গড়ে ২১৮ মিনিট। বিজ্ঞান এবং ভাষার প্রতি সেক্ষেত্রে একটু মনোযোগ কমই বলতে হবে তাদের।

। ফেল করলেও পরের ক্লাসে….

আজ্ঞে হ্যাঁ, ফেল করেও পরের ক্লাসে যেতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই জাপানের স্কুলের ছাত্র হতে হবে। শিক্ষার্থী ফেল করলেও পরের ক্লাসে উঠতে পারে কোন পরীক্ষা না দিয়েই। তবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহনের জন্য অবশ্য এই গ্রেড মুল্যায়ন করা হয়।

। এপ্রিলেই শুরু হয় একাডেমিক ক্লাস

অন্যান্য সব দেশে যখন সেপ্টেম্বর থেকে (আমাদের দেশে জানুয়ারি থেকে অথবা জুলাই থেকে) একাডেমিক শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়, তখন জাপানে একাডেমিক বর্ষ শুরু হয় এপ্রিল থেকেই। ঠিক সেই সময় যখন প্রকৃতি থাকে অপরূপ চেরি ফুলে সজ্জিত, যেন প্রকৃতির এই আনন্দ শিশুদের মধ্যেও বিরাজ করে স্কুল শুরুর সময়ে।

উপস্থিতির হার শতকরা ৯৯.৯৯%

জাপানের শিক্ষার্থীরা না স্কুল মিস দেয়, না স্কুলে দেরীতে আসে। তাদের বেশিরভাগই পড়াশোনা করতে খুবই ভালোবাসে। একই রকম পোশাকের সাথে একই রকম স্কুল ব্যাগ ব্যবহার করে তারা।

। স্কুলের ছুটিতেও স্কুলে কাজ করেন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা

জাপানের শিক্ষকরা কেবল জাতীয় ছুটির দিনগুলো ব্যতীত সকল দিনেই স্কুলে কাজ করেন। এমনকি শিক্ষার্থীরাও ছুটির সময় বিভিন্ন ক্লাবের কাজে, খেলাধুলার প্রয়োজনে স্কুলে আসে। তাই ‘সবার জন্য ছুটি’ ব্যাপারটি জাপানে অন্তত প্রযোজ্য নয়।

১০। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন এক আনন্দময় অবকাশ

একটি বেশ কঠিন পরীক্ষা দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশ করতে হয় জাপানি শিক্ষার্থীদের। কিন্তু এরপরের ৪ বছর কাটে খুবই আনন্দে। তারা এটাকে প্রফেশনাল লাইফে যাওয়ার আগে একটা আনন্দময় অবকাশ হিসেবে বিবেচনা করে।

বুঝতেই পারছেন পাঠক, জাপান তাদের দেশের “জনসম্পদ” গড়ে তুলতে কতটা চিন্তা এবং পরিশ্রম করছে। সেজন্যই আজ তারা পৃথিবীর অন্যতম স্বনির্ভর দেশ।

আমাদের দেশে কবে থেকে এরকম শিক্ষাব্যবস্থা বা এমন স্কুল পাবো যেখানে পরীক্ষার রেজাল্টের চেয়ে শিশুর সৃজনশীলতার মূল্যায়ন বেশি হবে?

শেষ কথা 

আমরা জাপান নই। জাপানের অনেক কিছুই হয়তো আমাদের দেশে একইভাবে করা সম্ভব নয়। ফিনল্যান্ডে যেমন প্রাইমারি স্কুল থেকে সব সাবজেক্ট উঠিয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে শিশুদের শেখানো হচ্ছে যেন শিশুরা তাদের মধ্যে সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং মূল্যবোধ গড়ে উঠে।

আমাদের দেশের শিশুদের জন্য এই দক্ষতাগুলো বাড়ানোর জন্য Light of Hope আজকে থেকে দুই বছর আগে শুরু করেছে বাংলাদেশের প্রথম After-school Brand – Kids Time.

Kids Time এর ক্রিয়েটিভ কোর্সে আমরা ৪-১০ বছর বয়সের শিশুদের সৃজনশীলতা, ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং এবং মূল্যবোধ বাড়ানো নিয়ে কাজ করি।

সেখানে ইতিমধ্যে এক হাজারেরও বেশি শিশু গত ২ বছরে আমাদের বিভিন্ন কোর্সগুলো শেষ করেছে। ঢাকায় এখন আমাদের ৪ টি সেন্টার রয়েছে। আমাদের Kids Time সেন্টারগুলোতে আগামী ব্যাচের ভর্তি শুরু হয়েছে। ক্লাস শুরু হবে জানুয়ারি ২০১৯ থেকে।

Kids Time এর ব্যাপারে জানতে অথবা কথা বলতে সরাসরি এই নাম্বারে যোগাযোগ করুনঃ 01771588494 

Kids Time নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন নিচের ছবিতে ক্লিক করে।