Posted on

 

শিশুর জন্মদিনে আমরা কত কিছুই না দেই। খেলনা, পুতুল, গাড়ি, সাইকেল থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন বা ট্যাব। জন্মদিন এমন একটা উপলক্ষ যেখানে শিশুরা নিজের অভিভাবক ছাড়াও অন্যদের থেকেও বিভিন্ন ধরণের উপহার পায়। এবং বেশিরভাগ সময় প্রায় একই ধরণের জিনিস। আগে আমরা জন্মদিনে নিয়মিতভাবে গল্পের বই উপহার পেতাম। এখন দিন দিন সেই প্রথা প্রায় উঠেই গেছে। বরং কারোর কাছে গল্পের বই উপহার পেলে বরং একটু মনই খারাপ হয়। মনে করি লোকটা বুঝি কিপটে কিসিমের।

আমরা ২০০ শিশুর উপর জরিপ করেছিলাম জন্মদিনের উপহার হিসাবে সে কি পায় এবং কি পেতে ভালোবাসে। সেটি থাকছে আরেকটু পরেই। 

আমার মনে আছে আমার জন্মদিনে বাবা-মা জিজ্ঞেস কি দিবো জিজ্ঞেস করলেই বলতাম ‘গল্পের বই দিয়ো’। এরপর লিখে দিতাম অমুক অমুক বই। চাচারাও উপহার দিতেন বই। জন্মদিনে কত বই পেতে যাচ্ছি সেটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত থাকতাম। কখন উপহারের মলাট ছিঁড়ে বের করবো ভিতরের বইগুলো !! আর প্রোগ্রাম শেষ হলে বিছানায় নিয়ে শুয়ে পড়া শুরু করতাম সবচেয়ে পছন্দের বইটি। এভাবেই আমার বাসায় তৈরি হয়ে গিয়েছিল একটি বড় লাইব্রেরি। সেই লাইব্রেরি থেকে এরপর কত ছোট ভাইবোনরা বই নিয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। মফঃস্বলে বড় হয়েছি বলে বইয়ের যোগান ছিল কম। তাই আমার বাসার লাইব্রেরি অনেককেই তাদের শৈশবে বই পড়ার আনন্দ দিয়েছে।

সে তো আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগের কথা। এখন যুগ পাল্টেছে। এখনকার জন্মদিন অনেক রঙচঙে। প্রায়ই বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে দেখি জন্মদিনের অনুষ্ঠান পালিত হয়। ঘরোয়া আমেজ থেকে বেরিয়ে এখন জন্মদিন বেশ পার্টি ফ্লেভার পেয়ে গেছে। ভাড়া করা ফটোগ্রাফার, বিশাল স্টেজ, চারদিকে সাজগোজ করা মানুষ, তাদের হাতের স্মার্টফোন থেকে হামেশা ছবি উঠছে বা ভিডিও হচ্ছে। এমন পরিবেশে কোন বোকা যাবে গল্পের বই নিয়ে। অন্য গ্রহের মানুষ না আবার তাকে মনে করে কেউ !!

শিশুদের তাই এখন আর গল্পের বই উপহার পাওয়া হয় না। এটা ভেবে আমার কষ্ট হয়। তবে আমার মনে হয় এখনও কিছু কিছু মানুষ আছে যারা ভাবেন শিশুকে জন্মদিনে গল্পের বই দেয়ার কথা এবং দেনও। তাদেরকে অনুরোধ, চালিয়ে যান। আপনি হয়তো নিজের অজান্তেই একটি শিশুর অনেক বড় উপকার করছেন।

আমরা কিছুদিন আগে ৫-১০ বছর বয়সী ২০০ শিশুর উপর একটা জরিপ করেছিলাম। জন্মদিনে তারা কি পায় এবং কোন জিনিসটি পেয়ে তার সবচেয়ে ভালো লেগেছে।

মাত্র ২০ ভাগ শিশু বলেছে তারা জন্মদিনে কিছু না কিছু বই উপহার পায়। বাকি ৮০ ভাগ কোন বই উপহার পায় না। 

যারা বই পেয়েছে তাদের মধ্যে ৯০ ভাগ বলেছে গল্পের বই ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় উপহার।

আরও একটা মজার ব্যাপার আমরা খেয়াল করেছি। যেসব শিশুরা গল্পের বই উপহার পেয়েছে তাদের সবাই বলতে পেরেছে কার কাছ থেকে তারা গল্পের বইগুলো উপহার পেয়েছে। অন্যান্য খেলনা, পুতুল বা গাড়ি ইত্যাদি কার কাছ থেকে পেয়েছে সেগুলোর কথা সে খুব একটা মনে করতে পারছে না। তার মানে আপনি যদি কোন শিশুর জন্মদিনে গল্পের বই উপহার দেন তাহলে আপনার কথা সে ভুলবে না।

আপনি যদি অভিভাবক হন তাহলে আপনার শিশুর জন্য জন্মদিনের উপহার হিসাবে আর যাই কিনুন না কেন, সাথে কিছু গল্পের বই অবশ্যই কিনুন। এমনটা হয়তো ভাবতে পারেন যে আপনার শিশু তেমন পছন্দ করতে নাও পারে, তাতেও দমে যাওয়ার কিছু নেই। আপনি যদি এখন থেকেই দেয়া না শুরু করেন তাহলে কখনই হয়তো তার মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ আর তৈরি হবে না। স্মার্টফোন, ট্যাব আর ইন্টারনেটের যুগে এখন এসে আমাদের খুব বেশি অভিযোগ আমরা অভিভাবকদের কাছে পাচ্ছি যে তাদের শিশুরা স্মার্টফোনে আসক্ত। সেখান থেকে বের করে আনার জন্য হলেও শিশুকে নিয়মিতভাবে গল্পের বই উপহার দিন। জন্মদিন হতে পারে খুব চমৎকার একটি উপলক্ষ।

এছাড়া যেসব শিশুরা আঁকাআঁকি বা কাটাকুটি পছন্দ করে অথবা ক্রিয়েটিভ, তাদের জন্য ক্র্যাফট করার বিভিন্ন জিনিস কিনে দিতে পারেন। বইয়ের মতই এটাও শিশুরা অনেক পছন্দ করে।

জন্মদিন হোক আপনার শিশুর বা আপনার পরিচিত কোন শিশুর সৃজনশীলতা চর্চার একটা উপলক্ষ।

………………………………………………………………………………………………………………………………

যেসব অভিভাবক বা আত্মীয়স্বজনের সামনে কোন শিশুর জন্মদিন আসছে তাদের জন্য নিচের এই লিঙ্কটি বেশ কাজে দিবে। এখানে আমরা ৩-১২ বছর বয়সী শিশুদের উপযোগী বইয়ের বিভিন্ন সিরিজের তালিকা করেছি। এখান থেকে পছন্দমতো বইয়ের সিরিজ বাছাই করতে পারেন।

বইয়ের সিরিজগুলো পাবেন আমাদের পার্টনার ToguMogu এর ওয়েবসাইটে। সেখানে অর্ডার করলেই তারা সারা দেশের যেকোনো জায়গায় ফ্রি ডেলিভারি দিয়ে পৌঁছে দিবে। শিশুদের জন্য এটি আমাদের একটি বিশেষ সার্ভিস।

Kids Time selected Story Book Series for your children

একইভাবে ক্র্যাফটের বেশ কয়েকটি প্যাকেজ আমরা সাজিয়েছি শিশুদের জন্য। সেগুলোর বিস্তারিত পাবেন নিচের ছবিতে ক্লিক করলেই।

এই প্যাকেজগুলোও পাবেন ToguMogu থেকে।

………………………………………………………………………………………………………………

আর্টিকেলটি লিখেছেন ওয়ালিউল্লাহ ভুঁইয়া, CEO, Light of Hope Ltd.