Home > Parenting > শিশুর সাথে করোনা ভাইরাস নিয়ে কিভাবে কথা বলবো?

শিশুর সাথে করোনা ভাইরাস নিয়ে কিভাবে কথা বলবো?

ফারহান সেদিন স্কুল থেকে ফিরেই তার দাদিকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিয়েছে। ‘দাদি তুমি মারা যাবে করোনাতে। আমার বন্ধু রাহিনের দাদি অসুস্থ হয়ে গেছে।’

‘আজ থেকে তোমাকে আর স্কুলে যেতে হবে না। তুমি বাসাতেই থাকো।’ – ৫ বছর বয়সী চৈতির মা তার মেয়েকে জানালেন সকালে। চৈতি তো অবাক। কেন? বরং মা তো মাঝে মাঝে না যেতে চাইলেও জোর করে। ‘স্কুলে গেলে অন্যদের থেকে তোমার করোনা হতে পারে।’ – মা উত্তর দিলেন।

এরকম আরও ছোট ছোট ঘটনা প্রতিনিয়ত শিশুরা দেখছে, নিজেরাও এই ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে। অভিভাবক হিসাবে আপনি যেমন আতঙ্কে পড়েছেন তেমনি আপনার শিশুও কিন্তু আপনার অজান্তেই এই ভয়ে পড়েছে। হয়তো আপনি শিশুকে স্কুলে পাঠানো বন্ধ রেখেছেন। আবার যারা এখনও পাঠাচ্ছেন, সেই শিশুরা তাদের অনেক বন্ধুকে স্কুলে গিয়ে পাচ্ছে না। আগে যেসব জায়গায় শিশুকে নিয়ে যেতেন সেখানেও নিয়ে যাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে আপনার ছোট্ট শিশুর মনে অনেক প্রশ্ন, অজানা শঙ্কা ও ভয় জমা হতে পারে। এই সময়ে শিশুকে তার স্বাস্থ্যর পাশাপাশি তার মানসিক অবস্থা নিয়েও আপনার সচেতন থাকতে হবে।

আপনার শিশু যদি স্কুলে যাওয়ার মতো হয়ে থাকে তাহলে সে ইতিমধ্যে কোন না কোনভাবে করোনা সম্পর্কে জেনেছে। আপনি হয়তো জানেনও না ইতিমধ্যে সে হয়তো অনেক ভুল কিছু শুনে আতংকে রয়েছে। অভিভাবক হিসাবে আপনার করনীয় কি? আপনি কি চেষ্টা করবেন তাকে একদম না জানাতে যেন ভয় না পায়? নাকি তাকে কিছুটা বলবেন? আর বললেও কি বলবেন, কিভাবে বলবেন?

UNICEF থেকে ইতিমধ্যে এই বিষয়ে অভিভাবক এবং শিক্ষকদের জন্য একটা বিস্তারিত Instruction পাবলিশ হয়েছে। আমরা তারই আলোকে আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে এই লেখাটি প্রকাশ করছি অভিভাবকদের জন্য।

শিশুরা অনলাইন, টিভি বা আশেপাশের মানুষদের থেকে যা শুনছে সেগুলো তাদের কাছে অনেক সময় বোধগম্য হচ্ছে না এবং এর ফলে তার মধ্যে Anxiety, Stress বা Sadness ইত্যাদি অনুভুতি তৈরি হতে পারে। কিন্তু তাদের সাথে এই ব্যাপারে খোলামেলা কথা বলার মাধ্যমে তাদেরকে বুঝাতে সুবিধা হবে, এই স্ট্রেসের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে এবং এমনকি নিজেদের সতর্ক হতে এবং আচরণগত পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।

১। আলাপের শুরুটা করবেন যেভাবে

শুরুটা করুন প্রথমে তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করতে যে সে ইতিমধ্যে এই ব্যাপারে কতটা জানে সেটা নিয়ে, এবং এরপর সেখান থেকে আলাপ চালিয়ে যান।

যদি তার বয়স কম হয় (৫-৬ বছরের নিচে) এবং সে এখনও করোনা ভাইরাস নিয়ে কিছুই শুনেনি, তাহলে সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হবে এই সম্পর্কে আর কিছু না বলে তাকে বরং Good Hygiene Practice সম্পর্কে আরও একবার ভালো করে মনে করিয়ে দেয়া। এতে করে তার মধ্যে আর ভয়ের সঞ্চার হবে না।

যখন আপনি এই ব্যাপারে কথা বলতে যাবেন তার আগে থেকেই পরিবেশটা যেন সেফ হয় সেই দিকে খেয়াল রাখুন। হতে পারে তার রুমে, বা রাতে ঘুমানোর আগে যখন আর কেউ মাঝপথে এসে বাগড়া বাধাবে না তখন বলা।

গল্পের বই পড়া, আঁকাআঁকি ইত্যাদি করার মাধ্যমে আপনি পরিবেশটা সহজ করে নিতে পারেন।

সে যদি ইতিমধ্যে জেনে থাকে তাহলে খুব গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তার ভয়কে ছোট করে না দেখা। তারা যদি ভয়ে থাকে তাহলে সেটি শুনুন এবং বলুন যে এটি স্বাভাবিক যে সে ভয় পাচ্ছে। আপনার পূর্ণ মনোযোগ দিন। সে যদি তার পছন্দের বন্ধু, স্কুলের মিস বা আমাদের সেন্টারের Coordinator এর সাথে কথা বলতে চায় সেটার ব্যবস্থা করুন। তাকে আশ্বস্ত করুন যে তার কোন সমস্যা হবে না এতে।

২। সত্যিটা বলুন – লুকাবেন না কিছু

আপনার শিশু ইতিমধ্যে জেনে থাকলে তাকে সত্যিটা বলুন। তার বয়স উপযোগী উপায়ে তাকে বুঝিয়ে বলুন এবং কি কি সাবধানতা তাকে অবলম্বন করতে হবে। তাকে বলুন যদি তার জ্বর ভাব, ঠাণ্ডা, সর্দি বা কাশি হয় তাহলে সাথে সাথে আপনাকে জানাতে। তাকে সাহস ও ভরসা দিন।

৩। কিভাবে নিজেকে এবং তার বন্ধুদের সাহায্য করতে পারে সেটি দেখান

করোনা ভাইরাস এবং অন্য অসুখ থেকে রক্ষা করার একটা বড় উপায় হল তাদেরকে নিয়মিতভাবে হাত ধুতে উৎসাহিত করা।

হাত ধোওয়ার পদ্ধতিটি তাকে শিখিয়ে দিন।

Step 1: Wet hands with running water

Step 2: Apply enough soap to cover wet hands

Step 3: Scrub all surfaces of the hands – including back of hands, between fingers and under nails – for at least 20 seconds.

Step 4: Rinse thoroughly with running water

Step 5: Dry hands with a clean cloth or single-use towel

Wash your hands often, especially before eating; after blowing your nose, coughing, or sneezing; and going to the bathroom.

৪। স্কুল কেন বন্ধ করা হয়েছে সেটি ব্যাখা করুন এবং বাড়িতে তাকে বিভিন্ন একটিভিটিতে ব্যস্ত রাখুন

বাংলাদেশে যদিও এখনও সরকারিভাবে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি, কিন্তু অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলে বা বাইরে নিচ্ছেন না। তাকে বলুন যে জীবাণু যেন এক জনের থেকে আরেকজনের মধ্যে না ছড়ায় তাই আপনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

বাসায় তাকে আরও বিভিন্ন কাজে যুক্ত রাখুন। গল্পের বই পড়ুন, একসাথে ক্র্যাফটের কাজ করুন, খেলুন। পড়াশুনা কিছুটা চালিয়ে নিতে চাইলে ঐ ধরণের কিছু বই অনলাইনে অর্ডার করে ফেলুন। তাকে নিয়ে বিভিন্ন সৃজনশীল খেলা ও কাজে ব্যস্ত রাখুন।

লেখার শেষে আমরা এই ধরণের কিছু লিঙ্ক শেয়ার করেছি আপনার জন্য।

৫। ভরসা দিন সন্তানকে

অবশ্যই তাকে সাহস ও ভরসা দিন। আপনার শিশু যদি খারাপ বোধ করে তাহলে তাকে বলুন কেন তাকে সবার চেয়ে আলাদা থাকতে হবে। কারণ তা না হলে তার বন্ধুদের মধ্যেও এই ‘পচা জীবাণুটি’ ছড়াতে পারে – এভাবে বলতে পারেন।

৬। নিজের খেয়াল রাখুন

আপনার সন্তানকে নিরাপদ এবং সুস্থ রাখতে চাইলে আপনার নিজের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে সবার আগে। আপনার থেকে যেন আপনার শিশুর মধ্যে ছড়াতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন। পরিবারের বয়স্কদের প্রতি বেশি নজর রাখুন।

আপনার শিশুর সাথে করোনা ভাইরাস নিয়ে আলোচনা শেষ করুন ভালোভাবে। খেয়াল করুন আপনার কথা সে কিভাবে নিচ্ছে, তার Body Language এর দিকে লক্ষ্য করুন, তার মন থেকে শঙ্কা, ভয় দূর হয়েছে কিনা বুঝার চেষ্টা করুন। আলোচনা শেষ করতে পারেন একসাথে ওর পছন্দের কোন কাজ করার মাধ্যমে।

UNICEF থেকে প্রকাশিত পোস্টার যেখানে শিশুদের কিভাবে নিরাপদ থাকতে হবে সেটি দেখানো হয়েছে।

শিশুকে বিভিন্ন একটিভিটির সাথে যুক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য

শিশুর বয়স উপযোগী বইয়ের সিরিজ নিতে পারেন Togumogu থেকে। সরাসরি হোম ডেলিভারি দিয়ে নিরাপদে আপনার বাসায় পৌঁছে দিবে দেশের যেকোনো প্রান্তে।

৩-৮ বছর বয়সী শিশুদের আনন্দের সাথে বাংলা, ইংরেজি, গনিত, ছবি আঁকার বইয়ের সিরিজ নিতে পারেন goofi থেকে। goofi থেকে ফ্রি activity book ডাউনলোড করতে পারবে অভিভাবকরা।

এছাড়া ক্র্যাফট করার বিভিন্ন প্যাকেজও পাবেন Togumogu থেকে।

আপনার শিশুর সাথে বিভিন্ন ধরণের সৃজনশীল কাজগুলো একসাথে করার জন্য Kids Time তাদের ইউটিউব চ্যানেলে অনেক ভিডিও শেয়ার করেছে। সেগুলো একসাথে দেখুন এবং নিজেরা করুন ভালো সময় কাটানোর জন্য।

পড়া শেষ হলে অন্য অভিভাবকের সাথে শেয়ার করুন। আপনার মতো আরও অনেক অভিভাবক এবং তাদের শিশুরা উপকৃত হবে। আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ছড়ান।

ধন্যবাদ।