Home > Parenting > করোনা ভাইরাসঃ আমার শিশু কতটা নিরাপদ?

করোনা ভাইরাসঃ আমার শিশু কতটা নিরাপদ?

চারদিকে এখন করোনা ভাইরাস নিয়ে কথা হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন সব খবর, এবং নতুন সব বিভ্রাট। অভিভাবক হিসাবে আপনিও দারুণ উদ্বিগ্ন। এই লেখাটিতে আমরা চেষ্টা করেছি আপনাদের করোনা ভাইরাস নিয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে এবং আপনাদের সচেতন করতে।

আমার সন্তান কতটা ঝুঁকিতে?

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী চায়নাতেও (যেখানে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে) একজন শিশুও মারা যায়নি। এখন পর্যন্ত যেসব শিশুর বয়স ১০ বছরের মধ্যে তাদের মধ্যে কেউ মারা যায়নি। এমনকি শিশুদের মধ্যে ইনফেকশন হার কম এবং এক দুই সপ্তাহের মধ্যেই তারা সুস্থ হয়ে উঠেছে। কেন এই বয়সের শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি কম সেটি নিয়ে আলোচনায় আসছি।যেহেতু অভিভাবক হিসাবে আমরা সবচেয়ে খারাপটাই চিন্তা করি, তাই প্রথমেই এটি ক্লিয়ার করে দিলাম।

করোনা ভাইরাসে ইনফেকশন হওয়ার হার কেমন শিশুদের ক্ষেত্রে?

শিশুদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার কেসও সবচেয়ে কম। ধারণা করা হচ্ছে এর কারণ হচ্ছে শিশুদের immune system বড়দের চেয়ে শক্তিশালী, বিশেষ করে তাদের ফুসফুস খুব ভালো থাকায় এই ভাইরাসের প্রকোপ শিশুদের উপর কম দেখা যাচ্ছে।

টিনেজ বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রামনের হার মাত্র ১.২% আর ৯ বছরের নিচের শিশুদের মধ্যে মাত্র ০.৯%।অপরদিকে বয়স্কদের মধ্যে সংক্রামণের হার বেশি। এবং সবচেয়ে রিস্কে আছেন ৬০ বছরের উপরে যাদের ইতিমধ্যে আগে থেকেই ফুসফুস, ডায়াবেটিকস বা হায়পারটেনশন আছে এমন মানুষেরা। তাই পরিবারের বয়স্ক মানুষের দিকে বেশি নজর দেয়া, তাদের নিয়ে সতর্ক থাকা দরকার।

শিশুদের মধ্যে কি ধরণের উপসর্গ দেখা দেয়?

এক্ষেত্রে আমরা সরাসরি ইউনিসেফের রিপোর্ট থেকে নিচের লেখাটি তুলে দিলাম।

Chinese doctors report infected children often have a cough, nasal congestion, runny nose, diarrhoea and a headache. Less than half of the children have a fever. Many have no symptoms.

চায়নার ডাক্তাররা রিপোর্ট করেছেন যেসব শিশুদের ইনফেকশন দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে সাধারণত কাশি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, নাকে সর্দি, ডায়রিয়া এবং মাথাব্যাথার মতো উপসর্গ দেখা গেছে। অর্ধেকের কম শিশুর জোর হয়েছে। অনেকের কোন উপসর্গ দেখাই যায়নি।

The majority of children and adolescents with COVID-19 in China had mild infections and recovered within one to two weeks. Even infants, who are traditionally more susceptible to severe respiratory infections, had relatively mild infections.

যেসব শিশু এবং টিনেজারদের ভাইরাস সংক্রামণ হয়েছে তাদের বেশিরভাগ এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে। এমনকি ছোট্ট শিশুদেরও সংক্রামণের হার অনেক কম।

অনলাইনে অনেক তথ্য দেখি, কোনটা বিশ্বাস করবো?

প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মাধ্যমে অভিভাবকরা নানা তথ্য পেয়ে নানারকম ভয়ে পড়ছেন। সচেতনতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এবং সঠিক জায়গা থেকে তথ্য নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনুরোধ করবো, আপনারা UNICEF বা WHO এর ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি তথ্য নিন। শিশুদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সতর্কতামূলক পোস্ট, আর্টিকেল এবং ভিডিও উনারা করছেন। ফেসবুকে কোন ডাক্তার কি শেয়ার করছে, কোন ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে, কোন নিউজ মিডিয়া কি রিপোর্ট শেয়ার করছে সেগুলো থেকে না দেখে সরাসরি এদের ওয়েবসাইট থেকে দেখুন।

নিচের এই লিংকে নিয়মিতভাবে আপডেট দেয়া হচ্ছে।

UNICEF Link

WHO Link

শিশুকে মাস্ক পড়িয়ে বাইরে নিলে কি নিরাপদ?

আসলে মাস্ক পড়ার মূল কারণ হচ্ছে যেন আপনার হাঁচি কাশি থেকে অন্য কারোর কাছে এই ভাইরাস না ছড়ায়। কিন্তু আপনি মাস্ক পড়লে বা আপনার শিশুকে মাস্ক পড়ালে আপনি নিরাপদ থাকবেন না। তাই যদি আপনার হাঁচি, কাশির সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে আপনি মাস্ক ব্যবহার করুন আপনার পরিবার ও আশেপাশের অন্যদের নিরাপদ রাখার জন্য।

শিশুকে নিরাপদ রাখার জন্য আমি কি করবো?

UNICEF এর লেখা থেকে সরাসরি আমরা তুলে দিলাম নিচের অংশটি।

If your child is having symptoms, seek medical care, and follow the instructions from the health care provider. Otherwise, as with other respiratory infections like the flu, keep your child well rested at home while symptomatic, and avoid going to public places, to prevent spread to others.

আপনার শিশুর মধ্যে যদি উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে মেডিক্যাল কেয়ারের সাথে পরামর্শ করুন। তাকে রেস্টে রাখুন। এবং ঘরে রাখুন যেন তার থেকে অন্য কারোর কাছে ছড়াতে না পারে। আর আগেই জেনেছেন শিশুদের immune system এই ক্ষেত্রে শক্তিশালী হওয়ার কারণে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই টেনশন বেশি করবেন না।

If your child isn’t displaying any symptoms such as a fever or cough – and unless a public health advisory or other relevant warning or official advice has been issued affecting your child’s school – it’s best to keep your child in class.

যদি আপনার শিশুর মধ্যে কোন উপসর্গ না থাকে (জ্বর বা কাশি) তাহলে তাকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করার দরকার নেই। যদি সরকার থেকে ঘোষণা দেয়া হয় স্কুল বন্ধ করার তখন আলাদা কথা।

Instead of keeping children out of school, teach them good hand and respiratory hygiene practices for school and elsewhere, like frequent hand washing, covering cough or sneeze with a flexed elbow or tissue, then throwing away the tissue into a closed bin, not touching their eyes, mouths or noses if they haven’t properly washed their hands.

শিশুদের তাদের হাইজিন সম্পর্কে সেখান, নিয়মিত হাত ধোওয়ার অভ্যাস ভালোমতো গড়ে তুলুন। কাশি বা হাঁচির ক্ষেত্রে টিস্যু বা কনুই দিয়ে মুখ ধেকে ফেলতে বলুন। এরপর টিস্যু ডাস্টবিনে ফেলতে বলুন অথবা তার হাত ভালোমতো ধুয়ে ফেলতে বলুন।

শেষ কথা

করোনা ভাইরাস এবং শিশুর উপর এর খারাপ প্রভাব নিয়ে ভয় বা আতংকিত হবেন না। শিশুদের উপর এর প্রভাব অনেক কম। কিন্তু আপনার পরিবারের মুরুব্বি যারা আছেন তাদের দিকে নজর দিন। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই কোন সমস্যা আছে, তাদের ব্যাপারে সচেতন হন।

আমরা এখন থেকে নিয়মিতভাবে করোনা ভাইরাস এবং এর প্রভাব নিয়ে অভিভাবকদের জন্য লিখবো। এবং বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করবো অভিভাবকদের। আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সরাসরি লিখতে পারেন এই ইমেইলেঃ kidstimebd@gmail.com

এই লেখাটি অন্য অভিভাবকদের সাথে শেয়ার করে সচেতনতা ছড়িয়ে দিন। আতংক নয়, সঠিক তথ্য এবং সচেতনতা আমাদের এই কঠিন সময়ে বেশি সাহায্য করবে।

ঘরে বসে শিশুর সাথে উপভোগ করুন আমাদের বিভিন্ন লাইভ শো।