Home > Parenting > আমরা প্রতিনিয়ত শিশুদের যা শেখাচ্ছি আমাদের কথায় ও আচরণে

আমরা প্রতিনিয়ত শিশুদের যা শেখাচ্ছি আমাদের কথায় ও আচরণে

শিশুর শিক্ষা এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবন

শিশুরা প্রতিনিয়ত আমরা যা করি, যা বলি সেখান থেকেই শিখে। তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ নিচের লেখাটি।

এই লেখাটি একজন মায়ের। তিনি হলেন জান্নাতুল ফিরদাউস। তার ছেলের সাথে দৈনন্দিন জীবনের কিছু ঘটনা থেকে কিছু শিক্ষণীয় ব্যাপার তিনি শেয়ার করেছেন অন্য অভিভাবকদের জন্য। আমরা ফেসবুকের লেখাটি শেয়ার করলাম আমাদের প্ল্যাটফর্মের অভিভাবকদের জন্য।

লিখাটা একটু ন্যারেটিভ টাইপ। চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট এন্ড মেন্টালিটি সম্পর্কে আগ্রহী না হলে স্কীপ করতে পারেন।

১. ছেলেকে বাংলা শব্দার্থ পড়াচ্ছি – খোসা মানে কি? খোসা মানে হচ্ছে- ছাল, আবরণ। আমার ছেলে তার হাতের স্কীন দেখিয়ে বললো, মা, এটা কি আমাদের ছাল? আমি হাসতে হাসতে বললাম, আরে আমাদের তো ছাল থাকে না বাবা, এটা তো চামড়া, স্কীন ! ছাল হচ্ছে, গাছের ছাল। আমার ছেলে অবাক হয়ে বলে, তাহলে যে তুমি সেদিন বললে, ছাল তুলে ফেলবো! আমি পুরোপুরি হচকিয়ে গেলাম। ওর বাবাও অবাক! কিছুক্ষণ পর বাবাকে বলছে, দেখেছো বাবা, মা কি আমাকে গাছ মনে করে, যে ছাল তুলে ফেলবে বলে? আমি সেদিন খুব লজ্জা পেয়েছিলাম সত্যি! হতবাক হয়ে বসে ছিলাম, শুধু ভাবছি, এমন একটা কথা কবে, কিভাবে বললাম !!
বুঝলাম, আমার সাত বছরের ছেলে আমাদের সব কথা, আচার আচরন খুব মনোযোগ দিয়ে শিখছে। যা-ই বলি, যা-ই করি, তা-ই তার মনে প্রভাব ফেলছে। এমন নয় যে, আমি খুব কঠিন মা। আজ ভালো লাগছে না- গল্পের বই পড়বো, ছবি আঁকবো, আজকে পড়বো না, সপ্তাহে তিন- চার দিনই আমার ছেলের এসব চলতে থাকে। আমিও সারাদিন অফিস করে টায়ার্ড থাকি, ও পড়তে না চাইলে আমিও হাফ ছেড়ে বাঁচি, মনে মনে খুশি হই। ধুর, ক্লাস টু তে এত পড়ার দরকার কি, যখন গুরুত্ব বুঝবে, নিজেই পড়বে! তো যা বলছিলাম, যখন এগুলো বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায়, তখন ধমক দেই, হয়তো কখনো রাগ হয়ে বলেছি, ছাল তুলে ফেলবো, আমারই মনে নেই! অথচ, সেটা তার মনে স্থায়ী দাগ কেটে গেছে!

২. কিছুদিন আগে কক্সবাজার থেকে এসে আমার ছেলেটা জ্বরে পড়লো। জ্বর, সাইনাসের সমস্যা, সর্দি সব মিলে নাজেহাল অবস্থা। খাওয়া দাওয়া একেবারেই করে না, রুচি নেই- খেতে না পারলে কি করবে বেচারা! তখন যে ওকে দেখছে, সে-ই বলছে, হায়হায়, এরকম কুচকুচে কালো হয়ে, শুকিয়ে কি অবস্থা ওর! ও নতমুখে চুপ করে থাকে।

অন্য বাচ্চাদের সাথে তুলনা করেও অনেকে বলছে, দেখো, অমুক কতো ফর্সা, ঠিকমতো খায়, কি ভালো স্বাস্থ্য আর তোমার? কোনো সন্দেহ নেই, আমার ছেলের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্যই এগুলো বলা হচ্ছে, যাতে সে এনকারেজড হতে পারে, কিন্তু বাচ্চার মনে এর কি প্রভাব পড়ছে?

সে বাসায় আমাকে বলছে, মা, আমার সাথে কি কেউ খেলবে না? আমাকে কি কেউ আদর করবে না? আমি অবাক হয়ে বললাম, ওমা, কেন? সে বলছে, আমি যে চিকন আর কালো হয়ে গেছি! গায়ে লোশন লাগানোর সময় বলছে, এগুলো মাখলে কি কালো কমবে, মা ? আমি ওকে, খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে বললাম যে, গায়ের রংটা কোনো ব্যাপার নয়, ভালো বাচ্চা হওয়াটাই আসল। ভালো মানুষ হতে হবে, আরো কি কি সব বললাম! সব কথা শুনে সে ভেবে বললো, তাহলে কালো যে কেউ পছন্দ করছে না, আমারও তাই কালো পছন্দ না। দেখুন, আমরা অজান্তেই সাদা- কালোর বীজ, ছোট বাচ্চার মাঝে বপন করে দিচ্ছি, সামান্য এই গায়ের রং নিয়ে এই বয়সেই সে কতটা হীনমন্যতায় ভুগছে !

৩. আমার পরিচিত এক বাচ্চা আছে, যার বয়স সাড়ে চার। সে ইদানিং খাবার ছাড়া পৃথিবীর সব কিছুই খায়। সারাক্ষণ সোফা ,বেডকভার, পর্দা, খেলনা এগুলো মুখে দিয়ে চিবাচ্ছে। কোনো ভাবেই তার এই অভ্যাস দূর করা যাচ্ছে না। আমি তাকে বললাম, তুমি তো ভালো মেয়ে, কেনো এমন করছো? সে আমাকে উত্তর দিলো, না, মা তো বলেছে আমি পচা মেয়ে, তাই আমি পচা জিনিস খাই। কে বললো, তুমি পচা, কতো লক্ষী তুমি, বলে আমি একটু আদর করার চেষ্টা করলাম। তবে সে মানতে নারাজ। তার মা বলেছে, সে খারাপ-পচা, তাই পচা খাবার সে খাবেই!

৪. এক পরিচিত আপা আছেন। তার ছেলে তার বন্ধুরা বাসায় এলে ফ্রীজ,আলমারি সব খুলে যত চকোলেট, বিস্কিট, আইসক্রিম যা কিছু আছে, সব বন্ধুদের সামনে দিয়ে বসে থাকে। বাচ্চারা অর্ধেক খায়, অর্ধেক নষ্ট করে। আপা তাকে একদিন ডেকে বললেন, বাবা, বাসায় কেউ আসলে তুমি এভাবে সব বের করে দিও না। মা দিবে।

ছেলে জিজ্ঞেস করে, কেন, সব বের করে দিলে কি হয়? তাকে বোঝানোর জন্য আপা বললেন, সব বের করে দিলে কত খাবার নষ্ট হয়, তোমার জন্য কিছু থাকবে না, পরে তুমি কি খাবে বলো?

সেদিন আপার বেশ কিছু ফ্রেন্ড এসেছেন বাসায়। আপা তাদেরকে খুব করে আপ্যায়ন করছেন। হঠাৎ তার ছেলে বেরসিকের মতো বলে উঠলো, মা, তুমি যে তোমার ফ্রেন্ডদের সব খাবার বের করে দিলে? তুমি না বলেছো, ফ্রেন্ডদের সব খাবার একসাথে দিতে হয় না? সব তো শেষ হয়ে যাবে, আমি পরে কি খাবো? সবার সামনে আপা তো লজ্জায় শেষ!

৫. এক বাসায় ছেলেকে একদিন পাঠিয়েছি, কি কাজে যেন। অনেকটা সময় পরেও দেখি, ছেলে আসছে না। কি ব্যাপার? গিয়ে দেখি, ছেলেটা দরজার বাইরে দাড়িয়ে আছে। দরজা খোলা।

তুমি বাইরে দাড়িয়ে আছো কেন, জিজ্ঞেস করাতে ছেলে বলে, আমাকে তো ভিতরে যেতে বলেনি, দরজা খুলে দিয়ে চলে গেছে। আমি ছেলে নিয়ে চলে আসলাম। দরজা খুলে দিয়ে ওয়েলকাম জানানো খুব সাধারন ভদ্রতা। আমার বাসায় অন্য কোনো বাসার সাহায্যকারীও যদি আসে, আমার ছেলে ভিতরে এসে বসতে বলবে, আমাকে এসে তাড়া লাগাবে, তাড়াতাড়ি আসো, দেখো কে এসেছে, কিছু নাস্তা দাও!

তাই এতোক্ষণ ছেলেকে বাইরে দাড়া করিয়ে রেখেছে, ভিতরে যেতে বলেনি, এতে সে ভীষণ মাইন্ড করেছে।

৬. কিছুদিন আগে খেলতে গিয়ে এক বাচ্চার গায়ে লেগেছে ব্যাট। সবগুলো বাচ্চাই সমবয়সী, ছয়-সাত বছর। সেই বাচ্চা কান্নাকাটি না করলেও তার মা মাঠে এসে সবার সামনে যে ব্যাটের ছোয়া লাগিয়েছিলো, তাকে সে কি বকাঝকা। বাচ্চাটা যতই বলছে সে তো ইচ্ছে করে লাগায়নি, ততই সে আরো চিৎকার করছে। ভয়ে লজ্জায় বাচ্চাটা কান্না শুরু করেছে , যার গায়ে লেগেছে, সে বাচ্চাটাও মায়ের আচরনে লজ্জা পাচ্ছে। কারন তার গায়ে সামান্য লাল দাগও ফুটেনি, অথচ মায়ের কোনো বিকার নেই!

অথচ, একই দিনে আরেকটা বাচ্চা বল ছুড়েছে, সেই বল গিয়ে লাগলো একজনের কপালে, কপাল ফেটে চৌচির, সেলাইও দিতে হলো। যার বাচ্চার কপাল কেটেছে, তিনি বলছেন, বাচ্চারা খেলতে গেলে একটু লাগবে, ব্যাথা পাবে, কি আর করা? খেলতে খেলতেই শিখবে।

দুজনের অ্যাটিচিউডে কি আকাশ পাতাল ফারাক! একসাথে খেলতে গেলে কত রকম ব্যাথাই বাচ্চারা পায়, বাসায় এসে হয়তো বিচারও দেয়, তারপর দিন আবার তারা একসাথেই খেলে। এটা একটা টিম ওয়ার্ক, তাদের এসব ছোটখাটো ব্যাপার তাদেরকেই মিটাতে দিন, মিলেমিশে খেলতে উৎসাহ দিন। এতে করে পারস্পরিক সহমর্মিতা তৈরী হবে। তবে হ্যাঁ, অস্বাভাবিক বা অন্যায় কিছু দেখলে প্যারেন্টসকে জানাতে ভুলবেন না যেন।

৭. কিছুদিন আগে এক ভাবী এসেছেন তার দশ বছরের ছেলেকে দেখাতে, তার নিজেরও নানান ব্যাথাজনিত সমস্যা। কথাপ্রসঙ্গে বলতে শুরু করলেন, বাচ্চা বড় হচ্ছে, তাই বাসায় আর বাধা কাজের মেয়ে রাখতে হয় না। তারপর তিনি শুরু করলেন, ছেলে বড় হলে বাধা মেয়ে রাখলে কি কি সমস্যা। মেয়েগুলো ঠিকমতো গায়ে ওড়না রাখে না.. পুরুষদের বিশ্বাস নেই.. ছেলে বড় হচ্ছে.. দুনিয়ার আজেবাজে কথা শুরু করলেন।

আমি ভীষণ অস্বস্তি নিয়ে খেয়াল করলাম, ছেলেটা তার মায়ের কথাগুলো হা করে গিলছে.. সে যা জানতো না, তার মা নিজের অজান্তেই তাকে সেসব শেখাচ্ছে, জানিয়ে দিচ্ছে …

৮। শুরু করেছিলাম নিজের বাচ্চাকে দিয়ে, শেষও করি ওকে দিয়েই। সেদিন আমাকে জিজ্ঞেস করছে, “মা, আপু কি আসলে কাজের মেয়ে?” আমার বাসার মেয়েটা বেশ অনেকদিন ধরে আছে, ওর প্রতি আমরা সবাই ভীষণ সফট, সেও তার মতো আরাম করেই থাকে, ছেলে তাকে ‘আপু’ হিসাবেই জানে।

আমি ভ্রূ কুঁচকে জিজ্ঞেস করাতে জানতে পারলাম, তার এক ফ্রেন্ড বলেছে, কাজের মেয়েদের তো নাম ধরে, তুই করে বলতে হয়! আমার ছেলে কাজের মেয়েকে ‘আপু’ বলে, ছিঃ…তারপর তারা এটা নিয়ে হাসাহাসিরও করেছে। একটা মানুষকে মানুষ হিসাবে সম্মান দিতে শিখবো কবে আমরা ?

কিছুদিন পর হঠাৎ আবার জিজ্ঞেস করছে, “মা, দাস মানে কি”? ‘দাস’ শব্দটাও আবার কোথা থেকে শিখলো, গল্পের বই থেকে নাকি? বললাম, কি হয়েছে? সে বলে, ওদের ক্লাসে একটা ছেলে আছে। ওকে কিছু বললে সে উত্তর দেয়, “আমি কি তোমার দাস?” আমি অবাক হয়ে বললাম, মানে ?

ছেলে বললো, হ্যাঁ, ওদের বাসায় ওর মা তো ওর বাবাকে এই কথাই বলে। ও শুনেছে!

আচ্ছা, আপনারাই বলেন, “দাস” মানে এখন কি শেখাবো ওকে ?

শেষ কথা

আজ আমার মেইন কনসার্ন ছিলো, শিশুদের উপর পরোক্ষ আচরন বা পারিপার্শ্বিক ঘটনার প্রভাব যা তারা এনভায়রনমেন্ট থেকে আপনার অলক্ষেই গ্রহণ করছে প্রতিনিয়ত সেটি সম্পর্কে জানানো। এই ব্যাপারটা অনেকটা রেডিয়েশনের মতো, আপনি দেখতেও পারছেন না, কিন্তু ক্ষতি যা হবার হচ্ছে।

পজিটিভ প্যারেন্টিং, চাইল্ড অ্যাবিউজ, ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স – এই টপিকগুলোর সাথে কমবেশি সবাই আমরা পরিচিত। আজকে আমি শুধু যে বিষয়েটা ফোকাস করতে চেয়েছি, তা হলো শিক্ষিত সচেতন প্যারেন্টসদের অজান্তেও, শিশুরা তাদের কাছ থেকে নানান ধরনের নলেজ গ্যাদার করছে, শিখছে তাদের ভালো মন্দ সব আচরণ। শিশুদের মনটা খুবই নরম থাকে। আপনার একটা ইনোসেন্ট আচরণও তাদের হয়তো সারাজীবন মনে থাকতে পারে। বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি শিখে মা – বাবা,পরিবার আর তার পরিবেশ থেকে। পরিবেশ বলতে আসলে বন্ধুবান্ধব এবং আন্টি সমাজকে বোঝাচ্ছি।

বন্ধুরা বাচ্চাদের কাছে ভীষণ ভাইটাল, তেমনি তাদের মা-বাবাদের কথাগুলোও বাচ্চারা খুব গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে। অনেক আন্টি আছেন, যারা বাচ্চাদের ডিস্টার্ব করেন। পরীক্ষায় এত কম পেলে কেন, ক্লাসে কান ধরে দাড়িয়ে ছিলে কেন, অমুককে কি বলছো, কালো হইসো কেন, শুকিয়ে গেছো কেন – ইত্যাদি নানান রকম ‘কেন কেন প্রশ্নে’ বাচ্চাদের জর্জরিত করে থাকেন। তাদের এতটুকু সেন্স হয় না, বাচ্চাটা সবার সামনে এগুলো বলাতে ভারবালি এ্যাবিউজড হচ্ছে, সে তো চায় না তার এসব ছোট ছোট লজ্জার বিষয়গুলো কেউ জানুক, তাকে নিয়ে কেউ হাসুক! আপনার কাছে বিষয়টি শুধুই কৌতুহল, বা উপদেশ – অথচ সে কিন্তু ভীষণ সিরিয়াসলি এগুলো নিয়ে ভাবছে, মন খারাপ করছে!

আবার অনেকে আছেন, বাচ্চা হয়তো সালাম দিলো, বা কিছু একটা বলছে, সেদিকে পাত্তা না দিয়ে সমানে আপনি আপনার মতো কথা বলে যাচ্ছেন, আসলে আপনি কিন্তু বাচ্চাকে ইগনোর কিভাবে করতে হয় তা শেখাচ্ছেন। আমরা মনে করি, ও তো বাচ্চা, কি আর বোঝে? হ্যাঁ, অবশ্যই, সে তো বাচ্চাই। তবে খেয়াল রাখবেন সে একটা বাচ্চা হলেও পূর্ণাঙ্গ একজন মানুষ। তার বিচারবুদ্ধি আপনার মতো ম্যাচুয়র না হতে পারে, কিন্তু তারও আছে নিজস্ব চিন্তাভাবনা, আছে অপমানবোধ। আপনাকে দেখে সে যা শিখবে, ভবিষ্যতে সে পৃথিবীকে তাই ফেরত দেবে। ফ্যামিলির বা প্রতিবেশীর সাথে আপনার ব্যবহার ভবিষ্যতে তাকে মানুষের সাথে ইন্টারএ্যাকশন করতে শেখাবে। একটা কথা আছে “Children do not learn what you say, they learn what you do.”

সুতরাং, বাচ্চাদের সামনে অবশ্যই আইডল হতে হবে। নিজে মোবাইল টিপবেন, টিভি দেখবেন, আর বাচ্চাকে নিষেধ করবেন – তা হবে না। বাচ্চা পড়ার সময় আপনিও পড়ুন, হোক সেটা খবরের কাগজ বা গল্পের বই, সে যেন বোঝে – পড়াশোনা করতে হবে। বাচ্চাদের সামনে কখনোই মিথ্যা বলা যাবে না, পরিবারের অন্যদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা যাবে না, ডুয়েল ক্যারেক্টার বর্জন করতে হবে। এতে করে সে একই সাথে বড়দের প্রতি সম্মান হারাবে, মিথ্যা বলতেও উৎসাহিত হবে।

আমাদের প্রত্যেকের কাছেই নিজের বাবুটা সবচেয়ে প্রিয়। কিন্তু অন্যের বাচ্চার বেলায়ও বুঝতে হবে সেও তার বাবা মায়ের চোখের মনি। নিজের বেলায় বাচ্চা অবুঝ-ছোট, আর সমবয়সী অন্যের বাচ্চা বেশি পাকা, বেয়াদব! অন্যের বাচ্চাকে বকাবকি করার বা অযথা ডিস্টার্ব করার অধিকার কিন্তু কেউ আপনাকে দেয়নি। সমস্যা হলে প্যারেন্টসকে জানান, সবার সামনে নিজের হোক বা পরের বাচ্চা, বকাঝকা করা কখনোই কাম্য নয়। এতে করে, বাচ্চাদের মন ছোট হয়ে যায়, অপমান আর হীনমন্যতায় ভোগে আর বড়দের প্রতি বৈরী ধারনা তৈরী হয়। এরাই পরবর্তীতে কৈশোরে বা এডোলোসেন্ট পিরিয়ডে গিয়ে নানারকম আচরণগত সমস্যায় পরে। আমরাই তখন বলি, এত আদর যত্নে বড় করলাম, অথচ বাচ্চাটা এমন হলো কেন ?

এই ভবিষ্যতের “কেন” র উত্তর, আজ থেকেই খুঁজুন !

জান্নাতুল ফিরদাউস
মার্চ,২০২০।