Home > Creativity > শিশুদের কিভাবে বিজ্ঞানমনস্ক করবেন?

শিশুদের কিভাবে বিজ্ঞানমনস্ক করবেন?

আজকের শিশু, আগামী দিনের ভবিষ্যত। তারাই একসময় এগিয়ে নিয়ে যাবে দেশকে। নিজের দেশকে তুলে ধরবে বাহিরের দেশগুলোর সামনে। প্রথম লাইনটি ছোটবেলা থেকে আমরা বিভিন্ন টেলিভিশনের চ্যানেলে শুনে আসছি। কথাটা যে কতটা গুরুত্ব বহন করে তা হয়তো আমরা কল্পনা করতে পারি, কিন্তু কতটা বুঝি? শিশুকে ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তুলতে তার পরিপূর্ণভাবে বেড়ে উঠাটা জরুরী। আর সেজন্য শিশুর বেড়ে উঠার সময় তার মন যেন হয় কৌতূহলী এবং শেখে যেন মজার মজার খেলার মাধ্যমে আর অবাক করা তথ্যের মাধ্যমে। কারণ কৌতূহলী মনই পারে একটি শিশুর জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে। আর সেখান থেকেই তার বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। আর যেহেতু ভবিষ্যৎ পৃথিবী বিজ্ঞান নির্ভর তাই বিজ্ঞানের জ্ঞানের কোন বিকল্প নেই।

সাধারনভাবেই শিশুরা অনেক কৌতূহলী হয়ে থাকে। এই কৌতূহলই তাদের নিয়ে যায় নানা রকম অজানা, অবাক করা ও বিস্বয়কর তথ্যের দিকে। বিশ্বকে নতুন করে উদ্ঘাটন করা শিখতে পারে তাদের এই কৌতূহলী আচরণ থেকেই। শিশুদের এই কৌতূহল মনোভাবকে প্রাধান্য দিতে হবে। যতোটা পারা যায় তাদের সকল প্রশ্নের জবাব দিয়ে তাদের বাহবা দিতে হবে। শিশুরা সারাদিন অনেক অনেক প্রশ্ন করে। গবেষণা বলে যে একটি ৪ বছরের শিশু দিনে গড়ে ৪৩৭টি প্রশ্ন করে এবং এখানে বেশিরভাগ প্রশ্ন থাকে, “কেন?” কারণে অকারণে প্রশ্ন করা শিশুদের কৌতূহলী আচরন। এতে রাগ প্রকাশ না করে, তাদের প্রশ্নগুলোর জবাব দিতে হবে। এর ফলে তাদের মনে জানার আরো আগ্রহ জন্ম নিবে। সেখান থেকেই তাদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ জন্ম নিবে। কারন আমাদের চারপাশে যা কিছু ঘটে তার প্রায় সবকিছুর মাঝেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিজ্ঞান। যখন সে দেখবে তার প্রশ্নের উত্তরগুলোর সবকিছুর মাঝেই বিজ্ঞান মিশে রয়েছে তখন স্বাভাবিক ভাবেই তার বিজ্ঞানের প্রতিও আগ্রহ তৈরি হবে।

 

“আগ্রহ” অনেক ছোট একটি শব্দ কিন্তু অনেক বড় অর্থ বহন করে। আগ্রহ না থাকলে কোনো কিছুই সম্ভব নয়। যার আগ্রহ যত বেশি, সে তত বেশি শিখতে পারে। তাই শিশুদের মধ্যে জানার জন্য আগ্রহ তৈরী করতে হবে। আগ্রহ থেকেই কৌতূহলের জন্ম হয়। আর কৌতূহল জানার ইচ্ছাকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই একটি শিশুকে বিজ্ঞানমনস্ত বা বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করতে হলে তার মাঝে আগ্রহ তৈরি করতে হবে। শিশুদের আগ্রহ তৈরী করা যায় এরকম অনেক উপায় রয়েছে। এবার দেখে নেয়া যাক আগ্রহ তৈরি করা যায় এমন কিছু উপায়ঃ

আপনার শিশুকে Kids Time Winter batch এ ভর্তি করতে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

১। শিশুদেরকে প্রতি মাসে একবার হলেও কোথাও ঘুরতে নিয়ে যেতে হবে। ঘুরতে গেলে শিশুরা প্রকৃতির নানা রূপ দেখতে পাবে। পরিবেশের সব রকম সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে। এই সৌন্দর্য তাদের মধ্যে জানার আগ্রহ সৃষ্টি করবে। তাদের মনে বিভিন্ন প্রশ্ন আসবে। যেমনঃ ফুলের পাপড়ি বিভিন্ন রঙে রঙিন হয় কিন্তু পাতাগুলো কেন সবসময়ই সবুজ? অথবা দিনের বেলা আকাশ নীল কিন্তু রাতে কেন কালো হয়!!! এমন হাজারো প্রশ্ন তার মনে আসবে। আর পৃথিবীতে ঘটমান এসবকিছুই একটি বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে হয়ে থাকে। তাই যত বেশি ভ্রমণ করবে, একটি শিশুমন তত বেশি জানার জন্য উদগ্রীব হবে। একটি বিখ্যাত উক্তি আছে,

“Travelling is like knowledge. The more you see, the more you know, you haven’t seen.”

২। শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ছোটদের জন্য লেখা অনেক বই রয়েছে। সেই সব বই পড়ে তারা অনেক কিছু শিখতে পারবে। যেমন: সায়রা সায়েন্টিস্ট, বিজ্ঞানী অনিক লুম্বা, তাহারা ইত্যাদি বিভিন্ন সায়েন্টিফিক গল্পের বই। এছাড়াও বিজ্ঞান এর সব মজার তথ্য দিয়ে লেখা বই পাওয়া যায়। এই বইগুলো শিশুদের মানসিকতা উন্নত করে । নতুন জিনিস শিখতে আগ্রহ তৈরি করে। তাই তাদের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। কারনঃ

” Read more books. Ask more questions. Listen more closely. “

শিশুদের লেখা গল্প

৩। বর্তমানের সময়টি হলো প্রযুক্তি নির্ভর সময়। ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেক কিছু জানা যায়। একটি শিশুর শৈশব খেলাধুলার মাধ্যমেই কাটুক সেটাই আমরা চাই। আবার গেম এর নেশা খারাপ বাচ্চার জন্য কিন্তু এই গেমের কথাই বলা হচ্ছে। আচ্ছা এই খেলাধুলাকেই যদি আমরা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করি? যদি খেলাধুলার মাধ্যমেই তাকে কিছু শেখানো যায় অথবা জানার প্রতি আগ্রহী করা যায়? কম্পিউটার এর “Pinball” গেইমটা বিজ্ঞানের অনেক কিছু উপস্থাপন করে। যদি আপনি গেইমটি খেলে থাকেন তাহলে জানবেন যে একটি বলকে কোন দিক থেকে আঘাত করলে তা কোন দিকে ঘুরবে, কতটুকু দূরে যাবে তাহলে আপনি চেষ্টা করবেন সেদিকেই বলটিকে আঘাত করতে, নাহলে বলটি নিচে পড়ে যাবে ওবং আপনি হেরে যাবেন গেমে। এই যে বলটিকে কিভাবে আঘাত করবেন তা কোন দিকে যাবে তা কিন্তু পুরোটাই বিজ্ঞান। আবার মোবাইলে বা কম্পিউটারে স্নেক গেম নিশ্চই খেলেছেন? যখন সাপ ছোট থাকে তখন সব ঠিকঠাক কিন্তু যখন বড় হয়ে যাবে তখন? সেটাকে কিভাবে কন্ট্রোল করলে আরো বড় হবে, মারা যাবে না তার ভিতরও কিন্তু রয়েছে বিজ্ঞান। এরকম প্রচুর গেইম রয়েছে, যেগুলো শিশুরা খেলবে মজার ছলে, কিন্তু শিখবে অনেক কিছু।

Light of Hope থেকে আমরা মজার বিজ্ঞান সিরিজ বের করেছি। এখানে বিজ্ঞানের অনেক মজার মজার পরীক্ষাগুলো দেখানো হয়েছে। শিশুদের দেখাতে চাইলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে চলে যান।

৪। টিভি কার্টুনের মাধম্যে বাচ্চাদের চ্যানেল গুলো বিজ্ঞানের অনেক কিছুই উপস্থাপন করে যা তাদের শিক্ষা দিয়ে থাকে। যেমন: Cartoon Network, Disney, Nicklodean এরকম আরো অনেক চ্যানেল রয়েছে। তাদের তৈরী করা কার্টুনগুলো শিশুমনকে মজার ছলে অনেক কিছু শিখায়। বাংলাদেশে দুরন্ত টিভি শিশুদের নিয়ে নানান প্রোগ্রাম করে থাকে।

ছোট থেকেই শিশুদের সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে তারা বিজ্ঞান এর প্রতি আগ্রহী হয়। শুধু পরীক্ষার জন্য বইয়ের পাতা উল্টালেই জানা হয় না। জানতে হয় মন থেকে, আগ্রহ থেকে। একটি শিশুর ভবিষ্যত তার পরিবারের হাতেই থাকে। তার পরিবারই পারে একটি শিশুর মানসিকতা উন্নত করতে। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের থেকে একটি শিশুর ব্রেইন অনেক বেশি ভালো থাকে। যদি আমরা আমাদের সন্তানদের সঠিক পথে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে সঠিক সময়ের অপেক্ষা করা যাবে না। ছোট থেকেই তাকে বিজ্ঞানকে ভালোবাসতে শেখাতে হবে। কারন ভবিষ্যতের পৃথিবী তাদের হাতেই।

Kids Time ৪-১০ বছর বয়সী শিশুদের creativity, problem solving skill বাড়ানোর জন্য খুবই মজার কিছু course করাচ্ছে।

আমাদের সবগুলো Kids Time সেন্টারে Craft Course সবসময় চলছে।সরাসরি কল করুন এই নাম্বারে – ০১৭৭১৫৮৮৪৯৪।

আপনার শিশুকে Kids Time Winter batch এ ভর্তি করতে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

Kids Time Admission