Home > Creativity > শিশুর জন্য পড়াশুনাকে মজাদার করবেন কিভাবে?

শিশুর জন্য পড়াশুনাকে মজাদার করবেন কিভাবে?

আমাদের কাছে অভিভাবকদের থেকে এবং শিক্ষকদের থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে যে আমরা কিভাবে শিশুদের পড়াশুনাকে আরও আনন্দময় করতে পারি। শিশুরা একটুও মজা পাচ্ছে না। কি করা যায়?

আজকের লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে বলেছি কিভাবে আপনি সেটি করতে পারেন। অভিভাবক বা শিক্ষক – দুই পক্ষের জন্যই কাজে আসবে লেখাটি।

কোনও কিছু মজার হয় কখন? 

কখনও কি ভেবে দেখেছেন কেন কোন কিছু মজাদার হয়? কোন কোন মজার ঘটনা যেটা আপনার শৈশবে ঘটেছে কিন্তু সেটির হুবুহু বর্ণনা আপনি এখনও ২০-৩০ বছর পরেও দিতে পারেন। কেন সেটি হয়? আবার কতশত জিনিস আমরা অনেক চেষ্টা করেও মনে করতে পারি না।

আজকের এই লেখাটি আমরা লিখছি কিভাবে আমরা learning বা পড়াশুনাকে শিশুর জন্য মজাদার করতে পারি সেটি নিয়ে। যেন শিশু যা শিখছে সেটি সারাজীবন তার মনে গেঁথে যায়। লেখাটি অভিভাবক এবং শিক্ষকদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কিছু উদাহরণ অভিভাবকদের জন্য এবং কিছু কিছু উদাহরণ শিক্ষকদের জন্য কাজে দিবে। তার আগে চলুন আগে জেনে নেই কেন কোন কিছু মজাদার হয় এবং কেনই বা সেগুলো আমাদের মনে চিরদিনের জন্য গেঁথে যায়।

আপনি আপনার জীবনের যত সব আনন্দময় ঘটনা মনে করতে যান সেগুলোর মধ্যে দেখবেন নিচের এই ৪টি বৈশিষ্ট্যর মধ্যে এক বা একাধিকটি রয়েছে। ছোটবেলায় আম চুরি করে খাওয়া, স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখা, সবাই মিলে ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি যাই হোক না কেন সেগুলোর মধ্যে নিচের এই বৈশিষ্ট্যগুলো রয়েছেঃ

১. ইন্টারেস্টিং

২. স্বেচ্ছায় করা

৩. একসাথে ছোট বা বড় দলে করা

৪. অন্যর সাথে শেয়ার করার মত

যখন কোন কাজ আপনি স্বেচ্ছায় করেছেন যেটাতে আপনার নিজের ইন্টারেস্ট আছে, যে কাজটি group এ কয়েকজন মিলে করেছেন এবং করার পরে সেই ঘটনা বা কাজটি অন্যর সাথে সুযোগ পেলেই শেয়ার করেছেন সেটিই আপনার কাছে সবচেয়ে মজা লেগেছে। এবং এই ঘটনা আপনার মনে এমনই দাগ কেটেছে যে আজ ২০-২৫ বছর পরেও ঠিকঠাকমত অন্য যে কাউকে বলে দিতে পারেন।

এই সহজ ফর্মুলাটি যদি আমরা শিশুদের পড়াশুনায় লাগাতে পারি তাহলেই কিন্তু শিশুরা আজকে যা শিখছে সেগুলো ঠিকভাবে মনে রাখতে পারবে এবং যখন কাজে লাগবে তখন সেই শেখাটি তার জীবনে কাজে লাগাতে পারবে।

পড়াশুনা মজার করার এই সহজ ৪ টি ফর্মুলাটি মাথায় রাখবেন সবসময়। 

নিচে আমরা কিছু পদ্ধতি শিখিয়ে দিচ্ছি অভিভাবক এবং শিক্ষকদের জন্য। এগুলো সময় সুযোগমত কাজে লাগাবেন আপনাদের সন্তান এবং ছাত্রছাত্রীদের সাথে। দেখবেন শিশুরা কত আগ্রহ নিয়ে শিখছে এবং মনেও রাখতে পাড়ছে। পরীক্ষায় ভালো করুক আপনার সন্তান এটাও তো চান তাই না?

 

১। পড়াশুনার বিষয়কে শিশুর ব্যক্তিগত আগ্রহের সাথে মিলিয়ে ফেলুন

অনেক শিশু আছে খেলনা গাড়ির জন্য পাগল। অনেকে আবার সুপারহিরো। লেগো কিংবা পাজল গেম অনেকে ভালোবাসে। কেউবা ভালোবাসে কাটাকুটি বা ক্র্যাফটের কাজ আবার কেউবা ভালোবাসে ছবি আঁকা। এখন যদি আপনার শিশুকে বাংলা বর্ণমালা শেখাতে চান এবং সে যদি ছবি আঁকা ভালোবাসে তাহলে তাকে ছবির মাধ্যমে বর্ণমালা শেখান। ক দিয়ে কিভাবে আঁকা যায় কাক, খ দিয়ে খরগোশ… যোগবিয়োগ শেখাতে চান শিশুকে আর সে ভালোবাসে গাড়ি। তাহলে দুইটা গাড়ি আর ৩ টা গাড়ি মিলে হল কয়টা গাড়ি? স্পাইডারম্যান যদি ১০ সেকেন্ডে ২০ তলা বিল্ডিং পর্যন্ত উঠে যেতে পারে, তাহলে একটা ১০০ তলা বিল্ডিং উঠতে স্পাইডারম্যানের কতক্ষণ সময় লাগবে?

এভাবে যদি অভিভাবকরা এবং শিক্ষকরা তাদের বাসার এবং স্কুলের পড়াশুনাকে শিশুদের ব্যক্তিগত আগ্রহের সাথে মিল রেখে করান তাহলে দেখবেন কত কঠিন কঠিন জিনিস সে নিজ আগ্রহে শিখে ফেলছে।

 

২। শিশুর প্রতিদিনের রুটিনের সাথে মিল রেখে পড়াশুনার টাইমটি সাজান

শিশুর বয়স ৩-৪ বছর হলেই তার কিন্তু একটি প্রতিদিনের রুটিন তৈরি হয়। খাওয়া, ঘুমানো, খেলার সময়, কার্টুন দেখা এবং পড়াশুনা। এই ব্যাপারে একটি নিয়ম করুন যে তার নিজের রুটিন তাকেই সাজাতে বলুন। সে কখন খেলবে, কখন কার্টুন দেখবে এবং কখন পড়বে সেটি সে নিজেই ঠিক করুক। এরপর দেখবেন সে নিজে যখন পড়াশুনার জন্য সময় রেখেছে সেই সময়ে সে নিজেই খাতা-কলম বের করে নিজে থেকে পড়তে বসে গেছে।

যেহেতু রুটিনটি সে নিজেই বানিয়েছে, শিশুরা চেষ্টা করে সেই রুটিনকে মেনে চলতে। অল্প বয়সেই (৫ বছরের মধ্যেই) তার রুটিন যেন সে বানিয়ে ফেলে সেদিকে খেয়াল রাখুন, আপনি তাকে সাহায্য করুন রুটিনটি বানাতে। এই বয়সেই সে যদি এরকম রুটিন করে ফেলে, তাহলে আর বড় হলে আপনার এটি নিয়ে আর কষ্ট করতে হবে না। খেয়াল রাখবেন যেন বেশি সময় যেন আবার তাকে পড়াশুনার জন্য রাখার জন্য চাপ যেন না দেন। দৈনিক ২ ঘণ্টা সময় যথেষ্ট পড়াশুনার জন্য। এর বেশি হলে সেটি তার উপর চাপ তৈরি করবে। এই বয়সে শিশুরা পড়ার টেবিলের চেয়ে খেলার মাধ্যমে বেশি শেখে। খেলতে খেলতে নানা জিনিস যেন শিখতে পারে সেজন্য শিক্ষামূলক কিছু খেলনা কিনে দিতে পারেন।

 

৩। হাতে-কলমে শেখার সুযোগ করে দিন

এই পদ্ধতিটি শিশুর শেখার জন্য সবচেয়ে ভালো টেকনিক। হাতে-কলমে শেখা ইন্টারেস্টিং, শিশু নিজে নিজে করে, কাজটি group এ করা যায় এবং অপরকে শেখানোর সুযোগ আছে এতে। তাই যে কোন জিনিস হাতে-কলমে শেখার চেয়ে আর ভালো কোন পদ্ধতি নেই।

বিজ্ঞান শেখানোর জন্য যেমন অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্সগুলো কিনতে পারেন। এখানে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুরা বিজ্ঞানের নানা মজার পরীক্ষাগুলো হাতে-কলমে শিখতে পারে। এছাড়া ইউটিউবে বিজ্ঞান শেখানোর জন্য অনেক মজার মজার চ্যানেল রয়েছে।

আমাদের নিজেদের যেমন বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়গুলো সহজভাবে শেখানোর জন্য একটি সিরিজ আছে – মজার বিজ্ঞান। নিচে লিঙ্কটি দেয়া হলঃ

 

হাতে-কলমে কাজ শেখার আরেকটি খুব ভালো পদ্ধতি হচ্ছে ক্র্যাফট করা। আমাদের ক্র্যাফট কোর্সে যেমন শিশুরা হাতে-কলমে নিজে নিজেই অনেক জিনিস বানায়। সেগুলো বানাতে যেয়ে তারা সেগুলোর গঠন থেকে শুরু করে অনেক কিছুই শেখে।

মজার সব ক্র্যাফট ভিডিও দেখতে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব করে ফেলুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে – লিঙ্ক।

৪। শিশুকে তার Imagination বা কল্পনাকে ব্যবহার করতে দিন

প্রতিটি শিশুর একটি নিজস্ব কল্পনার জগত আছে। আপনি নিজে যখন শিশু ছিলেন, আপনারও ছিল। এখন হয়তো ভুলে গেছেন। শিশুর এই কল্পনার জগতকে আমরা বড়রা খুব অল্পই জানি। অভিভাবক হিসাবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সেটি সম্পর্কে জানা। আমরা যত জানবো ততই তার সেই কল্পনার জগতকে কাজে লাগাতে পারবো পড়াশুনার কাজে।

আপনার শিশু হয়তো তার কল্পনার জগতে একজন মহাকাশচারী। তাকে বলুন যে একজন মহাকাশচারী হতে কি করতে হবে। নাসা বা স্পেসএক্সে কাজ করতে হলে তার গণিত এবং বিজ্ঞানে ভালো করতে হবে। কিভাবে একটি মহাকাশযান বানাতে হয় সেটি নিয়ে কথা বলুন। সময় পাচ্ছেন না? অফিসে যাওয়ার সময় সকালে বিকালে যখন ট্র্যাফিক জ্যামে বসে থাকেন তখন একটু ইউটিউব আর গুগলে দেখুন। শিশুর কল্পনার জগতকে কিভাবে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন সেটার জন্য আপনারও ভালো পড়াশুনা করতে হবে কিছুটা। তাহলে তার সাথে আলোচনায় যোগ দিতে পারবেন। তার খেলার সাথী হতে পারবেন।

অনেক সময় শিশুরা মা-বাবার সাথে খেলতে চায় না কারণ তাদের কল্পনার জগত নিয়ে যেসব প্রশ্ন থাকে সেগুলোর উত্তর মা-বাবারা দিতে পারেন না। স্কুলে শিক্ষককে তো আর সে জিজ্ঞেস করতে পারে না। তাহলে আপনি ছাড়া আর কার কাছে সে জানতে পারবে বলুন।

 

৫। পড়াশুনার কনসেপ্টগুলোকে জীবনের সাথে সামঞ্জস্য করে বুঝান

শিশুরা যখন একটু বড় ক্লাসে উঠে তখন আস্তে আস্তে তাদের সামনে নানা ধরণের কঠিন সব বিষয় স্কুলের পড়ায় নিয়ে আসা হয়। অনেক শিশুই সেগুলো আশেপাশের চেনা জগতের সাথে মিলাতে পারে না। ফলে এইগুলো বুঝতেও পারে না, খালি মুখস্ত করার প্রবণতা তৈরি হয়। কারণ রেজাল্ট ভালো করার জন্য অভিভাবক এবং স্কুল দুই জায়গা থেকেই চাপ থাকে।

যদি বাসায় কোন শিক্ষক এসে পড়ায় তাহলে তাকে একটু গাইড করে দিন যেন এমনভাবে পড়ায় একটি ১০-১২ বছর বয়সের শিশু যেন বুঝতে পারে। আমরা ধরে নিচ্ছি এর আগে খুব বেশি অভিভাবকরা সন্তানদের কোচিং সেন্টার বা প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে পড়ায় না। ১০ বছর বয়সের আগে যেসব বিষয় পড়ানো হয় সেগুলো তেমন কঠিন না, চাইলে অভিভাবকরা নিজেরাই সেগুলো বুঝাতে পারেন।

 

৬। ফিল্ড ট্রিপ, নিজে করি (Do It Yourself – DIY) খেলনা এবং শিক্ষামূলক খেলা

বাইরের দেশে স্কুল থেকেই এগুলো সব আয়োজন করা হয়। স্কুলের ক্লাসরুমেই থাকে নানাধরণের শিক্ষামূলক খেলনা, ক্লাসে শেখানো হয় নানারকম খেলনা বানানো। স্কুল থেকে নিয়ম করে আশেপাশের মিউজিয়াম, প্ল্যানেটরিয়াম, চিড়িয়াখানা ইত্যাদি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় ফিল্ড ট্রিপে। আপনার শিশু যে স্কুলে যায় সেখানে যদি এরকম কোন সুযোগ না থাকে তাহলে নিজেই করুন। সামার ক্যাম্প বা শীতকালীন ক্যাম্প অনেক কিছু শেখায় শিশুকে। আমাদের দেশে সেগুলোর তো কোন বালাই নেই তেমন।

বিজ্ঞান এবং মজার খেলনা – এই দুটো বিষয় নিয়ে শিশুকে শেখাতে চাইলে নিচের ওয়েবসাইটটি ঘুরে দেখুন। এটি অরভিন্দ গুপ্ত নামে একজন বিখ্যাত শিক্ষাবিদ এবং শিশুতোষ খেলনা-তৈরিকারির ওয়েবসাইট। তিনি গত প্রায় ৩০ বছর ধরে শিশুদের মানসিক বিকাশে খেলনার ভূমিকা নিয়ে কাজ করছেন। তার ওয়েবসাইটে আপনি শত শত ভিডিও পাবেন যেগুলো আপনার শিশুর আগামী ৩-৪ বছরের জন্য যথেষ্ট।

http://www.arvindguptatoys.com/films.html

ভিডিওগুলো বাংলাতেও আছে। দেরি না করে আজকে থেকেই একটা দুটো করে খেলনা বানানো শুরু করে দিন আপনার শিশুর সাথে।

 

শিশুদের জন্য বাংলাদেশের প্রথম ক্র্যাফট প্যাকেজ নিয়ে এসেছে Kids Time. ক্লিক করে দেখে নিন বিস্তারিত। 

 

 

শেষ কথা

শিশুর learning বা পড়াশুনাকে আনন্দময় করার এই পুরো ব্যাপারটি আসলে কমন সেন্সের মত। আপনি নিজেই আপনার শৈশবকালের কথা ভাবুন। চেয়ার-টেবিলে বসে বসে মাথা গুঁজে পড়তে কি আপনার ভালো লাগতো? আর ছোটবেলায় যা স্কুলে পড়েছেন তার কতটুকুই আসলে আপনার জীবনে কাজে লাগছে। আপনাকে যদি এখন আবার ফিজিক্স বইটা নিয়ে বসিয়ে দেয়া হয় তাহলে কেমন লাগবে? আপনার শিশুরও এরকম লাগে। আমাদের জেনারেশনের মা-বাবারা ভাবতেন যে পরীক্ষায় প্রথম-দ্বিতীয় হলেই কেবল জীবনে উন্নতি করা যাবে। কিন্তু আপনি তো এখন বুঝতে পারছেন সেটি আসলে সত্যি নয় পুরোপুরি। আপনার শিশু যখন বড় হবে তখন পরীক্ষায় সে কতটা ভালো করেছিল ছাত্রজীবনে সেটার মূল্য আরও কমে যাবে। যেটির মূল্য থাকবে তা হল সে আসলে কোন জিনিসটি ভালো বুঝে, কোন ধরণের সমস্যা সমাধান করতে পারে, কোন স্কিলটি তার কাজে লাগবে চাকরিতে।

এখন প্রথমেই তো আমরা জেনেছি যে জিনিসটি মজাদার, যে জিনিসটি আমি স্বেচ্ছায় এবং সবাই মিলে আনন্দ নিয়ে করেছি সেটাই শুধু আমার মনে আছে এতদিন পরেও। তাই আপনি যদি আপনার বাসায় অথবা যদি শিক্ষক হয়ে থাকেন তাহলে আপনার স্কুলে শিশুর learning বা পড়াশুনাকে মজাদার এবং আনন্দদায়ক না করতে পারেন তাহলে আসলে সেটার কোন মূল্য নেই। সেটি হবে অনেকটা আপনার রসায়ন দ্বিতীয় পত্রের বড় বড় সেই সুত্রগুলোর মত – খটমট করে গিলেছিলেন, আর পটপট করে পরীক্ষার খাতায় উগড়ে দিয়েছেন। ৩ মাস পর ভর্তি পরীক্ষার পর সব ভুলে গিয়েছেন এবং জীবনে আজ সেটির কোন মূল্য নেই।

 

Kids Time ৪-১০ বছর বয়সী শিশুদের creativity, problem solving skill বাড়ানোর জন্য খুবই মজার কিছু course করাচ্ছে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের ছবিটিতে

কিডস টাইমের ভর্তি বিষয়ক সকল তথ্য জানুন এই ছবিতে ক্লিক করে।

সরাসরি কল করুন এই নাম্বারে – ০১৭৭১৫৮৮৪৯৪।