Dysgraphia কি? জেনে নিন আপনার শিশুর সমস্যাটি আছে কিনা

Dysgraphia কি? জেনে নিন আপনার শিশুর সমস্যাটি আছে কিনা

July 18, 2018 Development Parenting 0

 

২০০৭ সালের বিখ্যাত বলিউড সিনেমা Taare Zameen Par এর কথা মনে আছে? ঈশান নামের একটা ৮ বছরের ছেলেকে নিয়ে ছিল গল্পটা। ছেলেটি অক্ষর ঠিকমতো বুঝতে পারত না, b কে লিখত d, কিংবা 6 কে 9. আমির খান ঈশানের স্কুলে আর্ট শিক্ষক হয়ে আসার পর ব্যাপারটি ধরতে পারে যে ঈশানের Dyslexia রয়েছে। এরপরের গল্প সবার জানা। আর যারা এখনও দেখেননি তাদের অবশ্যই দেখে ফেলা উচিত। আর বিশেষ করে আপনার যদি একটা ছোট্ট শিশু থেকে থাকে তাহলে তো বাধ্যতামূলক !!

শিশুরা যখন লিখতে শিখে তখন থেকেই দেখা যায় তাদের পেন্সিলের নিব ধরার ধরণ, হাতের লেখার ধরণ ইত্যাদি  আলাদা হয়। পাশাপাশি সোজা লাইনে লেখা বা একই উচ্চতা বজায় রেখে লেখা বাচ্চাদের জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। খেয়াল করলে দেখা যাবে অনেক শিশু একটা ভুল করছে নিয়মিতভাবে। সেটা হলো কিছু অক্ষর বিপরীত দিক থেকে লেখা। অর্থাৎ, b কে d লেখা, p কে q লেখা এবং সংখ্যার ক্ষেত্রে 6 কে  9 লেখা।

শিশুরা লেখা শেখার সময়কালে যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় তাকে Dysgraphia বলা হয়। এই যে অনেক শিশু বিপরীতমুখী অক্ষর লেখার সমস্যায় ভোগে এটাও Dysgraphia এর একটা অংশ। যেসব শিশুর Dysgraphia আছে তাদের হাতের লেখা সাধারণত খুব খারাপ হয়, ছোট অক্ষর – বড় অক্ষরের মিশ্রণ দেখা যায় লেখায়, গ্রামার বা বাক্যতে অনেক ভুল থাকে, লেখা হয় অনেক আস্তে আস্তে এবং সেটির জন্যও তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়।

Dysgraphia এক ধরণের writing difficulty যাতে অনেক শিশুরাই ভোগে। শতকরা ১০ ভাগ শিশুর বিভিন্ন ধরণের learning disability থাকে। আমরা অনেক সময় খেয়াল করি না, মনোযোগ দেই না, অথবা মনে করি শিশু অমনোযোগী। আমি যখন নিজে শিক্ষকতার সাথে যুক্ত ছিলাম তখন আমি নিজেও এই সমস্যাটার মুখোমুখি হয়েছি। আসলে বাচ্চারা যদি ভুল না করতো, তাহলে আমাদের বড়দের কিন্তু কোনও কাজই থাকতো না। ওরা ভুল করে দেখে আমরা তাদেরকে ভুল সংশোধনের মাধ্যমে সঠিকটা শিখানোর সুযোগ পাই।

Dysgraphia তে যেসব শিশু ভোগে তাদের মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো সাধারণত দেখা যায়ঃ

১। কলম বা পেন্সিল ঠিকমতো ধরতে সমস্যা হয়। মোটর স্কিলের অভাবের কারণে এটি হতে পারে। কলম বা পেন্সিল অনেক সময় এত জোরে গ্রিপ করে যে তাতে লেখার খাতায় অনেক জোরে দাগ দেয়।

২। বানান অনেক বেশি ভুল হয়, বড় হাতের অক্ষর কোথায় হবে আর কোথায় ছোট হাতের অক্ষর হবে সেটি বুঝতে পারে না। এটি আবার Dyslexia এরও একটি লক্ষণ।

৩। যে হোমওয়ার্কে লেখতে হয় সেগুলো সাধারণত করার মধ্যে একটা অনীহা থাকে।

৪। স্কুলের প্রতি একটা নেগেটিভ মনোভাব থাকে। যেহেতু লেখতে শিশুর সমস্যা হয় তাই সে অন্য বন্ধুদের সামনে বা শিক্ষকের সামনে লজ্জা না পাওয়ার জন্য স্কুলে যেতে চায় না।

শিশুর মধ্যে যদি উপরের সবগুলো লক্ষণ থাকে তাহলে Dysgraphia থাকার সম্ভাবনা আছে। এতে আবার ঘাবড়ানোর কিছু নেই। এটি কোন মানসিক সমস্যা নয়। শিশুদের বুদ্ধি বা অন্য কোন ধরণের বিকাশের উপর এটির প্রভাব পড়ে না। পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত সব মানুষদের এই সমস্যা ছিল। আইনস্টাইন, Steve Jobs, ভিঞ্চি, টেসলা থেকে শুরু করে বিখ্যাত অভিনেতা Tom Cruise অনেকের লেখার সমস্যা ছিল।

Dyslexia ছিল এমন বিখ্যাত মানুষদের এই তালিকা দেখলে অবাক না হয়ে পারা যায় না। তালিকাটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

 

শিশুদের মধ্যে এই Reverse writing টা বা Dysgraphia কিভাবে পরিবর্তন করা যায় নিচে কয়েকটা বাস্তব উদাহরণ দিলাম। আমার ক্লাসে এই উপায়গুলো কাজে দিয়েছে। সেগুলো শেয়ার করলাম, এতে করে অভিভাবকদের আশা করি উপকার হবে। একই সাথে যারা শিক্ষক আছেন তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারা আপনাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপরের লক্ষণগুলো দেখতে পেলে নিজেরা উদ্যোগ নিন এবং অভিভাবকদের বলুন।

1. Sand Writing:

একটা ট্রেতে কিছু পরিমান বালু/চিনি/ময়দা সমান ভাবে ছিটিয়ে দিয়ে বাচ্চার সামনে দিন তাকে লিখার জন্যে। প্রথমে তাকে দেখে লিখতে বলুন এরপর ওকে বলুন লেখাতা কেমন ছিল সেটা মনে করতে এবং না দেখে লিখতে বলুন।

 

2. Face Drawing:

শিশুর সাথে বসে ছবি আঁকার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা যায়। এইতা খুব উপকারি একটা মাধ্যম। আমার ক্লাসের কয়েকজন শিশুর এই সমস্যাটা ছিল। তো আমি করলাম কি, এই Face Drawing এর বুদ্ধিটা আমার ক্লাসরুমে ব্যাবহার করলাম। এক সপ্তাহ আমরা সবাই মিলে letter গুলো দিয়ে ছবি আঁকলাম। শিশুরাও খুব মজা পেল। আর আমার অর্জন, আমার ক্লাসের শিশুগুলো লেটারগুলো এখন আর বিপরীত দিক থেকে লেখে না।

 

3. Word এবং Picture এর মাধ্যমেঃ

প্রথমে একটা ব্যাট আঁকতে বলুন। পরে ব্যাটের সাথে একটা বল যুক্ত করে দিতে বলুন। তখন বাচ্চারা নিজেই উৎসাহী হয়ে বলে উঠবে আমি তো ছোট হাতের b লিখে ফেলেছি।

আবার, একটা দরজার knob এঁকে যদি একটা শিশুকে বলি যে knob এর ডানপাশে straight line এঁকে দিতে এরপর ওকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় কোন লেটার এর মত দেখা যায়, ও তখন বলতে পারবে আরে!!!! আমি তো একটা d লিখে ফেলেছি।

4. Two Thumbs Up:

উপরের ছবির মত, ২ টা হাত join করে বাচ্চাদেরকে b এবং d এর মধ্যেকার পার্থক্যটা বুঝানো যায়। বাচ্চারা খুব মজা পায় এই পদ্ধতিটা।

 

5. Walky Talky:

বাচ্চারা যেহেতু অনেক কথা বলতে ও শুনতে পছন্দ করে, তাই সেখানে তাদের দেখানো যেতে পারে নিচের প্যাটার্নটা।

 

6. Find out the letters:

একটা page এ অনেকগুলো letter একসাথে লিখে ওদেরকে b এবং d খুঁজে বের করতে হবে। বাচ্চাদের সাথে অভিভাবকরাও যদি কাজ টাতে যুক্ত হন তাহলে বাচ্চারা কাজ টা আরও উৎসাহের সাথে করবে।

 

7. Little b is in a big B:

শিশুদের বেশিরভাগ সময় ছোট হাতের b এবং d এর মধ্যে ঝামেলায় পরতে দেখা যায়। যদি এমনটা করা যায় যে, প্রথমে বড় হাতের B লিখল এরপর উপরের অংশটা মুছে দিলে হয়ে যাবে ছোট হাতের b. আবার একইভাবে যে অংশটা বাদ দেয়া হয়েছিলো সেই অংশটা আবার পুরণ করে দিলে হয়ে যাবে বড় হাতের B.

8. Air Writing:

শিশুরা যখন b বা d বলছে তখন তারা তাদের হাতটা যদি কলম হিসেবে চিন্তা করবে। তাই letter বলার সাথে সাথে হাত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বাতাসে প্র্যাকটিস করবে।

9. Match the picture with letter:

অনেকগুলো ছবি দেয়া থাকবে কিন্তু letter থাকবে শুধু b এবং d। তখন শিশুরা b এবং d এর সাথে ম্যাচ হয় এমন ছবিগুলো খুঁজে বের করবে। কিছু dotted letter দেয়া থাকতে পারে ঐগুলোর উপর শিশুরা লিখবে।

10. Use the shape of mouth and tongue:

যখন আমরা b বলি তখন আমাদের ঠোঁট দুটো একসাথে মিলে যায়। আবার যখন d বলি তখন আমাদের ঠোঁট দুটো বন্ধ হয়ে যায়, জিভ একটুখানি বাকা করে তালুর সাথে লাগিয়ে উচ্চারণ করি। এভাবে শিশুদের শেখানো যেতে পারে b আর d এর পার্থক্য।

 

আমরা আমাদের উপরের লেখায় কেবল b আর d অক্ষর নিয়ে সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায় সেটি বলেছি উদারহণ হিসাবে। একই রকম পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে আমরা সহজেই Dysgraphia সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারি আমাদের শিশুদের ক্ষেত্রে। প্রয়োজন কেবল আপনার সময় আর মনোযোগ। আর শিশুকে দোষারোপ না করে তাকে সাহায্য করার মনোভাব।

Taare Zameen Par সিনেমায় দেখানো হয়েছিল কিভাবে ঈশানের বাবা-মা ইশানের দুর্বলতাকে ধরতে না পেরে তাকে বরং আরও বোর্ডিং স্কুলে পাঠিয়ে তার প্রায় সর্বনাশের উপায় ঘটে যেতে বসেছিল। ভাগ্যিস ঈশান তার শিক্ষক হিসাবে আমির খানকে পেয়েছিল। আপনার শিশুর জীবনে ‘আমির খান’ নাও আসতে পারে।

 

অভিভাবকদের মধ্যে যারা এই ব্যাপারে আরও জানতে আগ্রহী তারা নিচের লিঙ্কগুলোতে যেতে পারেনঃ

১। Dysgraphia এবং Dyslexia এর পার্থক্য এবং লক্ষণ

২। Dysgraphia আছে এমন শিশুদের সাহায্য করার ১০ টি টিপস 

এর বাইরেও আপনি ইন্টারনেটে ঘাঁটাঘাঁটি করলে আরও অনেক অনেক আর্টিকেল পাবেন। সেগুলো পড়ুন, নিজে জানুন। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের মতামত নিন।

……………………………………………………………………………………………………

Kids Time একটি আফটারস্কুল প্রোগ্রাম যেখানে বাচ্চাদের এই সুপ্ত প্রতিভাগুলোকে বের করে আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে নিরলসভাবে। বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ স্কিল যেমন – Creativity, Problem Solving Skill & Emotional Intelligence বাড়াতে কাজ করছে কিডস টাইম। World Bank এবং World Economic Forum এর জরিপে এগুলো হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ Future Skills যেগুলো শিশুর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে।

………………………………………………………………………………………………………

আমাদের Kids Time সেন্টারগুলোতে আগামী ব্যাচের ভর্তি শুরু হয়েছে। ক্লাস শুরু হবে জানুয়ারি ২০১৯ থেকে। কিন্তু তার আগেই অভিভাবকদের সীট বুক করার জন্য রেজিস্ট্রেশন করে ফেলতে হবে। এরপর আমরা অভিভাবকদের ইন্টারভিউয়ের জন্য কল করবো।

আমাদের প্রতিটি সেন্টারে সীট খুব সীমিত। তাই আগে যারা আবেদন করেন তারাই আগে সুযোগ পাবেন ভর্তির ব্যাপারে।

আবেদন করার লিঙ্ক 

বিস্তারিত জানতে নিচের ছবিতে ক্লিক করুন।

প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন শিশু সুযোগ পায় আমাদের এখানে ভর্তির জন্য।

লেখকঃ কানিজ ফাতেমা রুমা, কিডস টাইমের গুলশান শাখার Coordinator 

 

 

 

Get parenting article to your inbox

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

Kids Time will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.