সন্তানকে সহানুভূতিশীল করে গড়ে তোলার ৪টি উপায়

সন্তানকে সহানুভূতিশীল করে গড়ে তোলার ৪টি উপায়

February 7, 2019 Behavior and Discipline Development Emotional Intelligence Future Skill Moral Values Parenting 0

আমরা অভিভাবকরা সবসময় চাই আমাদের সন্তান যেন ভালো মানুষ হয়ে বেড়ে উঠে। এই ভালো মানুষ হয়ে বেড়ে উঠা একদিনে কখনই সম্ভব না। আমরা অনেকেই বলি বড় হয়ে ঠিক হয়ে যাবে। আসলেই কি ঠিক হয়ে যাবে?

“চারা গাছকে যেভাবে পরিচর্যা করবে,সেভাবেই সে তোমাকে ভবিষ্যতে ফল দিবে” এমন কথা নিশ্চয়ই কখনই কেউ বলতোনা। যদি  এসব আচরণ এমনিতেই ঠিক হয়ে যেত। 

শিশুদের ছোট ছোট আচরণও তাই লক্ষ্য করা উচিৎ এবং পরিমিত পরিচর্যার মাধ্যমে তাকে আপনি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন ছোটবেলা থেকেই।

কোন বাচ্চা জন্মগতভাবে ভালো বা খারাপ হয় না। তারা ভালো মানুষ হবে নাকি খারাপ সঙ্গ পেয়ে খারাপ হয়ে উঠবে এটা দেখার দায়িত্বও আমাদের। আমাদের বড়দের সবসময় উচিত তাদের পাশে থেকে তাদের সবদিক থেকে পথনির্দেশনা দেওয়া যাতে করে তাদের মধ্যে অন্যের প্রতি সহানুভূতি ও সম্মানবোধ বজায় থাকে, যত্নশীল হয় এবং নিজেদের কাজের প্রতি নিজেরাই দায়িত্বশীল হয় প্রথম থেকেই।

১. অন্যের প্রতি সম্মানবোধঃ

যখন কেউ কথা বলছে, যদি সে ছোটও হয় তাহলেও তাদের কথা গুরুত্ব সহকারে শোনা উচিৎ। আমরা যদি বাচ্চাদের কথার গুরুত্ব দেই তখন সেও অন্য আরেকজনকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে শিখবে। অন্য একজন মানুষ কোন বিষয় নিয়ে মতামত দিলে সেটাকে গুরুত্ব দিতে পারার মধ্যেও সম্মান দেখানো যায়। এই অভ্যাসগুলো যদি বাচ্চাদের প্রতিনিয়ত অনুশীলন করানো যায় একটা সময় তাদের নিজেদের মধ্যে সম্মানবোধ ব্যাপারটা যথাযথভাবে বিকশিত হবার সুযোগ পাবে।

“বড়দের সম্মান করবো আর ছোটদের ভালোবাসবো” কথাটি ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন বইয়ে আমরা পড়ে আসছি।

এই কথাগুলো ছোটরা শিখবে তখনই যখন আপনি নিজেই এই কাজগুলো প্র্যাকটিস করবেন। অন্যের সাথে আপনার মতের অমিল হতেই পারে তাই বলে তাকে অসম্মান করে কখনই কিছু বলবেন না। বিশেষ করে ছোট শিশুর সামনে তো অবশ্যই না। মাথায় রাখবেন আপনার সন্তানও আপনাকে সম্মান/অসম্মান  করা শিখবে এভাবে। অথবা বাসায় কাজ করা ছেলে বা মেয়েটির সাথে অযথা খারাপ ব্যবহার  না করে তাদের সাথে যদি সুন্দর করে কথা বলা হয় সেটিও কিন্তু শিশুদের মনে সম্মানের জায়গা তৈরি করে।এবং তার আচরণেরও পরিবর্তন আনে। 

২. একে অপরকে সাহায্য করাঃ  

Teach Empathy to kids

স্কুলে কোন বন্ধু খেলতে গিয়ে পড়ে গেলে অন্য বন্ধুরা হেসে ফেলে, মজা করে। কিন্তু যে পড়ে গিয়েছে সে যে ব্যথা পেয়েছে সেদিকে কেউ হয়তোবা খেয়াল করছে না। কিন্তু সেই মুহূর্তে হাসাটা ঠিক না, না হেসে ওই বন্ধুটাকে আমাদের সাহায্য করা উচিৎ এই কথাটা বাচ্চাদের শেখানোর দায়িত্বটা আমাদের বড়দের। হতে পারে সেটা শিক্ষকের ভুমিকায় বা মা-বাবার ভুমিকায়।

“দশের লাঠি একের বোঝা” কথাটি তখনই শিশু বুঝতে পারবে যখন আপনি কাজগুলো করে দেখাবেন। 

অথবা কোন বৃদ্ধ মানুষ রাস্তা হতে পারছে না। তাকে আমরা বড়রা যদি রাস্তা পার করে দিতে সাহায্য করি সেটাও ছোটরা যখন সম্ভব হবে তারাও সাহায্য করার চেষ্টা করবে।

৩. সহমর্মিতা দেখানোঃ

সমাজবদ্ধ জীবনে সহমর্মিতার উপস্থিতি থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সহমর্মিতা ছাড়া আমাদের সমাজবদ্ধ জীবনে টিকে থাকাটা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে। বিভিন্ন সমস্যা ও বিপদগ্রস্ত মানুষ অন্যদের সহমর্মিতায় সান্ত্বনা খুঁজে পায়।

মহাত্মা গান্ধী বলেছেন- নিজেকে খুঁজে পাওয়ার উত্তম উপায় হল অন্যের উপকারে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া।

যেমন ধরুন-  বাচ্চার জন্মদিনে আমরা সবাই হৈ-হুল্লোড়  করে থাকি। কিন্তু আমাদের পাশের বাসায় যদি কোন বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষ থাকে তাহলে আমাদের সেই মানুষটার প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে হৈ – হুল্লোড় বা  গান-বাজনার শব্দটা কমিয়ে রাখা উচিৎ। যদি সম্ভব হয় গান বাজনা বা হৈ- হুল্লোড় না করাটাই  ভালো।

৪. সন্তানের মতামতকে প্রাধান্য দেয়াঃ

একটা বাচ্চা হয়তো বলল বড় হয়ে ও চানাচুরওয়ালা হবে। কারন ওর খুব পছন্দের একটা খাবার হচ্ছে  চানাচুর। ও যদি এটা বিক্রি করে তাহলে সাথে ও খেতেও পারবে। কিন্তু এই কথা কোন বাবা-মা ই সহজভাবে মেনে নিতে পারে না। এটাই স্বাভাবিক।

একটু ছেড়েই দিন না ওর উপর। একবার ভাবুন তো আপনি যখন ছোট ছিলেন কত কিছুই হতে চেয়েছিলেন না? কিন্তু এখন আপনি কোথায় আছেন।

আপনি যদি ওর এখনকার চিন্তাটাকে গুরুত্ব দেন, দেখবেন দিন শেষে ও আপনার কথা বা মতামতকে গুরুত্ব দিবে।

কিডস টাইম জানুয়ারি ২০২০ সেশনে প্রি-এডমিশন এর জন্য উপরের ছবিতে ক্লিক করুন

আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আমরা বড়রা অবশ্যই চাই বাচ্চারা যেন ভালো মানবিক গুনাবলির অধিকারী হয়। আর মানবিক গুনাবলির প্রথম ধাপ হচ্ছে সহানুভূতিশীলটা। এই ধাপ পার করলে ধীরে ধীরে তারা অন্যান্য মানবিক গুনাবলির পথে এগিয়ে যাবে। আর এভাবেই আমরা আমাদের শিশুদের মাঝে সঠিক মানবিক গুণাবলী বিকাশের বীজ বপন করে দিতে পারি। দিন শেষে ঐ বীজটা যখন সবল গাছে পরিণত হবে ঐটাই হবে আমাদের সার্থকতা।

……………………………………………………..

লেখাটি লিখেছেন তাহমিনা রহমান, প্রোগ্রাম হেড, Kids Time 

শিশুর মধ্যে মানবিক গুনাবলি বাড়ানোর একটা বড় উপায় হচ্ছে ছোট বেলা থেকেই তাকে এই ধরণের বই পড়ে শুনানো। এরকম একটা সিরিজ হচ্ছে ‘শিশুদের নীতিকথা সিরিজ’। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের ছবিতে।

 

Get parenting article to your inbox

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

Kids Time will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.