৭ টি টিপস বাচ্চাকে সরাসরি “না” বলার পরিবর্তে অন্যভাবে নিষেধ করার

৭ টি টিপস বাচ্চাকে সরাসরি “না” বলার পরিবর্তে অন্যভাবে নিষেধ করার

January 28, 2019 Behavior and Discipline Parenting 0

৩-৮ বছরের শিশুরা সাধারনত ‘না’ শুনতে পছন্দ করেন না। প্রায় সময়ই দেখা যায় তাদেরকে যে কাজটি করতে বারণ করা হয় তারা সেই কাজটিই বেশি করে করতে চায়। এসব ক্ষেত্রে চেষ্টা করুন নেতিবাচক শব্দের পরিবর্তে ইতিবাচক শব্দ (Positive words) ব্যবহার করতে।

আমরা কিছু উপায় আপনাদের সাথে শেয়ার করছি যেগুলো নিয়মিত করার মাধ্যমে আপনি আপনার শিশুকে বিরত রাখতে পারেন আপনার অপছন্দের কাজ করা থেকে আর পাশাপাশি আপনার সাথে তার সুন্দর একটি সম্পর্কও গড়ে উঠবে ।

১. সরাসরি “না” বলা থেকে বিরত থাকুনঃ

শিশুকে সরাররি “না” বলা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।আপনি যা চাচ্ছেন না সেটি না বোধক কোনও কথার পরিবর্তে ঘুরিয়ে অন্যভাবে বলতে পারেন। উদাহরন স্বরূপ, আপনি আপনার বাচ্চাকে ড্রয়িং রুমে খেলতে মানা করতে চান, তাহলে “না তুমি এখানে খেলো না” এর পরিবর্তে “তুমি বাইরে গিয়ে খেলো” ব্যবহার করতে পারেন। অথবা সে ক্র্যাফটের কাজ করার সময় আঠা পেপারে লাগাতে গিয়ে মেঝেতে ফেলে দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে তাকে কাজ বন্ধ করতে না বলে বরং সমাধান দিন নিচে একটি পুরানো কাগজ বিছিয়ে দিয়ে।

২. তাদেরকে সব সময় অপশন দিনঃ

সে যদি অহেতুক বায়না করে তাহলে তাকে বুঝিয়ে বলুন যে কেন তার চাওয়া অহেতুক। অথবা বলুন, আপনি তাকে তার পছন্দের জিনিসটি দিবেন কিন্তু এখন উপযুক্ত সময় নয়। বাচ্চারা কখনই কোন নিয়ম বা নিয়ন্ত্রনের মধ্যে থাকতে চায় না। তাই যখনই আপনি তাদেরকে কোন কিছুতে বাধা দিতে যাবেন তারা ধরেই নিবে যে আপনি তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন। এমতাবস্থায় তাদেরকেই নির্ধারণ করতে দিন যদি সে এখনি চায় তাহলে কম পাবে আর যদি কিছুক্ষন অপেক্ষা করে তাহলে বেশি পাবে, তাহলে সে কোনটা করতে চায়।

যেমনঃআপনি আপনার শিশুকে জিগ্যেস করতে পারেন আজ দুপুরে তুমি কি খাবে – মাছ নাকি ডিম? আজ দুপুরে কি খাবে বললে হয়তো আপনার শিশু বলতো- বার্গার খাবো।তাকে আপনি অপশন দিচ্ছেন কিন্তু পুরোপুরি তার উপর মতামত দেয়াটা ছেড়েও দিচ্ছেন না।এতে তার নিজের মনে হবে সে নিজেই নিজের খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।কিন্তু এটাও বুঝতে পারবে অনেক ব্যাপারে আমি মতামত দিতে পারলেও সব ব্যাপারে পারবোনা। তাই অপশন দেয়াটাও একটু সুন্দর করে চিন্তা করে দিন। 

৩.মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দিনঃ 

অনেক সময় বাচ্চারা এমন কিছু চেয়ে বসে যা তাদেরকে দেয়া সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে সরাসরি “না” না বলে তাদের মনোযোগ অন্য দিকে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। বাচ্চারা খুব তাড়াতাড়ি যেকোনো ব্যাপার ভুলে যেতে পারে। এ বিষয়টিকে আপনি কাজে লাগাতে পারেন।এই কাজটি অনেক ছোটবেলা থেকেই আয়ত্তে আনতে হবে।যেমন আপনার ২-৩ বছর বয়সের বাচ্চা হয়তো আপনার প্রয়োজনীয় একটি কাগজ নিয়ে নিতে চাচ্ছে তখন আপনি সেই কাগজটি না দিয়ে অন্য একটি কাগজ দিয়ে তাকে কাগজের প্লেইন বানিয়ে দিতে পারেন।এতে তার মনোযোগ অন্য দিকে সরে যাবে। 

৪.বাচ্চাকে দেয়া যাবেনা এমন জিনিস তার হাতের নাগালের বাইরে রাখুনঃ

বাবা মা হিসেবে আপনি জানেন কোন কোন কাজ করার জন্যে আপনার বাচ্চাকে আপনার বারবার মানা করতে হয়। বারবার মানা করতে যেমন আপনার ভালো লাগে না তেমনি বাচ্চাদের শুনতে ভাল লাগে না। তাই সবচেয়ে শ্রেয় কাজ হচ্ছে সেই জিনিসগুলি বাচ্চাদের হাতের লাগালের বাইরেই রাখুন।দূরে সরিয়ে রাখুন এবং সাবধানতা অবলম্বন করুন এসব ক্ষেত্রে। 

৫.ছোটখাট যেসব ব্যাপারে শিশুর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই সেসব কিছু শিশুকে করতে দেয়াটাই ভালোঃ 

বাচ্চাদের কাছ থেকে আশা করতে করতে আমরা মাঝে মাঝে ভুলে যাই যে ওরা আসলে বাচ্চা।সবসময় নিয়মের মাঝে থাকবেনা ওরা। ছোটখাটো যেসব ব্যাপার এড়ানো সম্ভব তা এড়িয়ে যাওয়াটাই শ্রেয়। কারন তাকে মানা করার আরও অনেক জায়গা আছে।মাঝে মাঝে ওর মতামতের গুরুত্ত দিন, ওর চাওয়াটাকে প্রাধান্য দিন।তাবেই অন্য সময় মানা করার গুরুত্ত সে বুঝতে পারবে। যে জানবে বা বুঝতে পারবে যে কাজে তাকে যখন না করা হচ্ছে তা করাটা আসলেই ভালোনা।  

৬.সুন্দর করে গুছিয়ে “না” বলাঃ 

হ্যাঁ মাঝে মাঝে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে যেখানে “না” বলা ছাড়া আপনার আর কোন উপায় থাকবে না। সেক্ষেত্রে “না” বলবেন কিন্তু একটু অন্য ভাবে। যেমনঃ “না। তুমি ওটা ছোঁবে না” এর পরিবর্তে একটু নরম গলায় বলুন “না বাবা, প্লিজ তুমি ওটাতে হাত দিয়ো না”।আর কথাটি আপনার শিশু যখন মেনে নিবে তখন তাকে সুন্দর করে প্রসংসা বা আদর করে উৎসাহিত করুন। যদি সে কথা শুনে তাহলে বলবেন “এইতো এই জন্যেই তো আম্মু/আব্বু তোমাকে এতো ভালবাসে। কারন তুমি কথা শুনো”।

৭. যুক্তির মাধ্যমে বুঝিয়ে বলাঃ

মনে রাখবেন এই বয়সী শিশুকে যেটা সরাসরি ‘না’ বলবেন সেটার প্রতি তার আগ্রহ আরও তীব্র হবে। আপনি যদি কোন বিষয়ে ‘না’ বলতে চান তাহলে অবশ্যই কেন ‘না’ বলছেন তাকে যুক্তি দিয়ে বোঝান। যদি মনে করেন সে আপনার কথা শুনছে না বা বুঝতে পারছে না, হতাশ হবেন না।শিশুকে যুক্তি দিয়ে বোঝাতে গেলে অনেক সময়ই অভিভাবকরা ধৈর্যহারা হয়ে যায়। মনে রাখবেন এভাবে যুক্তির মাধ্যমে বোঝালেই আপনার শিশুর মাঝে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়বে।একটু বড় হয়ে সে যখন কোনও কাজ করার ব্যাপারে আপনার কাছে অনুমতি চাইতে আসবে তখন নিজেই কাজের পজেটিভ আর নেগেটিভ ব্যাপারগুলো নিয়ে যুক্তি দাড় করাবে।এবং যে কাজটি করা ভালো বা উচিৎ শুধু সেটি নিয়েই সে আপনার কাছে আসবে। অযৌক্তিক এবং ক্ষতিকর কাজ করা থেকে নিজেই বিরত থাকবে। 

নিজের ছোটবেলার কথা ভাবুন। আপনি কিভাবে কি বললে মানতেন সেটি চেষ্টা করুন। দিন শেষে, সে তো আপনার সন্তান। আপনার উপর যে টেকনিক খাটার কথা, সেটি তার উপরেও খাটবে বলে আশা করা যায়।তাই পরবর্তি জীবনে ভালোর কথা ভেবেই এই উপায়গুলো মেনে চলুন।

শেয়ার করে নিজের কাছে সেইভ করে রাখুন আর অন্যকেও পড়ার সুযোগ করে দিন। 

………………………………………………………………………………………………………

আমাদের Kids Time সেন্টারগুলোতে আগামী ব্যাচের ভর্তি শুরু হয়েছে। কিন্তু তার আগেই অভিভাবকদের সীট বুক করার জন্য রেজিস্ট্রেশন করে ফেলতে হবে।

ঢাকায় আমাদের ৭ টি সেন্টার রয়েছে। সেন্টারগুলোর ঠিকানা পাবেন এই লিঙ্কে 

আমাদের প্রতিটি সেন্টারে সীট খুব সীমিত। তাই আগে যারা আবেদন করেন তারাই আগে সুযোগ পাবেন ভর্তির ব্যাপারে।

আবেদন করার লিঙ্ক 

বিস্তারিত জানতে নিচের ছবিতে ক্লিক করুন।

 

Get parenting article to your inbox

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

Kids Time will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.