সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী ও সুখি মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে মায়ের ভূমিকা

সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী ও সুখি মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে মায়ের ভূমিকা

April 25, 2019 Parenting 0

আমরা কিছুদিন আগে ‘সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী ও সুখি মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে বাবার ভূমিকা’ নামে একটা লেখা প্রকাশ করেছিলাম। সেই লেখাটি এখন পর্যন্ত ৪১ হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে। কয়েক লক্ষ অভিভাবক সেটি পড়েছেন। অনেক মায়েরা তাদের সন্তানদের বাবাদের পড়িয়েছেন।

আজকে আমরা লিখছি মায়ের ভূমিকা নিয়ে। এবার বাবাদের পালা। 🙂

গবেষণায় দেখা গেছে শিশুরা মায়েদের কাছ থেকে শেখে মূল্যবোধ, অপরকে ভালোবাসা, শেয়ার করা এই ব্যাপারগুলো। মায়েরা যেহেতু জন্মের পর থেকে শিশুদের সবচেয়ে কাছে থাকে তাই শিশুর বয়স ৪-৫ বছর হওয়ার আগেই এই গুণের অনেক কিছুই মায়ের কাছ থেকে শিখে যায়।

অন্যদিকে বাবার কাছে শেখে অপরকে সম্মান করা, মেয়েদের প্রতি সম্মান, দায়িত্ববোধ ইত্যাদি। সন্তানের সম্পূর্ণ বিকাশের জন্য তাই মা-বাবা দুজনের সমান ভূমিকা এবং সমান দায়িত্ব আছে।

একজন মা হিসাবে যেভাবে সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী ও সুখি মানুষ হিসেবে বড় করতে পারেন ঃ

১। প্রথমেই নিশ্চিত করুন শিশুর বাবা তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে। প্রথম ধাপ হিসাবে এই লেখাটি তাকে পড়ান। বাবার ভূমিকা 

২। শিশুকে অল্প বয়স থেকেই দায়িত্ব নিতে শেখান। নিজের রুম গুছিয়ে রাখা, নিজের জিনিসপত্র ঠিক মতো রাখা, নিজের খাবার নিজে খাওয়া, গোসল করা ইত্যাদি যেন আপনার শিশু ৩-৪ বছর বয়সেই নিজে নিজে করতে শেখে। একটু বড় হলে ঘরের কাজেও টুকটাক সাহায্য করা। এমনকি ছেলে হলেও তাকে রান্নার কাজে সাহায্য করতে বলুন। 

৩। শিশুর সাথে সময় কাটান। তাকে গল্পের বই পড়ে শুনানো, একসাথে কিছু তৈরি করা, স্কুলে আজকে কি হল সেই গল্প করা ইত্যাদি নানাভাবে আপনি তাকে সময় দিতে পারেন। 

৪। শিশুদের কাজের প্রশংসা করতে হবে। ধরুন তাকে কিছু নিয়ে আসতে বললেন, শিশুটি নিয়ে আসলো, তার কাজের জন্য বাহাবা দিন, প্রশংসা করুন, উৎসাহিত করুন।

৫। অবশ্যই খাবার টেবিলে একসাথে সবাই মিলে খান। খেতে খেতে গল্প করুন পরিবারের সবাই মিলে। গবেষণায় দেখা গেছে যেসব পরিবার একসাথে খাবার খায় তাদের সন্তানরা বড় হয়ে পারিবারিক জীবনে সুখি হয়। 

৬। কখনও নিজের শিশুকে অন্যর শিশুর সাথে তুলনা করবেন না। পরীক্ষায় কেন অন্যর চেয়ে খারাপ করলো, অমুক বিষয়ে কেন কম নাম্বার পেলো – এরকম বিষয়গুলোতে মায়েরাই বেশি একটিভ থাকে। ছোটবেলা থেকে অপরের সাথে তুলনা করা, সন্তানকে প্রতিনিয়ত কম্পিটিশনের দিকে ঠেলে দিয়ে শিশুকে বড় হয়ে সুখি এবং আত্মবিশ্বাসী হওয়ার সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছেন। 

৭। শিশুকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দিন। কিন্তু যা করা তার জন্য খারাপ সেটি করা থেকে বিরত রাখুন। ধমক দিয়ে নয়, বুঝিয়ে। 

৮। বাবার মতো মায়েরাও সন্তানের মডেল। আপনি যদি বাসার কাজের মেয়েটার সাথে ভালো ব্যবহার করেন, সেও তাকে সম্মান দিবে। যেই গুণাবলি আপনি সন্তানের মধ্যে দেখতে চান সেটি নিজে অভ্যাস করুন। শিশু আপনাকে অনুসরণ করে, আপনার কথাকে নয়। 

 

জগতের সকল মা ভালো থাকুন।

যারা পড়ছেন এবং শেয়ার করছেন তাদের সবাইকে অগ্রিম ধন্যবাদ Kids Time পরিবারের পক্ষ থেকে।

………………………………………………………………………………………………………………………………

৪-১০ বছর বয়সী শিশুদের Future Skills, যেমন creativity, problem solving skill এবং emotional intelligence বাড়ানোর জন্য Kids Time Center এ আমরা নিয়মিত মজার কিছু কোর্স করাচ্ছি। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের ছবিতে।

 

 

বাবা-মা হচ্ছেন সন্তানের প্রথম শিক্ষক। আপনি যত ভালো Parenting নিয়ে জানবেন, আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ ততই উজ্জ্বল হবে। সচেতন অভিভাবকদের জন্য তৈরি করা Parenting এর উপর ফ্রি কোর্স করতে রেজিস্ট্রেশন করুন নিচের ছবিতে ক্লিক করে।

অভিভাবকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা কোর্সগুলো পাবেন Teachers Time থেকে।

 

 

 

 

Get parenting article to your inbox

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

Kids Time will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.