আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার ভাবনাঃ সাব্বির খান (জারিয়ার বাবা)

আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার ভাবনাঃ সাব্বির খান (জারিয়ার বাবা)

July 8, 2018 Education Parenting 0

 

লেখাটি আমার বড় মেয়ে জারিয়াকে নিয়ে। বাবা হিসাবে তাকে নিয়ে কি ধরণের স্বপ্ন আমি দেখি সেটিই আমার লেখার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশে আমার মতো আরও অনেক অভিভাবক আছেন যারা আমার মতো করে তাদের সন্তানদের নিয়ে ভাবছেন। তাদের জন্য লেখাটি উপকারে আসবে হয়তো। 

আমার মেয়ে জারিয়া ছবি আঁকতে, ক্র্যাফট বানানো এবং এই ধরণের ক্রিয়েটিভ সব কাজ করতে খুবই ভালোবাসে। যা কিছু সে দেখে, যা কিছু কল্পনা করে সবকিছু সে তার ছবিতে ফুটিয়ে তুলে। কিংবা নতুন কোন খেলনা তৈরি, কোন কিছু recycle করে নতুন করে বানানো এইসবই তার সময় কাটানোর পছন্দের উপায়।

তার এইসব নতুন সব ইনোভিশন আমাদের এতটাই অবাক করে দেয় যে মাঝে মাঝে নিজের চোখকেই বিশ্বাস হয় না। কেবল বাবা হিসাবেই নয়, অন্য যারা তার এই কাজগুলো দেখেছে তারাই বলেছে, তার এই ক্ষমতার সঠিক মূল্যায়ন হয়তো আমাদের স্কুলগুলোতে হবে না। তার একটু স্পেশাল কেয়ার দরকার যেখানে সে তার এই দক্ষতাগুলোকে আরও শানিয়ে নিতে পারবে। অনেক অভিভাবকই হয়তো এখন নিজেদের সন্তানের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারে মিল পাবেন।

এছাড়া এমনিতেও স্কুলের পড়াশুনার প্রতি আমার মেয়ের খুব একটা আগ্রহ নেই। আসলে খুব কম শিশুরই হয়তো আছে সেটা। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমি এবং আমার স্ত্রী দুজনের কেউই চাচ্ছি না আমাদের মেয়েকে স্কুলের গঁদবাধা নিয়মের বেড়াজালে পড়ে যাক এত অল্প বয়সে। ওর শৈশব তো কেবল শুরু। সামনে তার অনেক লম্বা জীবন বাকি।

আমি এবং আমার স্ত্রী দুজনেই জীবনে অনেক সংগ্রাম করেছি ভালো শিক্ষার জন্য, ভালো একটা ডিগ্রির জন্য এবং সবশেষে ভালো চাকুরির জন্য। একটা ভালো লাইফস্টাইলের জন্য আমাদের এই সংগ্রাম চলছেই। এর যেন কোন শেষ নেই।

আমাদের দুজনেরই আর্ট এবং লিটারেচার নিয়ে আগ্রহ ছিল, যেমন আমি ভালবাসি ইংরেজি সাহিত্য এবং লেখালেখি করা (মার্কেটিং, ব্র্যান্ড এবং TQM নিয়ে আমার বেশ কিছু লেখা জাতীয় দৈনিক, মাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে এবং বেশ সমাদৃত হয়েছে), আমি অভিনয় ভালবাসতাম এবং যে কোম্পানিতে কাজ করতাম সেখানে কিছু short drama তে কাজও করেছি। আমার স্ত্রী ভালোবাসে ডেকোরেশন করা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করা (সে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে অনেকদিন কাজ করেছে এবং খুব ভালো করেছে)।

কিন্তু আমাদের দুজনকেই আমাদের ইচ্ছা আর স্বপ্নকে ধামাচাপা দিতে হয়েছে আমাদের প্রফেশনাল ক্যারিয়ারের জন্য। আমরা বুঝে গিয়েছিলাম, আপনি ভালো উপার্জন না করেন, সমাজের আর দশটা মানুষের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারেন, তাহলেই ব্যর্থ জীবনের তকমা লাগবে আপনার গায়ে। মানুষ বলতে থাকবে তোমাকে দিয়ে কিছু হল না, কিছু হবে না।

আর প্রফেশনাল ক্যারিয়ারের এই ইঁদুর দৌড়ের পর যদি কিছুটা সময় অর্জন করতে পারেন, তবেই আপনার ভালো লাগার কাজগুলো করার সুযোগ মিলবে। আর ততদিনে হয়তো আপনার ইচ্ছেগুলো আর ভালোলাগার ব্যাপারগুলো মরেই গেছে।

পৃথিবীতে ১% মানুষও নিজে যা করতে ভালোবাসে, সেটাকেই উপার্জনের মাধ্যমে বানাতে পারে না। আর তাই নিজের স্বপ্নকে গলা টিপে মেরে ফেলতে বাধ্য হয়। আমরা অভিভাবকরা তাই সন্তানদের ছবি আঁকার ক্লাসে পাঠাই, নাচের-গানের ক্লাসে পাঠাই, কিন্তু কখনও চাই না তারা আর্টিস্ট হোক কিংবা গায়ক হোক।

আমি চাই আমার সন্তান সেটাই করুক যা করতে সে ভালোবাসে। আমি চাই সে তার স্বপ্ন নিয়ে বাঁচুক, তার নিজের মতো করে জীবন চালাক। সমাজের প্রথাগত চাকরির পিছনে দৌড়ানোর জন্য তাকে বাধ্য করতে আমি চাই না। বরং আমি চাই সে নিজেকে আবিষ্কার করুক, নিজের শক্তি এবং আগ্রহের জায়গা খুঁজে বের করে নিজের জন্য প্রফেশন তৈরি করুক। ও যা ভালোবাসে সেটিই যেন করতে পারে।

পৃথিবী খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে, বদলে যাচ্ছে স্কিলের সংজ্ঞা। যেকোনো কিছু যদি কেউ খুব ভালোবাসে এবং সেটির উপর স্কিল তৈরি হয়, উপার্জনের চিন্তা তার করতে হবে না।

দিনের পর দিন আমি ভেবেছি আর খুঁজেছি, কিভাবে আমি আমার মেয়েকে তার উপযুক্ত শেখার পরিবেশ দিতে পারি। পড়তে বসার পর তার মন খারাপ চেহারা দেখতে দেখতে আমি হতাশ হয়ে পড়ছিলাম। আমি যেন নিজের শৈশবকে আবার তার মধ্যে দেখতে পাচ্ছিলাম। শত শত নাম্বার, নাম, শব্দ আর বাংলা এবং ইংরেজি অক্ষরের জালে তার আশাহত মুখটি হাঁসফাঁস করে। স্কুল যেন বিশাল একটা বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে যা বইবার ক্ষমতা আমার মেয়ের নেই। আমার সাথে একমত হবেন অনেক অভিভাবকই।

আমি বুঝতে পারছিলাম না কিভাবে তাকে সাহায্য করবো। যা আমি করতে ভালবাসি না সেটি দিনের পর দিন করা – যেন প্রতিটি মুহূর্তে একটু একটু করে বিষ নিঃশ্বাসের সাথে ভেতরে নেওয়া। সারা পৃথিবীতে কোটি কোটি শিশু এই অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমার শিশুর জীবনে সেটি আমি হতে দিতে পারবো না।

আশার আলো খুঁজে পেলাম যখন Kids Time এর ব্যাপারে একজনের কাছে শুনলাম। আমি যা চাচ্ছিলাম আমার মেয়ের জন্য তার হুবুহু প্রতিফলন আমি দেখতে পেলাম তাদের কাজের মধ্যে। আর আমার মেয়েও খুঁজে পেলো তার ভালো লাগার জায়গাটি।

আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি যখন দেখলাম কেউ একজন সাহস করে এরকম ভিন্নধর্মী একটি সিস্টেম চালু করেছে। কোচিং, গঁদবাধা নিয়মের ছবি আঁকার ক্লাস, নাচ-গানের ক্লাসের বাইরে এসে সম্পূর্ণ আলাদা চিন্তার একটি উদ্যোগ। আমার মেয়ের মতো একটু আলাদা, একটু ক্রিয়েটিভ, (অভিভাবকদের চোখে) একটু পাগলাটে শিশুদের জন্যই যেন এটি করা।

Kids Time এখন ঢাকায় ৪ টি জায়গায় (গুলশান, উত্তরা, মিরপুর ডিওএইচএস এবং ধানমণ্ডি) কাজ করছে। আমার বিশ্বাস তারা আমার মতো আরও হাজারও অভিভাবক পাবেন যারা তাদের শিশুদের জন্য এমন একটি জায়গা খুঁজছেন যেখানে শিশুরা তাদের ভালোলাগার কাজগুলো করতে পারবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের দক্ষতাগুলো অর্জন করতে পারবে।

ধন্যবাদ Kids Time.

……………………………………………………………………………………………………………………..

লেখাটি লিখেছেন সাব্বির খান, প্রিন্সিপ্যাল অফিসার, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, প্রধান অফিস। তিনি জারিয়ার (৭ বছর) বাবা। জারিয়া আমাদের কিডস টাইম মিরপুর ডিওএইচএস শাখার একজন ছাত্রী।  

 

শিশুদের মানসিক বিকাশ, ভবিষ্যৎ স্কিল (যেমন সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ইত্যাদি) নিয়ে আমরা Kids Time থেকে নিয়মিতভাবে আর্টিকেল পাবলিশ করি। সেগুলো দেখতেও ভুলবেন না।

শিশুদের সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আমাদের সেন্টারে আমরা নিয়মিত কোর্স রেখেছি ৪-৮ বছর বয়সের শিশুদের জন্য। আপনার শিশুকে নিয়ে চলে আসুন আপনার কাছের কোন একটি সেন্টারে। আমাদের সেন্টারগুলো ঢাকায় ধানমণ্ডি, উত্তরা, গুলশান এবং মিরপুর ডিওএইচএসে আছে এবং চট্টগ্রামেও রয়েছে। বিস্তারিত দেখুন এখানে। কোর্স নিয়ে যেকোনো প্রশ্ন থাকলে কল করুন এই নাম্বারেঃ ০১৭৭১৫৮৮৪৯৪

আমাদের সেন্টারগুলোর ম্যাপ 

আপনার শিশুকে July থেকে শুরু হওয়া আমাদের সামার কোর্সে ভর্তি করতে রেজিস্ট্রেশন করুন এই লিঙ্কে গিয়েঃ https://goo.gl/vZGM5k

অথবা নিচের ছবিতে ক্লিক করুন।

রেজিস্ট্রেশন করার পর আমরা আপনাকে কল দিয়ে আমাদের সেন্টারে আপনার শিশুকেসহ আসার আমন্ত্রণ জানাবো। তখন আপনি শিশুকে ভর্তি করানোর ব্যাপারে আমাদের সাথে কথা বলতে পারবেন এবং ভর্তি করাতে পারবেন।

নিচের ভিডিওটি থেকে ৩০ সেকেন্ডে দেখে নিন আমরা কি করি, কেন করি।

 

…………………………………………………………………………………………………………….

 

Get amazing goofi series

You have successfully subscribed for Goofi series

There was an error while trying to send your request. Please try again.

Kids Time will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.