আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সঠিক investment করছেন কি?

আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সঠিক investment করছেন কি?

June 8, 2018 Education Future Skill 0

নিজের সন্তানকে ভবিষ্যৎ জীবনে সফল দেখতে চান সব অভিভাবকরাই। মা অথবা বাবা হওয়ার পর জীবনের একটা বড় সময় এবং রোজগারের বড় অংশ অভিভাবকরা ব্যয় বা invest করেন সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য। আমরা সবাই জানি, শিশুর বয়স ৪-৫ বছর হওয়ার পর থেকে শুরু করে তার বয়স ২০-২২ বছর হওয়া পর্যন্ত অভিভাবকদের চিন্তার একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে সন্তানের পড়াশুনা। আমাদের মধ্যে একটা ধারণা অনেক শক্তভাবে গেঁথে গেছে যে পড়াশুনায় ভালো করলে – ভালো CGPA পেলেই বুঝি আমাদের সন্তানদের একটি নিশ্চিত ভবিষ্যৎ আমরা দেখতে পাবো।

লেখাপড়া যদিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। বিশেষ করে ৮-১০ বছর বয়স পর্যন্ত এবং আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে শিশুর জীবনের প্রথম ৫ বছর বয়স পর্যন্ত। এই সময় পড়াশুনার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে শিশুর মানসিক বিকাশ।

ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের জরিপ অনুযায়ী যেসব শিশুর বয়স এখন ৩-১২ বছরের মধ্যে, তাদের মধ্যে ৭০% শিশু ভবিষ্যতে এমন একটি চাকরিতে প্রবেশ করবে যার অস্তিত্বই এখন নেই।

পৃথিবী এত দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে টেকনোলোজির জন্য যে আজকে থেকে ১৫ বছর পর যখন আপনার শিশু চাকরিতে ঢুকবে তখনকার পৃথিবী হবে সম্পূর্ণ আলাদা। এখন যে ধরণের স্কিল দরকার বিভিন্ন চাকুরিক্ষেত্রে, ১৫ বছর পর সেই স্কিলগুলো আর লাগবে না। ভবিষ্যতে যে কয়েকটি স্কিল (Future Skills) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো হল – সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, emotional intelligence এবং moral values. আপনার শিশুর মধ্যে যদি এই স্কিলগুলো না থাকে তাহলে ভবিষ্যতের পৃথিবীতে আপনার শিশুর যোগ্যতার যাচাই কখনই হবে না।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমরা অভিভাবকরা নিজেরাও এটি এখনও বুঝতে না পারলেও শিশুরা ইতিমধ্যে বুঝতে শুরু করেছে। ইউনিসেফ বাংলাদেশ (UNICEF Bangladesh) কয়েকদিন আগে একটি জরিপ চালিয়েছিল শিশুদের উপর। তাদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, তোমরা কি মনে কর স্কুলে যা শিখছ তা তোমাদের কোন কাজে লাগছে তোমাদের জীবনে?

UNICEF এর জরিপ অনুযায়ী মাত্র ১০% শিশু মনে করে তারা স্কুলে যা শিখছে তা তাদের কোন কাজে লাগছে।

স্কুলে আমরা শিশুদের যা শিখাচ্ছি বা স্কুলগুলো আমাদের শিশুদের যা শিখাচ্ছে, তার কতটুকু কাজে লাগবে তার জীবনে তা কি একবার ভেবে দেখেছেন? নিজের জীবনের দিকে তাকান। আপনি স্কুলে যা শিখেছেন তার কত পারসেন্ট আপনার প্রফেশনাল লাইফে কাজে লাগছে? ইউনিভার্সিটি লেভেলে আমরা যা শিখি তার কিছু কিছু জিনিস কাজে লাগে কারো কারোর ক্ষেত্রে। তাহলে ভেবে দেখুন, আমরা যে সময়ে পড়াশুনা করেছি আর এখন যে সময়ে এসে কাজ করছি সেই সময়টার মধ্যে ব্যাবধান আসলে ১৫ বছরের। গত ১৫ বছরে আমাদের পৃথিবী কতটা বদলে গেছে! ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনে যে বিশাল পরিবর্তন এনেছে। কিন্তু এটা কেবল শুরু।

আগামী ১৫ বছরে যে পরিবর্তন আসবে পৃথিবীতে তার কাছে আগের পরিবর্তনকে মনে হবে নস্যি। অনেকেই Artificial Intelligence, Automation, Machine Learning – এই শব্দগুলোর সাথে পরিচিত। 4th Industrial Revolution নিয়ে জানেন কেউ কেউ। সচেতন অভিভাবকরা ধীরে ধীরে বুঝতে পারছেন কি ঘটতে যাচ্ছে ভবিষ্যতে। এবং সে জন্য অনেকেই উদ্বিগ্ন নিজেদের শিশুদের শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে। সুযোগ পেলে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেও দেশ ছাড়ছেন অনেকেই। এই আশায় যে বিদেশের ভালো শিক্ষা ব্যাবস্থায় হয়তো সন্তানকে আরেকটু ভালো সুযোগ তৈরি করে দেয়া যাবে।

দেশে যারা আছেন তারা দেশের সেরা স্কুলে লাইন দিচ্ছেন, সেরা স্কুলে সন্তান সুযোগ পাওয়ার পরও নিশ্চিত হচ্ছেন না। দিন-রাত তাকে হোম টিউটর অথবা কোচিংয়ে পাঠাচ্ছেন এই আশায় যে ‘রেজাল্ট’ ভালো হবে, আর তাতে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে। প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা ব্যয় করছেন এই আশায়। নিজের আয়ের অনেকটা বড় অংশ invest করছেন সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য। একটু ভাবুন তো এই investment আসলে কতটা সঠিক হচ্ছে?

পৃথিবীর উন্নত সব দেশগুলো নিজেদের শিক্ষাব্যাবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় দেশ ফিনল্যান্ড ইতিমধ্যে তাদের স্কুল থেকে বিষয়ভিত্তিক পড়াশুনা উঠিয়ে দিচ্ছে। মানে হল তাদের স্কুলে এখন থেকে আর বিজ্ঞান, গনিত, পদার্থ, রসায়ন, ইতিহাস, ভূগোল নামের কোন বিষয় থাকছে না। সেগুলো পরিবর্তন করে তারা এখন স্কুলে শেখাচ্ছে শিশুদের কিভাবে কোন সমস্যা সমাধান করা যায়, ডিজাইন করা শেখাচ্ছে, আর্ট (ছবি আঁকা নয় কিন্তু খালি) শেখাচ্ছে, শেখাচ্ছে কিভাবে collaboratively কাজ করতে হয়, নিজে নিজে নতুন কিছু শিখতে হয় (self-learning), শেখাচ্ছে Critical Thinking, Logical Analysis.

আমাদের দেশেও কিন্তু এই ব্যাপারগুলো নিজে কাজ শুরু হয়েছে। সরকার এবং বেসরকারি পর্যায়ে ধীরে ধীরে শিক্ষার নতুন ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে। ২০৩০ সালে বা ২০৪০ সালে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যাবস্থা কেমন হবে দেখতে সেটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। a2i (Access to Information) থেকে কিছুদিন আগে এই বিষয় নিয়ে বেশ বড়সড় একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিছু পরিবর্তন খুব দ্রুতই হয়তো দেখতে পারবেন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়।

Light of Hope এর মতো প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে যেখানে শিশুদের ভবিষ্যৎ স্কিলগুলো বাড়ানো নিয়ে বিভিন্ন ধরণের ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট তৈরি করা, অভিভাবকদের সচেতন করা, শিক্ষকদের স্কিল বৃদ্ধি করা নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি Kids Time এর মতো একটি after-school program চালু করেছে যার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে শিশুদের মধ্যে এই ভবিষ্যতের স্কিলগুলো তৈরি করা বিভিন্ন মজার সব কোর্সের মাধ্যমে।

বাংলাদেশে এখন যেসব অভিভাবকদের ২-১০ বছর বয়সী শিশু আছে তাদের জন্য এই সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে ভবিষ্যতের পৃথিবী কোনদিকে যাচ্ছে এটি সম্পর্কে জানা এবং সেটির জন্য তারা নিজেদের সন্তানদের তৈরি করছে কিনা সেদিকে খুব ভালো করে খেয়াল রাখা দরকার। এবং একই সাথে নিজেকে এই বিষয়ে educate করাটাও প্রয়োজন। স্কুলের পাশাপাশি দেশে কি কি ভালো alternative উপায় আছে যেখানে নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য দরকারি স্কিল নিয়ে কাজ করা হয় সেটি সম্পর্কে অবহিত থাকাটা খুব জরুরি। আমরা সামনে হয়তো এই বিষয়টি নিয়ে লিখবো।

অভিভাবকদের ভবিষ্যতের বিভিন্ন স্কিলগুলো বাড়ানোর উপায় নিয়ে আমরা নিয়মিত আর্টিকেল প্রকাশ করি আমাদের ওয়েবসাইটে। সেগুলো অভিভাবকরা পাবেন এই লিঙ্কে গিয়ে।

আর্টিকেল লিঙ্ক 

অনুরোধ থাকবে নিজে পড়ার এবং অন্যর সাথে শেয়ার করার জন্য।

ঠাণ্ডা মাথায় আরেকবার নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সঠিক investment করছেন?

…………………………………………………………………………………………………………………………..

শিশুদের সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আমাদের সেন্টারে আমরা নিয়মিত কোর্স রেখেছি ৪-৮ বছর বয়সের শিশুদের জন্য। আপনার শিশুকে নিয়ে চলে আসুন আপনার কাছের কোন একটি সেন্টারে।

 

 

যেকোনো প্রশ্ন থাকলে কল করুন এই নাম্বারেঃ ০১৭৭১৫৮৮৪৯৪

আমাদের সেন্টারগুলোর ম্যাপ 

 

 

 

Get parenting article to your inbox

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

Kids Time will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.