আপনার শিশুকে শোনানোর জন্য অনুপ্রেরণার ৪ টি বাস্তব গল্প

আপনার শিশুকে শোনানোর জন্য অনুপ্রেরণার ৪ টি বাস্তব গল্প

September 8, 2018 Creativity Development Parenting 0

এই লেখায় এমন ৪ টি গল্প উঠে এসেছে যেগুলো শুনালে আপনার শিশুর মধ্যে বড় হয়ে ভালো কিছু করার অনুপ্রেরনা যোগাবে।  

শিশুদের আমরা প্রায়ই দেখি বিভিন্ন বিখ্যাত মানুষদের জীবনী পড়ানো হয়। আমাদের ইচ্ছা হল যে আমরা ওইসব বিখ্যাত মানুষদের জীবনী পড়িয়ে শিশুদের ওদের মত হওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা দিবো। কিন্তু শিশুর বয়সের কথা মাথায় রেখে আমাদের এইসব বিখ্যাত মানুষদের জীবনী পড়ানো উচিত। যেমন, একজন ৫ বছর শিশুর কাছে রবীন্দ্রনাথের জীবনীর চেয়ে তার নিজের দাদার জীবনের ঘটনা বা নিজের বাবা-মার ছোটবেলার ঘটনা আরও বেশি উৎসাহ যোগানোর কাজ করতে পারে।

শিশুর বয়স যখন আবার ১০-১২ বছরের আশেপাশে হয়ে যায় তখন তাদেরকে আমরা একটু ভিন্নভাবে উৎসাহ দিতে পারি। ঢাকার ৫০ টি স্কুলের ২০০ জন (প্রতি স্কুল থেকে ৪ জনের একটি করে দল) ১০-১২ বছর বয়সী শিশুদের আমরা লিডারশীপ প্রশিক্ষণ দিয়েছি কিছুদিন আগে। ওরা এই প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর প্রায় ৫০ টি স্কুলের জন্য মোট ১৮০ টি কাজের পরিকল্পনা করে যেগুলো তারা স্কুলে বাস্তবায়ন করবে। কি ছিল না এর মধ্যে !! লাইব্রেরি করা, বাগান করা, first-aid box রাখা, প্রতিটি ক্লাসে ‘Lost & Found Box’ রাখা ইত্যাদি। প্রাইভেট স্কুলের শিশুরা নিজেরা গল্পের বই, খেলনা সংগ্রহ করে পাশের কোন একটি দরিদ্র স্কুলের সাথে শেয়ার করেছে। এই লেখাটি লেখার সময়ে তারা ইতিমধ্যে ৮৮ টি পরিকল্পনা শেষ করে ফেলেছে সফলতার সাথে।

ছোট ক্লাসের শিশুরা যেন কিছু হারিয়ে ফেললে বা ভুলে রেখে গেলে পরের দিন এই বাক্সে এসে খুঁজে পায় – সেই চিন্তা থেকেই এই আইডিয়া নিয়ে এসেছে ‘Sisimpur Kid Ambassador’ রা।

 

কি শিখিয়েছিলাম আমরা আমাদের সেই প্রশিক্ষণে? কিভাবেই বা তাদের দিয়েছিলাম উৎসাহ এইরকম কঠিন কঠিন সব কাজের উদ্যোগ নেয়ার জন্য? সেই কথাগুলোই এখন বলছি। আপনার শিশুর জন্যও (বয়স যাই হোক না কেন) খুব উপকারে দিবে।

আমাদের এই লিডারশীপ প্রশিক্ষণের প্রথম অংশটি ছিল তাদের মোটিভেশন নিয়ে কাজ করা, তাদেরকে আত্মবিশ্বাস দেয়ার উপর। আমরা শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ‘তুমি ছোট, তুমি পারবে না’ অথবা ‘ছোট মানুষ, তোমাকে দিয়ে হবে না’ ইত্যাদি কথা বলে তার আত্মবিশ্বাসকে কমিয়ে দেই। যেহেতু আমাদের এখানে এসেছিল ১০-১২ বছর বয়সী শিশুরা, তাদেরকে আমরা প্রথমেই জিজ্ঞেস করেছিলাম যে ‘তোমরা কি মনে করো বয়সের কারণে তোমরা নিজেদের অনেক স্বপ্ন বা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে না?’। অনেকেই মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি জানিয়েছে, হ্যাঁ, বয়সে ছোট বলেই অনেক কিছু তারা এখন করতে পারবে না। তখন আমরা শিশুদের এমন কিছু মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি যারা খুব অল্প বয়সেই অনেক বড় বড় সব কাজ করে ফেলেছে। বয়স যে তাদের এই এতো বড় অর্জনে কোন বাধা হতে পারেনি তাই বোঝানো ছিল আমাদের উদ্দেশ্য।

শিক্ষককে সাথে নিয়ে কাজ করছে শিশুরা।

 

আপনার যদি এই বয়সী শিশু থাকে তাহলে আপনিও তাকে এই গল্পগুলো শুনাতে পারেন। নিজের শিশুকে আত্মবিশ্বাস দেয়ার জন্য বা উৎসাহ দেয়ার জন্য এই ৪ টি গল্প তাকে শুনাতে পারেন।

সবার শেষের গল্পটি আমাদের নিজের দেশের একটি গল্প। এটি অবশ্যই শুনাবেন আপনার শিশুকে।

 

উপরের ছবিটি কার সেটি কি চিনতে পারছেন? খুব কম মানুষেরই জানার কথা। উনার নাম লুইস ব্রেইল। তাকে কেউ না চিনলেও তার আবিষ্কার করা অন্ধদের পড়ার পদ্ধতি ‘ব্রেইলের’ নাম শুনেছে পৃথিবীর প্রায় সবাই।

১। লুইস ব্রেইল 

১৮০৯ সালে ফ্রান্সে জন্ম তার। জন্মান্ধ ছিলেন না কিন্তু তিনি। তার বয়স যখন ৩ বছর, তখন একটি দুর্ঘটনায় তার চোখ অন্ধ হয়ে যায়। কল্পনা করুন, ৩ বছর বয়সের একটা শিশু হঠাৎ এমন অন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার মানসিক অবস্থা কি হয়েছিলো। বই পড়ার প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল তার। কিন্তু তখন তো এরকম অন্ধদের জন্য পড়ার মতো বইয়ের কোন বিশেষ ব্যাবস্থা ছিল না। কিভাবে একটা পদ্ধতি তৈরি করা যায় যার মাধ্যমে একজন অন্ধ মানুষ নিজে নিজেই পড়তে পারবে সেটি নিয়ে ভাবনা শুরু হয়ে যায় তার। শুধু ভেবেই থেমে যাননি, চেষ্টা চালাতে লাগলেন। অবশেষে যখন তিনি ব্রেইল পদ্ধতি আবিষ্কার করে প্রথম তার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলেন, তখন তার বয়স কত ছিল জানেন? মাত্র ১৫ বছর।

ব্রেইলের গল্প থেকে কি অনুপ্রেরণা দিবেন শিশুকে? 

শিশুকে বলুন, দেখো ৩ বছর বয়সে অন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও কেবলমাত্র আগ্রহ থাকার কারণে সে অন্ধদের পড়ার জন্য একটা পদ্ধতি বানিয়ে ফেলতে পারলো। তাই তোমার কোন শারীরিক অথবা সামাজিক কোন বাধাই তোমার চাওয়াকে বা তোমার স্বপ্নকে থামিয়ে রাখতে পারবে না যদি তুমি চেষ্টা করো।

 

 

উপরের ছবির মেয়েটিকে অনেকেই হয়তো চিনেন। ওর নাম মালালা ইউসুফজায়ি। ওর গল্প আজ পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ শিশুর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ি।

২। মালালা ইউসুফজায়ি 

মালালার জন্ম ১৯৯৭ সালে পাকিস্তানে। ওর বাবা ছিলেন মেয়েদের একটি স্কুলের শিক্ষক। স্কুলটি ছিল পাকিস্তানের শোয়াত ভ্যালিতে। ২০০৮ সালে তালেবানরা ওই এলাকার দখল নেয় এবং মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। মালালার বয়স তখন ১১ বছর। ও এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, লেখালেখি করে, মানুষের সামনে এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা শুরু করে। ২০১২ সালে একদিন স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে স্কুল বাসের ভেতরে মুখোশ পড়া একজন তাকে গুলি করে। গুলি লাগে তার মাথার বাম পাশে।

পাকিস্তান থেকে তাকে জরুরিভাবে ইংল্যান্ডে নেয়া হয়। ১০ দিন পর হাসপাতালে তার চেতনা ফিরে। তার পরিবারকেও ইংল্যান্ডে নিয়ে আসা হয়। সুস্থ হয়ে সে গঠন করে ‘মালালা ফান্ড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে পৃথিবীব্যাপী মেয়ে শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা।

তার সাহসিকতা এবং কাজের জন্য ২০১৪ সালে মালালাকে ‘নোবেল শান্তি পুরষ্কার’ দেয়া হয়। ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসাবে মালালা যখন নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক তুলে নিচ্ছে তখন তার বয়স মাত্র ১৭ বছর।

লেখার সোর্স এখানে

মালালার গল্প থেকে শিশুকে আপনি শেখাতে পারেন? 

১৭ বছর বয়সে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেয়ে মালালা দেখিয়ে দিয়েছে বয়সটা আসলে কোন বাধা নয়। মাত্র ১২ বছর বয়সে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে নামে সে। কোথাও অন্যায় কিছু হতে দেখলে তুমি যতই ছোট হও না কেন তোমার মতো করে তুমি তার প্রতিবাদ করতে পারো।

 

ঘোড়ার উপর বসে থাকা মেয়েটা কে, তা কি অনুমান করতে পারছেন? ফ্রেঞ্চ জাতির কাছে অনেকটা ‘স্বাধীনতার প্রতীক’ এই মেয়েটি। তার নাম জোয়ান অফ আর্ক।

৩। জোয়ান অফ আর্ক 

১৩৩৭ সালে ফ্রান্সের সিংহাসনে কে বসবে এই ঝামেলা নিয়ে পুরো দেশ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এই সুযোগে ইংরেজরা এক ভাগের সাথে ভিড়ে ফ্রান্সের অর্ধেক দখল করে বসে প্রায়। ১০০ বছর ধরে স্থায়ী এই যুদ্ধের কোন শেষ দেখা যাচ্ছিলো না। ১৪২৯ সালে দরিদ্র কৃষক ঘরের সাধারণ এক ১৭ বছর বয়সের মেয়ে জোয়ান যখন রাজা চার্লসের সাথে দেখা করতে এলো, তার আগে পর্যন্ত মনে হচ্ছিল যে পুরো ফ্রান্স দখল করে ফেলা ইংরেজদের জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার।

নিজ গ্রাম থেকে রওনা দেয়ার আগে সে নিজের মাথার চুল কেটে ছোট করেছে, পড়েছে পুরুষদের মতো সৈন্যর সাজ এবং এরপর পরিচিত দুইজন সৈন্যর সাথে করে শত্রু এলাকার ভিতর দিয়ে ছদ্মবেশে এসেছে দেখা করতে চার্লসের সাথে।

সবাইকে সে রাজি করাল যেন তার অধীনে একটা সেনাবাহিনী দেয়া হয়। নেতারা রাজি হয়ে তার সাথে একটা ছোট সেনাবাহিনী দেয়। তাই নিয়ে জোয়ান অফ আর্ক আসে অরলিয়ান্সে যেখানে আগে থেকেই ইংরেজদের অবরোধে আছে ফ্রেঞ্চ বাহিনী। কি এক আজব মায়াজালে পুরো বাহিনীকে চাঙ্গা করে ফেলল সে। বহু বছরের মধ্যে এই প্রথমবার ফ্রেঞ্চ বাহিনী কোন যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীকে পরাজিত করে পিছু হটতে বাধ্য করলো।

এই জয়ে ফ্রেঞ্চদের মধ্যে আবারও আত্মবিশ্বাস ফিরে এলো। জোয়ান অফ আর্ক রাতারাতি ফ্রান্সের জাতীয় বীর হয়ে গেল।

১৪৩০ সালের মে মাসের ২৩ তারিখে যুদ্ধে অন্য আরও অনেকের সাথে জোয়ান অফ আর্ক ধরা পড়লো ইংরেজদের সাথে হাত মেলানো ফ্রেঞ্চদের সাথে। তারা অনেক টাকার বিনিময়ে পরে জোয়ানকে তুলে দিলো ইংরেজদের হাতে। ইংরেজরা সাজানো একটা কোর্ট বসিয়ে তাকে ‘ডাইনী বিদ্যা’ প্রয়োগ করার জন্য এবং পুরুষদের মতো পোশাক পড়ার জন্য আগুনে পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দেয়।

জোয়ান অফ আর্কের মৃত্যুদণ্ড ইংরেজদের জন্য আরও হিতে বিপরীত হয়। এইসব করে তারা জোয়ানকে ‘ডাইনী’ এবং ‘খারাপ’ হিসাবে ফ্রেঞ্চ এবং ইংলিশ জনগণের সামনে প্রমাণ করতে চেয়েছিল। যে যুদ্ধ তাই গত ১০০ বছর ধরে সাধারণ মানুষের কাছে ‘রাজা-রাজা’ যুদ্ধ হিসাবে বিবেচিত হয়েছে, সেটিই এখন হয়ে গেল ‘সাধারণ মানুষের’ যুদ্ধ, আমজনতার যুদ্ধ, দেশকে মুক্ত করার যুদ্ধ – কারণ জোয়ান অফ আর্ক তো আর সবার মতই সাধারণ এক কৃষক পরিবার থেকেই আসা। ইংরেজরা এরপর আর বেশিদিন টিকতে পারেনি ফ্রান্সে।

জোয়ান অফ আর্কের গল্প কি শিক্ষা দেয় আপনার শিশুকে? 

বেশ অনেকগুলো সাইডে আপনি কথা বলতে পারেন এইখানে। ‘আত্মবিশ্বাস’ একটা বড় ব্যাপার। জোয়ান অফ আর্ক তার কথা এবং কাজে ছিল অনেক আত্মবিশ্বাসী। ‘আমিই পারবো ফ্রান্সকে মুক্ত করতে’ – এই বিশ্বাস তার ছিল। তার এই আত্মবিশ্বাস পরবর্তীতে সাধারণ সৈন্য এবং পরবর্তীতে সাধারণ মানুষদের মধ্যেও ছড়িয়ে পরে। এই কারণেই পরে ইংরেজরা এই আত্মবিশ্বাসী ফ্রেঞ্চ দলের সাথে পারেনি।

২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশে স্কুল পর্যায়ে মেয়েদের ফুটবল খেলা প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ২০১৩ সাল থেকে টানা তিনবার ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ’ বিজয়ী হয় ময়মনসিংহ জেলার ছোট্ট একটি গ্রাম কলিসুন্দর স্কুলের মেয়েরা। এরপর বাংলাদেশ জাতীয় বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৬ দলে কলিসুন্দর থেকে একসঙ্গে ৯ জন মেয়ে ফুটবল খেলেন। এই গ্রামের মেয়েরাই বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনে বিশাল এক গৌরব।

২০১৭ সালের অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ গেমসে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের নারী দল যেখানে বেশিরভাগ সদস্য ছিল এই কলিসুন্দর স্কুলের মেয়েরা। তাদের এই গল্প যেকোনো সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়।

৪। কলিসুন্দর স্কুলের মেয়ে ফুটবল দল 

অনেকটা হতাশা এবং বিরক্তি থেকেই কলিসুন্দর স্কুলের ফুটবল কোচ মফিজউদ্দিন ২০১১ সালে প্রথম মেয়েদের একটি ফুটবল দল গঠন করার উদ্যোগ নেন। হতাশার মূল কারণ হচ্ছে গ্রামের ছেলেদের দলটির পারফর্মেন্স। মাত্র ৫ বছরেরও অল্প সময়ে তার মেয়ে ফুটবল দল দেশের সব প্রতিযোগিতায় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরষ্কার ঘরে এনেছে।

এই দল গঠন করতে যেয়ে অভিভাবকদের অনেক মানা, গ্রামের মানুষদের বাধা থেকে শুরু করে অনেক ধরণের বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে। ফুটবল হচ্ছে ছেলেদের খেলা। মেয়েরা হাফপ্যান্ট বুট পড়ে ফুটবল খেলবে – এই দৃশ্যটি মেনে নিতে অনেক কষ্ট হয়েছে গ্রামবাসীর। কিন্তু যখন এই দলটি ভালো খেলা শুরু করলো তখন গ্রামের মানুষরাই তাদের চাঁদা তুলে ঢাকা বা অন্য জায়গায় টুর্নামেন্টে খেলতে পাঠিয়েছে। দলের জন্য বুট-জার্সি কেনার জন্য গ্রামের মানুষ সাহায্য করেছে।

১৩ বছরের তহুরা খাতুন এখন দলের স্ট্রাইকার, তাকে এলাকাবাসি আদর করে ডাকে ‘কলিসুন্দরের মেসি’। তহুরা খাতুনের মতো এক ডজনেরও বেশি মেয়ে জাতীয় দলে খেলেছে। একটা পর্যায়ে এমন ছিল যে ১১ জনের মধ্যে ৭-৮ জনই কলিসুন্দর গ্রামের মেয়ে।

তহুরা খাতুনের (বাঁয়ে) পরিবার থেকে ছিল অনেক বাঁধা। তার পরিবার মনে করত এখন তার বিয়ের বয়স। এরকম ফুটবল খেলা মেয়েকে কি কেউ বিয়ে করবে?

 

দলের ১৩ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন মারিয়া মাণ্ডা তার চাচার খামারে পার্টটাইম কাজ করে যেন সে তার স্বাস্থ্য এবং শক্তি ধরে রাখার মতো পুষ্টিকর খাবার কিনে খেতে পারে।

মারিয়ার মতো প্রায় সব মেয়েকেই এরকম দারিদ্র এবং পরিবারের চাপের মধ্যে থেকেই ফুটবল খেলা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। কিন্তু কোন কিছুই এই অদম্য দলটিকে আটকে রাখতে পারছে না।

‘কলিসুন্দরের মেসি’ তহুরার ইচ্ছে একদিন সে আসল মেসির সাথে দেখা হবে আর দেখা হলে তাকে বলবে যেন তহুরাকেও কিছু কৌশল শিখিয়ে দেয়।

আপনার শিশুকে কি শেখাতে পারেন এই গল্প থেকে? 

অনেক কিছুই পারেন। কিন্তু তাকেই জিজ্ঞেস করুন না প্রথমে।

তবে একটা ব্যাপার তাকে বলুন যে, ফুটবল কিন্তু একটি দলীয় খেলা। সবাই মিলে খেললে তবেই দল জিতবে। একজন তহুরাকে নিয়ে কখনই দল জিতবে না। এই ব্যাপারটি যেন আপনার সন্তান মাথায় রাখে। নিজের ব্যক্তিগত অর্জন অনেক সময় সম্ভব হয় না যদি না দল ভালো না খেলে। যে দল প্রথম ম্যাচেই হেরে বিদায় নিবে সেই দলে ‘আসল মেসি’ থাকলেও ‘সেরা খেলোয়াড়ের’ পুরষ্কার তার মিলবে না। কারণ তার জন্য তো অন্তত ফাইনাল বা সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলতে হবে।

কলিসুন্দর গ্রামের মেয়েদের এই গল্প থেকে আপনার শিশুকে দলগত কাজের গুরুত্বের প্রতি শিক্ষা দিন। ব্যক্তিগত সাফল্যর চেয়ে দলগত সাফল্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ – এই শিক্ষা তাকে দিন।

 

এরকম আরও অনেক অনেক অনুপ্রেরণার গল্প ছড়িয়ে আছে চারদিকে। সেগুলো মাঝে মাঝেই আপনার শিশুকে শোনান। আপনার নিজের জীবনে বা পরিবারের কারোর যদি এরকম গল্প থেকে থাকে সেগুলোও শোনান। এতে করে আপনার শিশুর মধ্যে বড় কিছু এবং ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা আসবে। আপনিও ভবিষ্যতে আপনার শিশুকে নিয়ে গর্ব করতে পারবেন।

…………………………………………………………

অনুপ্রেরণার গল্পগুলো তুলে এনেছেন ওয়ালিউল্লাহ ভুঁইয়া। তিনি লাইট অফ হোপের সিইও।

 

আপনার শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করার জন্য আমরা একটা গাইড তৈরি করেছি। ইতিমধ্যে কয়েকহাজার অভিভাবক এটি ব্যাবহার করছেন।

 

আগ্রহী অভিভাবকদের জন্য আমরা অনলাইন কোর্স চালু করেছি যেখান থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিস অভিভাবকরা শিখতে পারবেন নিজেদের সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য। আজকেই রেজিস্ট্রেশন করে ফেলুন আমাদের অনলাইন কোর্সে।

নিচের ছবিতে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন করুন।