আপনার সন্তানকে অন্য শিশুদের সাথে বন্ধুত্ব করতে যেভাবে সাহায্য করবেন

আপনার সন্তানকে অন্য শিশুদের সাথে বন্ধুত্ব করতে যেভাবে সাহায্য করবেন

April 3, 2018 Parenting 0

কিছুদিন হল আপনার সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন? আপনি দেখছেন সাধারনত একজন নব্য স্কুলে যাওয়া শিশুর যেমন স্বতঃস্ফূর্ত হওয়া উচিৎ আপনার সন্তান তেমন আচরণ করছে না। সাধারনত শিশুরা যখন বাড়ির গণ্ডি পেরিয়ে প্রথম স্কুলে যাওয়া শুরু করে তখন তাদের জীবনে অনেক বড় একটা পরিবর্তন আসে। তারা বাইরের জগৎটিকে প্রথম কাছ থেকে দেখা শুরু করে। তারা নতুন নতুন Friendship করতে চায়, নতুন বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে চায়, তাদের সাথে খেলতে চায়। কিন্তু আপনি লক্ষ্য করছেন যে আপনার সন্তান এসবের কিছুই করছে না।

হতাশ হবার কিছু নেই। এখনও কিছুই নাগালের বাইরে চলে যায় নি। আপনি কিছু সহজ কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাকে এই একাকিত্বের মধ্য থেকে বের করে আনতে পারবেন। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে আপনার তাড়াহুড়ো করা যাবে না। আপনাকে খুব সাবধানে এবং ধীরে ধীরে আগাতে হবে।

এরকম অবস্থায় আপনি যা যা করতে পারেন

নিচে আমরা বেশ কিছু উদাহরণ দিলাম যেগুলো প্রতিদিনের লাইফে আপনি করতে পারেন। মাথায় রাখবেন যে এই ব্যাপারটি কেবল অভিভাবকরাই নিজে করতে পারবেন। আপনার শিশুর জীবনের এই ধরণের সমস্যাগুলো আপনাদেরকেই সমাধান করতে পারবেন।

নিজের কাজগুলো শুরু করার আগে আপনি নিজে নিশ্চিত করুন যে আপনি আপনার শিশুকে যথেষ্ট সময় দিচ্ছেন। তার সাথে প্রচুর কথা বলুন, গল্পের বই পড়ুন, একসাথে কার্টুন দেখুন, কার্টুন দেখতে দেখতে দরকার হলে বোকার মতো কিছু প্রশ্ন করুন যেন সে উত্তর দিয়ে আপনার ভুল দূর করে। একসাথে খেলুন, ক্র্যাফট বানান, ছবি আঁকুন।

এতে করেও যদি উপকার না পান, তবে ধীরে ধীরে নিচের কাজগুলো শুরু করুনঃ 

১। প্রথম প্রথম তার অসাচ্ছন্দ্যতা দূর করার জন্যে এই ধরণের শিশুদের বাড়িতে খেলতে আসার আমন্ত্রণ জানান যাদের সে আগে থেকেই চেনে। এ ব্যাপারে তার মতামত গ্রহণ করাটাই শ্রেয়। ও যাদের সাথে থাকতে পছন্দ করে প্রথম প্রথম শুধু তাদের সাথেই সময় কাটাতে দিন।

২। চেষ্টা করবেন প্রতি সপ্তাহে আপনার সন্তানের জন্যে এমন Playdate অর্থাৎ খেলাধুলার আয়োজন করতে এবং প্রত্যেকবার তাদেরই আমন্ত্রণ জানাবেন যাদের সাথে আপনার শিশু খেলে খেলে অভ্যস্ত। যখন আপনার মনে হবে যে সে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে তার বন্ধুদের সাথে খেলে তখন তাকে অন্য বাচ্চাদের বাড়িতে খেলতে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে তার বন্ধুদের সাথে একা একা খেলতে দিন।

৩। প্রথম প্রথম তার Playdate গুলি ছোটই রাখুন। সে একদিনে সবকিছু শিখবে না। আর বাচ্চাদেরকে একসাথে বেশিক্ষণ রাখলে তাদের মধ্যে ছোটখাটো ব্যাপার নিয়ে মনোমালিন্য, ঝগড়াঝাঁটি লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তখন দেখা গেল সে অন্যদের সাথে আরও মিশতে চাইছে না।

৪। যখন আপনার শিশু আরও শিশুদের সাথে খেলবে তখন সবার খেলার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ খেলনা রাখুন যাতে ওদের খেলার সময় ঝগড়াঝাঁটি না লেগে যায়। এমন খেলারই ব্যবস্থা করুন যেটাতে আপনার বাচ্চা পারদর্শী। এতে করে তার নিজের প্রতি কনফিডেন্স থাকবে।

৫। যতক্ষণ আপনার শিশু খেলবে ততক্ষণ তার সাথেই থাকুন। একা ছেড়ে দিয়েন না। তার সাথে থাকলে তাকে আপনি গাইড করতে পারবেন এবং সেও কারো সাথে মিশতে গিয়ে অস্বস্তিবোধ করবে না। তাই বলে সব ক্ষেত্রে নিজের মতামত চাপিয়ে দিবেন না। তাদেরকে তাদের মত খেলতে দিবেন। যখন মনে হবে আপনার বলার প্রয়োজন আছে ঠিক তখনি আপনার শিশুকে সাহায্য করবেন। মনে রাখবেন আপনার শিশুকে এই কঠিন সময় একাই পার করতে হবে। তাকে নিজের মতো adapt করতে দিন।

৬। যখনই সময় পাবেন আপনার শিশুর সাথে খেলুন। তার সাথে খেললে আপনি বুঝতে পারবেন সে কোন খেলাগুলি খেলতে বেশি পছন্দ করে এবং কোনগুলি সে খেলতে চায় না। সে যেগুলি খেলতে চায় না তাকে সেগুলি দিয়ে খেলতে দিয়েন না। সে যেগুলি পছন্দ করে তাই তাকে দিয়ে খেলতে দিন।

৭। আপনার শিশু যে কার্টুন দেখতে পছন্দ করে বা তার যদি কোন বিশেষ পছন্দনীয় খেলা থাকে তাহলে তাকে তা দেখতে দিন এবং খেলতে দিন। অনেক সময় অন্য শিশুর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একটি নির্দিষ্ট কার্টুন বা খেলনার প্রতি ঝোঁক বেড়ে যায় এবং দেখা যায় তারা ওই কার্টুন/খেলনা ছাড়া অন্য আর কিছু দেখছে না বা খেলছে না। সে যা চায় তাকে করতে দিন। এতে করে অন্য শিশুদের সাথে সে কথা বলার একটি কমন টপিক পায়। এভাবেই ধীরে ধীরে অন্য শিশুদের সাথে সে মিশতে আরম্ভ করে।

৮। আপনার সন্তান স্কুলে কেমন করছে তা জানার জন্যে তার স্কুলের টিচারদের সাথে কথা বলুন। জানার চেষ্টা করুন যে ক্লাসে সে কোন কোন বাচ্চার সাথে বেশি মিশে, সে স্কুলে কোনভাবে Bullying এর শিকার হচ্ছে কিনা। স্কুলের শিক্ষককে অনুরোধ করুন যেন তার পড়াশুনার চেয়ে স্কুলে তার socialization ভালো হয়।

৯। আপনার সন্তানকে নতুন বন্ধু বানাতে কখনই কোন জোর করবেন না। সব শিশুকেই সে পছন্দ করবে তা জরুরী নয়। যদি কারও সাথে সে বন্ধুত্ব না করতে চায় তাহলে তাকে জোড় করা থেকে বিরত থাকেবেন। স্কুলে তার একজন দুইজন বন্ধু থাকলেই যথেষ্ট। একটু বড় ক্লাসে উঠলে এমনিতেই বন্ধু সংখ্যা বাড়বে।

১০। আপনি নিজের বন্ধু-বান্ধবদের বাসায় ডাকুন। বাসায় প্রচুর মানুষের আসা যাওয়া থাকলে আপনার সন্তান মানুষের সাথে কথা বলতে অভ্যস্ত হবে এবং হঠাৎ মানুষ দেখলে সে ঘাবড়ে যাবে না।

১১। শিশুরা নতুন মানুষদের সাথে কথা বলতে বা মিশতে লজ্জা পায় এটা খুবই স্বাভাবিক। মুলত এই লজ্জা বা সংকোচবোধ থেকেই তারা বন্ধুহীনতায় ভোগে। কিন্তু সবসময়ই যে এটাই হবে তা কিন্তু নয়। যদি আপনি দেখেন যে আপনার বাচ্চা অন্যদের সাথে চোখে চোখ মিলিয়ে বলতে পারছে না বা কেউ তার কাছে আসতে চাইলে সে কান্না করছে অথবা স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে তাহলে অতি শীঘ্রই কোন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিৎ।

১২। আপনার শিশুকে আমাদের Kids Time এর সেন্টারে নিয়ে আসতে পারেন। আমাদের সেন্টারগুলোতে বিভিন্ন বয়সের শিশুরা এক সাথে বিভিন্ন ধরণের activity করে। তারা একসাথে ক্র্যাফটের কাজ করে, গল্প তৈরি করে, পাপেট শো করে। এইসব কাজ করতে যেয়ে তার অন্যান্য শিশুদের সাথে তার বিভিন্ন ধরণের interaction করতে হয়। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, যেসব শিশুরা বেশ shy, অন্য শিশুদের সাথে মিশতে চায় না – আমাদের সেন্টারে আসার কয়েকমাসের মধ্যে বেশ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসা শুরু হয়।

……………………………………………

৪-১০ বছর বয়সী শিশুদের সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য Light of Hope বাংলাদেশে চালু করেছে Kids Time. আমাদের Kids Time সেন্টারে কোর্সগুলোর মূল উদ্দেশ্য শিশুদের মধ্যে Creativity, Problem-solving skill, Critical Thinking বাড়ানো। ইতিমধ্যে এক হাজারেরও বেশি শিশু আমাদের কোর্সগুলো শেষ করেছে।

বিস্তারিত জানতে নিচের ছবিতে ক্লিক করুন।

Kids Time যেকোনো প্রশ্ন থাকলে কল করুন এই নাম্বারেঃ 01771588494

 

 

 

 

Get parenting article to your inbox

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

Kids Time will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.