দ্রুত বদলে যাওয়া পৃথিবীতে আপনার শিশুর ভবিষ্যৎ আসলে কোথায়?

দ্রুত বদলে যাওয়া পৃথিবীতে আপনার শিশুর ভবিষ্যৎ আসলে কোথায়?

July 20, 2018 Future Skill 0

এই লেখাটি আমরা Facebook থেকে পেয়েছি। আমরা জানি না কার লেখা। কিন্তু তাকে ধন্যবাদ দিতে হয় এমন সময় উপযোগী লেখাটি লেখার জন্য।

একই সাথে আমরা Kids Time এ যে স্কিলগুলো শিশুদের বাড়ানোর জন্য কাজ করছি সেটির একটা চমৎকার ব্যাকগ্রাউন্ড হয়ে যায় এই লেখাটি।

পোস্টটি হুবুহু তুলে ধরা হলঃ

Kodak কোম্পানিকে মনে আছে? ১৯৯৮ সালে কোড্যাক কোম্পানিতে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার কর্মচারী কাজ করতেন।
এবং বিশ্বে ছবি তোলার প্রায় ৮৫% ই কোড্যাক ক্যামেরায় তোলা হত। গত কয়েক বছরে মোবাইল ক্যামেরার বাড়বাড়ন্ত হওয়ায় এমন অবস্থা হয় যে Kodak ক্যামেরার কোম্পানীটাই উঠে যায়। এমনকি Kodak সম্পুর্ন দেউলিয়া হয়ে পড়ে এবং এদের সমস্ত কর্মচারীকে বাধ্যতামূলক ছাঁটাই করা হয়।

ওই একই সময়ে আরো কতগুলি বিখ্যাত কোম্পানি তাদের ঝাঁপ পাকাপাকি বন্ধ করতে বাধ্য হয়। যেমন-

HMT (ঘড়ি)
BAJAJ (স্কুটার)
DYANORA (TV)
MURPHY (radio)
NOKIA (Mobile)
RAJDOOT (bike)
AMBASSADOR (গাড়ি)

এই উপরের কোম্পানিগুলোর মধ্যে কারুরই কোয়ালিটি খারাপ ছিল না। তবুও এই কোম্পানিগুলো উঠে গেল কেন? কারণ এরা সময়ের সাথে নিজেকে বদলাতে পারেনি।

এখনকার সময়ে দাঁড়িয়ে আপনি হয়তো ভাবতেও পারছেন না যে সামনের 10 বছরে দুনিয়া কতটা পাল্টে যেতে পারে! এবং আজকের 70%-90% চাকরিই সামনের 10 বছরে সম্পুর্নভাবে বিলুপ্ত হতে চলেছে। আমরা ধীরে ধীরে ঢুকে পড়েছি “চতুর্থ শিল্প বিপ্লব” (4th Industrial Revolution)-এর যুগে।

আজকের বিখ্যাত কোম্পানিগুলোর দিকে তাকান-

Uber কেবলমাত্র একটি software-এর নাম। না, এদের নিজস্ব কোন গাড়ি নেই। তবু আজ বিশ্বের বৃহত্তম ট্যাক্সি-ভাড়ার কোম্পানি হল Uber.

Airbnb হল আজকে দুনিয়ার সবথেকে বড় হোটেল কোম্পানি। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, পৃথিবীর একটি হোটেলও তাদের মালিকানায় নেই।

একইভাবে Paytm, ওলা ক্যাব, Oyo rooms ইত্যাদি অসংখ্য কোম্পানির উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে।

আজকে আমেরিকায় নতুন উকিলদের জন্য কোন কাজ নেই, কারণ IBM Watson নামে একটি আইনি software যে কোন নতুন উকিলের থেকে অনেক ভাল ওকালতি করতে পারে। এইভাবে পরের 10 বছরে প্রায় 90% আমেরিকানদের আর কোন চাকরি থাকবে না। বেঁচে থাকবে খালি বাকি 10%। এই 10% হবে বিশেষ বিশেষজ্ঞ। (যদিও আমরা এই কথাটির সাথে সম্পূর্ণ একমত নই। ৯০% আমেরিকানের চাকরি থাকবে না – এটি কিছুটা বেশি estimation)

নতুন ডাক্তারদেরও চাকরি যেতে বসেছে। Watson নামের software মানুষের থেকেও 4 গুন নিখুঁত ভাবে ক্যানসার এবং অন্যান্য রোগ শনাক্ত করতে পারে। 2030 সালের মধ্যে কম্পিউটারের বুদ্ধি মানুষের বুদ্ধিকে ছাপিয়ে যাবে।

2019 সালের মধ্যেই রাস্তায় নামতে চলেছে চালকহীন গাড়ি। 2020 সালের মধ্যেই এই একটা আবিষ্কার বদলে দিতে পারে গোটা দুনিয়ার চালচিত্র। এর ফলে সামনের 10 বছরে আজকের 90% গাড়িই আর রাস্তায় দেখা যাবে না। বেঁচে থাকা গাড়িগুলো হয় ইলেক্ট্রিকে চলবে অথবা হাইব্রিড গাড়ি হবে। রাস্তাগুলো ক্রমশঃ ফাঁকা হতে থাকবে। পেট্রোলের ব্যবহার কমবে এবং পেট্রোল উৎপাদনকারী আরব দেশগুলি ক্রমশঃ দেউলিয়া হয়ে আসবে।

তখন গাড়ি লাগলে, উবেরের মত কোন software-এর কাছেই গাড়ি চাইতে হবে। আর গাড়ি চাইবার কিছুক্ষনের মধ্যেই সম্পুর্ন চালক-বিহীন একটা গাড়ি আপনার দরজার সামনে এসে দাঁড়াবে। আপনি যদি অনেকের সাথে ওই একই গাড়িতে যাত্রা করেন, তাহলে মাথাপিছু গাড়িভাড়া বাইকের থেকেও কম হবে।

গাড়িগুলো চালকবিহীন হবার ফলে 99% দুর্ঘটনা কমে যাবে। এবং সেই কারণেই গাড়ি-বীমা করানো বন্ধ হবে এবং গাড়ি-বিমার কোম্পানিগুলো সব উঠে যাবে।

গাড়ি চালানোর মত কাজগুলো আর পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে না। 90% গাড়িই যখন রাস্তা থেকে উধাও হয়ে যাবে, তখন ট্রাফিক পুলিশ এবং পার্কিংয়ের কর্মীদেরও কোন প্রয়োজন থাকবে না।

ভেবে দেখুন, আজ থেকে 5-10 বছর আগেও রাস্তার মোড়ে মোড়ে NWD/STD বুথ ছিল। দেশে মোবাইল বিপ্লব আসার পর, এই সবকটা NWD/STD বুথই কিন্তু পাততাড়ি গুটাতে বাধ্য হল। যেগুলো টিকে রইল, তারা মোবাইল রিচার্জের দোকান হয়ে গেল। এরপর মোবাইল রিচার্জেও অনলাইন বিপ্লব এল। ঘরে বসেই অনলাইনে লোকে মোবাইল রিচার্জ করা শুরু করল। এই রিচার্জের দোকান গুলোকে তখন আবার বদল আনতে হল। এরা এখন কেবল মোবাইল ফোন কেনা-বেচা এবং সারাইয়ের দোকান হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সেটাও বদলাবে খুব শিগগিরই। Amazon, Flipkart থেকে সরাসরি মোবাইল ফোন বিক্রি বাড়ছে।

টাকার সংজ্ঞাও পাল্টাচ্ছে। একসময়ের নগদ টাকা আজকের যুগে “প্লাস্টিক টাকায়” পরিণত হয়েছে। ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ডের যুগ ছিল কদিন আগেও। এখন সেটাও বদলে গিয়ে হয়ে যাচ্ছে মোবাইল ওয়ালেটের যুগ। bKash, Paytm-এর রমরমা বাজার, মোবাইলের এক টিপে টাকা এপার-ওপার।

যারা যুগের সাথে বদলাতে পারে না, যুগ তাদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়। তাই ক্রমাগত যুগের সাথে বদলাতে থাকুন।

লেখাটি এখানে শেষ হয়েছে। 

লেখাটি যারা পড়লেন তারা নিশ্চয়ই কয়েকটি ম্যাসেজ পেয়েছেন। এক, পৃথিবী অনেক দ্রুত বদলে যাচ্ছে, এবং তার সাথে বদলাচ্ছে প্রয়োজনীয় স্কিল। আজকে যে স্কিলটি আপনার কাজে লাগছে, প্রযুক্তির কারণে কালকেই সেই স্কিলটির আর প্রয়োজন নেই।

দুই, এই পরিস্থিতিতে আজকে আপনার শিশু যা শিখছে স্কুলে, ১৫-২০ বছর পর তার কি প্রয়োজন থাকবে? শিশুকে গড়ে উঠতে হবে ক্রিয়েটিভ হিসাবে যেন সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তার মধ্যে তৈরি হয়, সে যেন প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং নতুন নতুন স্কিল আয়ত্ত করতে পারে। আমাদের শিক্ষাব্যাবস্থায় সে সুযোগ আমরা রাখিনি।

তিন, আপনার শিশু যে পেশাতেই যাক না কেন, সেখানে তার হতে হবে সেরাদের সেরা। তার মানে এই না যে ডাক্তারের ডাক্তারি সব বই মুখস্ত থাকতে হবে। কারণ সেই কাজ কম্পিউটারই করে দিবে। তাকে শিখতে হবে কোন পরিস্থিতিতে কি ধরণের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেই সিদ্ধান্ত একটি মেশিন, রোবট বা কম্পিউটার নিতে পারবে না। ইঞ্জিনিয়ারিং বই মুখস্থ করে সবচেয়ে ভালো নাম্বার পাওয়া ছাত্রটি কোন চাকরি পাবে না, যদি না তার মধ্যে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা না থাকে।

সচেতন অভিভাবক মাত্রই অনুধাবন করতে পারবেন আসলে আমরা আমাদের শিশুদের জন্য যেভাবে নিজেদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করছি, সেরকম ভবিষ্যৎ হতে যাচ্ছে না যদি আমরা এখন যা করছি তাই করে যেতে থাকি। তাহলে অভিভাবক হিসাবে আমাদের কি করতে হবে?

প্রথমেই হল, নিজেকে আরও বেশি জানতে হবে। শিশুকে সময় দিতে হবে এবং শিশুর মধ্যে এই স্কিলগুলো তৈরি করতে কাজ করতে হবে। যেহেতু স্কুল এটি আপনার জন্য করে দিবে না, তাই আপনাকেই তার দায়িত্ব নিতে হবে। সন্তানের বয়স ১০ বছর হওয়া পর্যন্ত চেষ্টা করে যান এই স্কিলগুলো বাড়ানোর জন্য।

অভিভাবকরা কিভাবে শিশুদের মধ্যে সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং ইত্যাদি বাড়াবেন তার জন্য আমরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন আর্টিকেল ও লেখা প্রকাশ করি আমাদের ওয়েবসাইটে। সেই লেখাগুলো যদি কোন অভিভাবক নিয়মিত পড়ে এবং ব্যক্তিগত জীবনে কাজে লাগায় তাহলেই আশা করা যায় শিশুদের মধ্যে এই দক্ষতাগুলো বাড়ানো সম্ভব।

আমাদের আর্টিকেলগুলো একের পর এক পাবেন এখানে। প্রতিদিন নিয়ম করে একটি দুটি করে আর্টিকেল পড়ুন।

http://kidstimebd.com/articles/ 

…………………………………………………………………

পাশাপাশি আমরা আমাদের Kids Time সেন্টারগুলোতে শিশুদের এই দক্ষতাগুলো বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কোর্স অফার করছি। ৪-৮ বছর বয়সী শিশুরা আমাদের এই কোর্সগুলোতে ভর্তি হতে পারে। আগ্রহী অভিভাবকরা চাইলে তাদের কাছের Kids Time সেন্টারে শিশুকে নিয়ে আসতে পারেন।

Kids Time এ আমরা কি ধরণের কাজ করি সেটি জানতে ক্লিক করুন নিচের ছবিতে।

 

কোর্স নিয়ে যেকোনো প্রশ্ন থাকলে কল করুন এই নাম্বারেঃ ০১৭৭১৫৮৮৪৯৪

আমাদের সেন্টারগুলোর ম্যাপ 

 

 

 

Get parenting article to your inbox

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

Kids Time will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.