আপনার শিশুর দুর্বল দিকগুলো কাটিয়ে উঠবেন যেভাবে

আপনার শিশুর দুর্বল দিকগুলো কাটিয়ে উঠবেন যেভাবে

August 13, 2018 Behavior and Discipline Development Emotional Intelligence Parenting 0

সবল ও দুর্বল দিক প্রত্যেকটি শিশুর মধ্যেই থাকে। একটি শিশু যখন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে তখন তার মধ্যে আমরা বিভিন্ন গুণের প্রকাশ দেখতে পাই । অনেক কাজ আছে যা তারা অনেক সহজেই ও উৎসাহের সাথে সম্পন্ন করতে পারে। আবার এমন অনেক কাজ আছে যা অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও তারা করতে পারেনা। এই কাজগুলো না করতে পারার কারণ হয়তো সে সেই কাজটির জন্য দুর্বল। আবার যে কাজগুলো সে সহজেই করতে পারে, সেগুলোর ক্ষেত্রে সেই কাজে তার দক্ষতা বেশি থাকে। অর্থাৎ এই কাজে সে সবল।

এভাবে শিশুদের স্বভাব, আচরন ও কাজে তাদের সবল ও দুর্বল দিকগুলো আমরা লক্ষ্য করে থাকি। অভিভাবক হিসেবে আমাদের সবার করণীয় হচ্ছে তাদের এই সবল ও দুর্বল দিকগুলো যাতে তারা চিহ্নিত করতে পারে। সেগুলো নিয়ে তারা কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের জন্য করণীয় কাজগুলো নিচে দেয়া হলো।

আপনার যদি ৪-১০ বছর বয়সী শিশু থাকে তাহলে যেসব দিকগুলোর দিকে অভিভাবক হিসাবে আপনার মনোযোগ দেয়া দরকারঃ

১। আপনার শিশু অন্য শিশুর সাথে সহজেই মিশতে পারছে কিনা

২। নিজের উপর আত্মনিয়ন্ত্রণ আছে কিনা (নাকি যা দেখে কিনতে চায়, বা এখনই কিছু মনে হলে পেতে চায়)

৩। মনোযোগ দিয়ে কোন কাজ কিছুক্ষণ করার মতো Concentration আছে কিনা

৪। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস আছে কিনা

৫। নতুন কোন কাজ করার ক্ষেত্রে ভয় কাজ করে কিনা

৬। নতুন কোন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে কিনা

৭। নতুন কোন কিছু করার ক্ষেত্রে তার আগ্রহ আছে কিনা

৮। নিজের বয়স উপযোগী কাজগুলো নিজেই করতে পারে কিনা

৯। অন্যকে সাহায্য করার বা উপকার করার মানসিকতা আছে কিনা

১০। ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক বোঝার মতো মানসিক বুদ্ধি তৈরি হয়েছে কিনা

 

অভিভাবক হিসাবে এই ১০ টি বিষয়ের প্রতি আপনার প্রখর দৃষ্টি থাকতে হবে। এই বিষয়গুলোর অভাব বা অনুপস্থিতির কারণেই আপনার শিশুর মধ্যে দুর্বল দিকগুলো প্রবল হিসাবে দেখা দিচ্ছে। এবং যত বয়স বাড়বে ধীরে ধীরে ততই সমস্যা বাড়তে থাকবে।

অভিভাবক হিসাবে আপনার সফলতা সন্তানকে স্কুলে প্রথম স্থান অর্জন করাতে নয়, বরং উপরের এই ১০ টি বিষয়ের ঘাটতি পূরণ করাতে।

প্রতিটি শিশু পৃথিবীতে আসে সমান ক্ষমতা এবং দক্ষতা নিয়ে। অভিভাবক হিসাবে যে পরিবেশ আমরা তাকে দেই, নিজেদের বিকাশে শিশুকে যতটা সুযোগ করে দেই, এবং কোন বিষয়গুলোতে আমরা priority দেই – তার উপর নির্ভর করে আমাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে কতটা সফল হচ্ছে।

অভিভাবক হিসাবে আপনি শিশুকে যতটা Explore করার সুযোগ দিবেন, তার মানসিক উন্নয়নের পেছনে চিন্তা করবেন, আপনার শিশু ততটাই সফল ব্যক্তি হিসাবে গড়ে উঠবে।

এরকম কিছু কাজ যা আপনি এখন থেকেই করতে পারবেন সেগুলো নিচে দেয়া হল।

শিশুকে বিভিন্ন আলাদা ধরণের কাজ করতে দিন

বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরণের কাজ করতে দিন। কাজ যতোই সাধারন হোক না কেন, কাজে কোন রকম হেলাফেলা না করে যেনো সেই দিকে লক্ষ্য রাখুন। যখন যে কাজ করবে সেই কাজেই যেনো পুরোপুরি মনোনিবেশ করে সেইদিকে লক্ষ্য রাখুন। শিশুরা একই কাজ বার বার করতে পছন্দ করেনা, তাই তাদের একই কাজ বার বার না দিয়ে নতুন নতুন কাজ দিন।

আপনার শিশুর কাজের একটা রুটিন করে দিন 

বাচ্চারা যদি রুটিন অনুযায়ী কাজ করে, তাহলে তাদের মধ্যে সময় মতো কাজ করার অভ্যাস গড়ে উঠবে। এছাড়া তার রুটিন থেকে সে কোন কাজে সবল তা বের করা সম্ভব। রুটিন অনুযায়ী বাচ্চারা যে কাজ বেশি করবে সে কাজে তার দক্ষতা বেশি হবে এবং সেই কাজে সে সবল হবে। তাই বাচ্চদের সুবিধার জন্য একটি রুটিন তৈরি করে দিন। তারা যেনো এই রুটিন মেনে চলে সেটা নিশ্চিত করুন।

রুটিন তৈরি করার ক্ষেত্রে শিশুর মতামত নিন। সে যদি বিকালে বা সন্ধ্যায় এক ঘণ্টা কার্টুন দেখতে চায় তাহলে সেটিই রাখুন। এই সময়ের বাইরে যেন সে কার্টুন না দেখে সেটি তাকেই নিশ্চিত করতে বলুন।

আপনার শিশুর সাথে পর্যাপ্ত সময় কাটান 

আপনার বাচ্চার সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় কাটান। অনেক সময় দেখা যায় কাজের ব্যস্ততায় আমরা বাচ্চাদের যথেষ্ট পরিমাণ সময় দিতে পারিনা। এর ফলে আমরা বুঝতে পারিনা তারা আসলে কি করতে পছন্দ করে। কোন কাজ তারা অনেক মনোযোগ দিয়ে করে। অথবা তারা কোন কোন কাজে অনেক পারদর্শী তা জানা সম্ভব হয় না বাচ্চাদের সাথে সময় না কাটানোর ফলে। তাই অভিভাবকের উচিৎ বাচ্চার সাথে যথেষ্ট পরিমাণ সময় কাটানো।

পড়াশোনার সময়ে তার পাশে থাকুন। খেলাধুলার সময় তার সাথে খেলুন । খেয়াল করুন তার পড়তে ভালো লাগছে নাকি। কোন বিষয় তার সবচেয়ে ভালো লাগে। কোন খেলাটা সে ভালো খেলতে পারে তা লক্ষ্য রাখুন।

প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা যেন গল্পের বই পড়ার সুযোগ পায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। আপনার শিশু এখনও যদি নিজে নিজে পড়া না শিখে তাহলে আপনার দায়িত্ব তাকে বই পড়ে শুনানোর। আপনার রুটিনেও এই বিষয়টি রাখুন।

আপনার শিশুকে কখনই অন্যর সাথে তুলনা করবেন না 

অনেক সময় দেখা যায় শিশুরা তাদের দুর্বলতাগুলোকে অনেক বড় করে দেখে। এর ফলে তাদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পরে। এই দুর্বলতাগুলোকে কাটিয়েই তাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তাই তারা যাতে তাদের দুর্বলতার উপর বেশি চিন্তা না করে তাদের সবল দিকগুলোর উপর আরো বেশি করে জোর প্রয়োগ করে সেটা তাদের বোঝাতে হবে। অনেক সময় শিশুরা হতাশ হয়ে পড়ে। তারা দেখে অন্যরা যেটা অনেক সহজেই করতে পারছে তাদের ক্ষেত্রে সেটা করতে কষ্ট হচ্ছে। এতে তারা অনেক সময়েই ভেঙে পড়ে। তাই তাদেরকে সবসময় বোঝাতে হবে যে, অনেক কাজই আছে যা সে সহজেই করতে পারে অন্যদের তুলনায়। যে কাজে আপনার শিশু দুর্বল সেটা নিয়ে তাকে অন্যের সাথে তুলনা দিবেন না।

আপনার শিশুর সবল দিকগুলো খুঁজে বের করুন 

একটি শিশু সকল কাজে অথবা সকল বিষয়ে ভালো হতে পারেনা। তাই আপনার সন্তান যখন আস্তে আস্তে বড় হতে থাকবে খেয়াল করুন সে কোন কাজটি করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। কোন শিশু হয়তো পড়াশোনা করতে বেশি পছন্দ করে, আবার কোন শিশু হয়তো ক্রিকেট খেলতে পারে ভালো, আর এটাই সে বেশি ভালোবাসে। আবার কোন শিশু ভালো ছবি আঁকতে পারে।

একেকটি শিশু একেক দিক থেকে সবল, আবার একেক দিকে দুর্বল। তাই তার সবল দিকগুলো বের করার চেষ্টা করুন এবং সেটি নিয়েই তাকে বেশি কাজ করতে দিন।

আপনার শিশু যদি নিজে নিজেই কোন সমস্যা সমাধান করে ফেলতে পারে সেটির জন্য তাকে প্রশংসা করুন। স্কুলে যদি সে আজকে তার টিফিন বা তার অতিরিক্ত কলমটি অন্য কারোর সাথে শেয়ার করে সেটার জন্য বাহবা দিন। অভিভাবক হিসাবে আপনি যে উপরের ১০ টি বিষয়ের দিকে নজর দিচ্ছেন এবং তার জন্য সন্তানকে উৎসাহ দিচ্ছেন এটি সেও উপলদ্ধি করতে পারবে এবং আরও বেশি সেসব দিকে নজর দিবে।

দুর্বল দিকগুলোর দিকে নজর দিন 

আমরা সাধারণত শিশুদের সবল দিকগুলো নিয়েই সবসময় ভাবতে ব্যস্ত থাকি। তবে শিশুদের শুধুমাত্র সবল দিকে নজর দিলেই চলবেনা। আপনার সন্তান কোন ব্যাপারে দুর্বল সেটিও বের করতে হবে। তার জন্য উপরের ১০ টি বিষয় উল্লেখ করাই হয়েছে একবার।

শিশুর দুর্বল দিকগুলো আপনি যদি বুঝে যান সেটি কিন্তু তাকে সরাসরি বলতে যাবেন না। ঠিকমতো এই ব্যাপারটি বলতে না পারলে হিতে বিপরীত হতে পারে। শিশু আবার ভয় পেয়ে সেই কাজগুলো আরও বেশি করে করতে চাবে না।

তাকে তার দুর্বল দিকগুলো এমনভাবে তুলে ধরুন যেন শিশু নিজে থেকেই উদ্যোগ নেয়। সে ১০ টি বিষয়ের মধ্যে যেসব বিষয়ে ভালো সেগুলোর জন্য তাকে প্রশংসা করুন।

পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার জন্য আপনি যতটা খুশি হন, আপনার শিশু অন্য আরেকজনের একটা ছোট উপকার করলে ততটাই খুশি হন এবং তার প্রশংসা করুন। এতে সে বুঝতে পারবে অভিভাবক হিসাবে আপনার priority কি। এতে করে সে ওই কাজগুলো আরও বেশি বেশি করবে।

সবাই পড়াশোনায় প্রথম হবে এটা যেমন ভাবা ঠিক না, তেমনিভাবে সবাই যে ভালো ছবি আঁকতে পারবে বা খেলাধুলায় ভালো করবে এটা ভাবাও ঠিক না। আপনার সন্তানের কাছে আপনার চাহিদা বা চাওয়া আসলেই কি সেটি নিয়ে ভাবুন।

 

 

……………………………………………………………………………………………………………….

৪-১০ বছর বয়সী শিশুদের মানসিক দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা বাড়ানো নিয়ে কাজ করছে Kids Time. আমাদের কাজগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিঙ্কে।

মজার স্কুল Kids Time

অভিভাবকদের জন্য আমরা চালু করেছি অনলাইন কোর্স যেখানে অভিভাবকরা শিশুদের মানসিক বিকাশ থেকে শুরু করে অন্যান্য বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সব জিনিস শিখতে পারবেন। এই কোর্সগুলো আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ গঠনে কাজে দিবে।

আমাদের Teachers Time এর এই অনলাইন কোর্সগুলো করতে রেজিস্ট্রেশন করুন নিচের ছবিতে ক্লিক করে।