আপনার শিশুর সাথে মূল্যবোধ ও বিবেকবোধের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন তো?

আপনার শিশুর সাথে মূল্যবোধ ও বিবেকবোধের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন তো?

April 23, 2018 Behavior and Discipline 0

প্রত্যেক বাবা মাই চান তাদের সন্তানদের নীতিবান হিসেবে গড়ে তুলতে। যে কি না যেকোনো পরিস্থিতিতে ন্যায়পরায়নতার পরিচয় দিবে। শুধু লোক দেখানোর জন্যই নয় বরং মন থেকে একজন সৎ এবং মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হবে। কিন্তু এই ইন্টেরনেটের যুগে সন্তানকে বিপথে যাওয়া থেকে আটকানো একটি খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, শিশুদের মধ্যে ঠিক এবং ভুল এর পার্থক্য করার ক্ষমতা গড়ে উঠতে শুরু করে ছোটবেলা থেকেই। তাই এ ক্ষেত্রে বাবা মার ভুমিকা খুবই বেশি থাকে। বাবা মা যদি তাদের সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই সুন্দর একটা পরিবেশের মধ্যে বড় করতে পারে তাহলে তাদের মধ্যে মূল্যবোধ্যের সঞ্চারণ আরও ভালভাবে হবে। এছাড়াও টিভিতে শিশুদের জন্যে ভালো ভালো অনুষ্ঠান, ইউটিউব, নেটফ্লিক্স ইত্যাদিতে শিশুদের উপযোগী অনুষ্ঠানও শিশুদের মুল্যবোধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

আপনার বাচ্চা ঠিক কতটা বিবেকবান হয়ে বড় হচ্ছে তার পরিচয় পাওয়া যায় যখন থেকে সে বাইরের জগতের সাথে মিশতে শুরু করে এবং মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু করে। আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায় যদি পারিবারিক কলহ, বাবা মার বিচ্ছেদ, অন্যান্য পারিবারিক সমস্যা, স্কুলের সমস্যা ইত্যাদি যুক্ত হয়। এসব পরিস্থিতিতে আপনার বাচ্চা কেমন আচরণ করে তা থেকে তাদের মূল্যবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। সিরিয়াল, মুভি, বিভিন্ন টিভি শো এবং তার বন্ধু-বান্ধব এই সময় তার গাইডলাইন হিসেবে কাজ করে।

এই ডিজিটাল যুগে বাচ্চাদের ইন্টারনেটের দিকে বেশি ঝুকে পড়তে দেখা যায়। প্রত্যেক ঘরে ঘরেই বাবা মারা বাচ্চাদেরকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই ফোন, কম্পিউটার, ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করে দিতে বাধ্য হয়। এ সময় সবারই চিন্তা থাকতে পারে যে, হয়ত আমার বাচ্চাটা বিপথে যেতে পারে। কিন্তু একটু সতর্কতা অবলম্বন করলে এই ইন্টারনেটকেই আপনি ভাল দিকে কাজে লাগাতে পারবেন।

যেভাবে বাচ্চার মূল্যবোধকে জাগ্রত এবং শক্তিশালী করতে পারেনঃ

১. পরিবারের সাথে একসাথে বসে যখন সিনেমা দেখবেন। এমন সিনেমা বাছাই করবেন যাতে সহানুভুতি, সততা, কৃতজ্ঞতাবোধ ইত্যাদি দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলুন। তারা টিভিতে যা দেখল তা থেকে কি শিখলো। ভাল কাজের পরিনতি কি হয়, খারাপ কাজ করলে কি পরিনতি হতে পারে ইত্যাদি সম্পর্কে তাদেরকে অবগত করুন। ভালো কাজ করলে এর পুরষ্কার স্বরূপ কিছু আয়োজন করুন। তাতে তারা উদ্বুদ্ধ হবে।

২. আজকাল ফেসবুকে নান ধরনের ভাইরাল ভিডিও, মিম ইত্যাদি বের হয়। যাদের মধ্যে খারাপ এবং ভাল দুই ধরনের জিনিসই থাকে। আপনার বাচ্চাদের সাথে ভালগুলি শেয়ার করুন। যখন সে বেশি বেশি ভাল জিনিস দেখবে তখন তার মানসিকতাও ভালর দিকে বেশি ঝুঁকে পড়বে।

৩. তার ইন্টারনেটে অভিজ্ঞতা কেমন তার খবর রাখুন। ইন্টারনেটে আজকাল অনেকেই বুলিং এর শিকার হয়। এর বেশির ভাগই দেখা যায় টিনেজার। এর ফলে অনেক ছোট বয়সেই তাদের মানসিকতার উপর বিরুপ প্রতিক্রিয়া পরে। তারা যেন কখনো বুলিং এর শিকার না হয় এবং কাউকে বুলিং না করে এই ব্যাপারে বাবা মা হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। মানুষের সাথে সবসময় ভাল ব্যবহার করা, প্রতিশোধ পরায়নতা থেকে দূরে থাকা ইত্যাদির শিক্ষা সন্তানকে ছোট বেলা থেকেই দেয়ার চেষ্টা করুন।

৪. তারা কোন ধরনের মিডিয়া ব্যবহার করছে মাঝে মাঝে তার খোঁজ নিন। তাকে জিজ্ঞেস করুন তার পছন্দের তারকা কে। কার ভিডিও, মুভি অথবা গান সে বেশি দেখে। তাকে জিজ্ঞেস করুন যে সে কখনো ইন্টারনেটে খারাপ কিছু দেখেছে কিনা। দেখলেও সে সম্পর্কে তার মতামত কি।

৫. বাচ্চার মূল্যবোধ এবং বিবেক তৈরীতে বই এর ভূমিকা অপরিসীম। মোবাইল ও ইন্টারনেটের পাশাপাশি বইও যে আমাদের বন্ধু তা বাচ্চাদের ছোটবেলা থেকেই বুঝাতে হবে। এর উপায় হলো বাচ্চাকে বেশি বেশি করে বই কিনে দেয়া। শুধু কিনে দিলেই হবেনা, বাচ্চা বই পড়ছে কি না সে বিষয়েও খেয়াল রাখুন। বাচ্চার সাথে সাথে আপনি নিজেও পড়ুন বই গুলো। তারপর তার সাথে গল্প করুণ বইটি নিয়ে।

ঈশপের নীতিকথা সিরিজটি অর্ডার করতে ক্লিক করুণ ছবিতে অথবা চলে যান  ToguMogu পেজে  

৬. আমরা সবাই জানি বাচ্চারা বড়দের অনুকরণ করতে ভালবাসে। তাই আপনার সন্তানের সামনে আপনি নিজেকে কিভাবে উপস্থাপন করছেন সে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাচ্চার সাথে গল্প করুণ, শেয়ার করুণ আপনার এবং অন্যান্য মানুষের ভাল কাজের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা। Voluntary কাজেও ছোট থেকেই বাচ্চাকে নিযুক্ত করতে পারেন।

সন্তানের সব থেকে কাছের বন্ধু মা বাবা। সুতরাং তাকে সঠিক পথ দেখানোর কাজটা আপনাকেই করতে হবে। মনে রাখবেন, বাচ্চারা তার জীবনে সবথেকে বড় শিক্ষাগুলি শেখে পরিবার থেকেই।

 

Get parenting article to your inbox

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

Kids Time will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.