সৃজনশীল সন্তান গড়ে তোলার ৮টি উপায়

সৃজনশীল সন্তান গড়ে তোলার ৮টি উপায়

July 28, 2018 Behavior and Discipline crafting Creativity Development Education Parenting 0

সৃজনশীলতাকে একটি পেশির সাথে তুলনা করা যায়। একে যত বেশি কাজ করানো যাবে, যত বেশি নতুন চ্যালেঞ্জের মধ্যে থেকে আনা যাবে এটি তত বেশি প্রসারিত হবে। কিন্ত অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবক শিশুদের মুখস্থবিদ্যার দিকে ঝোঁক দেয়। অনেকে মনে করেন যে সৃজনশীলতা একটি স্বতন্ত্র প্রতিভা যা একটি শিশুর মধ্যে আছে কিনা তা তার জন্মের সময় নির্ধারন হয়ে যায়। ঠিক যেমন সব শিশু সমানভাবে বুদ্ধিমান নয়, সব শিশু সমানভাবে সৃজনশীলও নয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, সৃজনশীলতা হচ্ছে জন্মগত ভাবে পাওয়া প্রতিভার চেয়েও বেশি কিছু। সৃজনশীলতা হচ্ছে একটি দক্ষতা যা বাবা-মা তাদের বাচ্চাদের বিকাশ করতে সাহায্য করতে পারে। সৃজনশীলতা এমন একটি বিষয় যা পুরোটাই ছোটবেলা থেকে অনুশীলনের উপর নির্ভরশীল আর এক্ষেত্রে অভিভাবকের গুরুত্ব অনেক বেশি। তারা চাইলে বিভিন্নভাবে তাদের সন্তানন্দের মাঝে এই বিষয়টির চর্চা করিয়ে তাদেরকে অন্য সবার থেকে এগিয়ে রাখতে পারেন। কিছু কাজ আছে, যার মাধ্যমে বাচ্চাদের সৃজনশীল ভাবনাকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারেন।

তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক , সৃজনশীল বাচ্চা গড়ে তোলার ৮টি উপায়ঃ

১। কৌতূহল 

শিশুকে কৌতূহলী করে তুলতে হবে কারন কৌতূহল সৃজনশীলতার দিকে পরিচালিত করে। তাই শিশুকে যতটা সম্ভব বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করে তার মাঝে কৌতূহল জাগাতে হবে যেন এ কৌতূহল থেকে তার জানার আগ্রহ বাড়ে যা তার সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে সহায়ক হবে।এবং একইভাবে শিশুর করা সকল প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করতে হবে।উত্তর না জানলে শিশুর কাছে সময় নিন।এবং অবশ্যই উত্তরটি খুঁজে বের করে পরবর্তিতে জানিয়ে দিন।

২। দলীয় কাজে আগ্রহী করে তোলা

অন্যের সাথে মিলিত হয়ে কাজ করার দক্ষতা অর্জনে আগ্রহী করতে হবে। একটি কাজ যদি একাধিক মানুষকে করতে দেয়া হয়, তবে সেই একটি কাজেরই অনেক রকমের সমাধান বের হবে। কারন প্রতিটি মানুষের চিন্তার ধরন আলাদা। যদি শিশু ছোটবেলা থেকেই যেকোনো কাজ দলগতভাবে করে তাহলে প্রতিটি কাজের জন্য তার চিন্তার পরিধি বৃদ্ধি পাবে যা তার সৃজনশীলতাকে বাড়িয়ে দিবে।ছোটকাল থেকেই দলীয় খেলা বা দলে ঘুরতে যাওয়াকে উৎসাহিত করুন।

“প্রতিটি মানুষের চিন্তার ধরন আলাদা।আর দলগত ভাবে কাজ করলেই এই চিন্তার  পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে”

বলা হয়ে থাকে,

“Two skills lie right at the heart of the future innovator: looking around and creating new solutions.”

৩। কাজের স্বাধীনতা 

শিশু যা করতে পছন্দ করে তাকে তা করতে দেয়া উচিত। কারন সবাই সব ক্ষেত্রে দক্ষ হয় না আবার সবকিছু করতে অনেকের ইচ্ছাও করেনা । মা-বাবাকে শিশুর এই পছন্দের জায়গাটা খুঁজে বের করতে হবে ।শিশু যে বিষয়ে আগ্রহী তাকে সেই বিষয়ে কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করা হলে সে তার সৃজনশীলতাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে।যেমন, আপনি যদি বুঝতে পারেন আপনার শিশুর পছন্দ বা আগ্রহের কাজ ছবি আঁকা তবে ছবি আঁকাটাকেই প্রাধান্য দেয়া উচিৎ অন্য সবকিছুর আগে। আর মজার ব্যাপার হল আপনি এই ছবির মাধ্যমে অনেক কিছু শেখাতেও পারবেন আপনার শিশুকে।

৪। গল্পের মাধ্যমে প্রশ্ন করার প্রবণতা বাড়ানো 

শিশুকে বিভিন্ন ধাঁধাঁ, রহস্যমূলকগল্প, পাজলগেমস, রঙপেন্সিল, লেগোসেট এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় গল্প আকারে শোনাতে হবে। তার ভেতরে প্রশ্ন করার প্রবণতা আনতে হবে। এটা কেন হয়, সেটা কেন হয়, এটা কিভাবে কিভাবে করা যায়, এমন ধরনের প্রশ্ন তাকে জিজ্ঞেস করতে হবে যেন সে এগুলো নিয়ে ভাবতে পারে এবং এতে করে তার সৃজনশীলতার পরিধি বাড়বে।

৫। নিজেই শিশুর আদর্শ হন 

ছোটবেলায় শিশুরা খুবই অনুকরণ করতে পছন্দ করে। তাই নিজেই হন সন্তানের রোল-মডেল। শিশুকে সৃজনশীল করে তুলতে চাইলে আগে মা-বাবার সৃজনশীল হতে হবে, নয় তো সৃজনশীতার প্রতি মা-বাবার আগ্রহী থাকতে হবে। তবেই শিশু মা-বাবার দেখাদেখি সৃজনশীলতার প্রতি আগ্রহী হবে।

“শিশুরা শোনে শেখেনা

তারা দেখে শেখে “

মনে রাখবেন, শিশুরা শোনে শেখেনা তারা দেখে শেখে। তাই শিশুদের নিয়ে বই পড়তে বসা, বিভিন্ন গল্পকরা, খবরের কাগজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিন্তাকরার মাধ্যমে শিশুর সব বিষয়ে জানার আগ্রহ বাড়বে। এতে করে শিশুর creativity বৃদ্ধি পাবে।

৬। সমস্যা সমাধানে শিশুকে উৎসাহিত করুন 

মাঝে মাঝে বিভিন্ন জটিল সমস্যা তৈরী করে তা সমাধানের জন্য দিতে হবে। এতে করে জীবনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জটিলতা আসলে তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে খুব সহজে। কেনোনা সে বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধান এবং জটিল সব বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার শিক্ষা আগে থেকেই পেয়েছে। এই শিক্ষা তাকে তার নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিবে।

৭। শিশুর নিজের কাজ তাকেই করতে দিন 

শিশুকে ছোটবেলা থেকে স্বাবলম্বী হতে শিখাতে হবে। এক্ষেত্রে মা-বাবার দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। ছোটবেলা থেকেই নিজের কাজ নিজে করতে শিখাতে হবে। এতে করে শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে।

নিজের কাজ নিজে করলে সে মুক্তভাবে চিন্তা করতে পারে। ভবিষ্যৎ এ তাকে নিজের সমস্যার সমাধান তার নিজেকেই করতে হয়। যেসব শিশুরা পরনির্ভরশীল থাকে তারা ভবিষ্যৎ এও অন্যের উপর নির্ভরশীল থাকে। তাই বাচ্চাকে নিজের কাজ নিজে করা শিখতে হবে।

৮।সৃজনশীলতা নিয়ে কথা বলা 

সৃজনশীলতা নিয়ে কথা বলুন শিশুদের সঙ্গে সৃজনশীলতা নিয়ে আলোচনা করুন। তারা কখন তাদের ভালো আইডিয়াগুলো পেয়ে থাকে অথবা কী করলে তারা আনন্দ পায়  এরকম বিষয়গুলো আলোচনা করে সেই বিষয়গুলো যাতে বেশি বেশি হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

শিশুর সৃজনশীলতা বৃদ্ধ্বির জন্য আপনার কি অন্য কোনো ধারনা আছে?  তাহলে সেগুলো কি? আপনারা তা আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আপনার সন্তানের সৃজনশীলতা বাড়াতে আপনি কিভাবে কাজ করছেন তা আমাদের জানান, আমরা আরো অনেক বাবার কাছে পৌঁছে দিবো আপনার আইডিয়া ও কাজকে।