একজন ভালো সমস্যা সমাধানকারী হিসেবে গড়ে তোলার ৭টি উপায়

একজন ভালো সমস্যা সমাধানকারী হিসেবে গড়ে তোলার ৭টি উপায়

August 17, 2018 Creativity 0

 

সমস্যা জীবনের প্রকৃত ঘটনা। এই পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ আমার মতে জানা নেই যার জীবনে সমস্যা নেই। একদম ছোট শিশু হতে শুরু করে বড় মানুষ, সকলের সমস্যা আছে। কিন্তু আমার মতে বড়দের তুলনায় বাচ্চারা বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়। কেননা ছোট শিশুরা সবসময় বিভিন্ন জিনিস খোঁজ করা নিয়ে ব্যস্ত থাকে,যেমন “যদি আমি এটা করি …” বা “আমি ভাবছি আমি কি করতে পারি …” এসব চিন্তা সর্বদা তাদের মাথায় থাকে যার ফলে তারা স্বাভাবিক ভাবেই এসব চিন্তা করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়।

এই সমস্যাগুলোর সমাধান তাকে নিজ থেকে করতে শেখা উচিত। বাচ্চারা জন্ম থেকেই অনেক প্রতিভার অধিকারী হয়ে থাকে। শুধু এই প্রতিভাগুলো বিকশিত করার জন্য সচেতন পরিবার এবং উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। প্রায় প্রতিদিনই যেসব সমস্যার সংঘটিত হয় তা সমাধানের জন্য problem solving skill বা সমস্যা সমাধান করার দক্ষতা প্রয়োজন। শিশুদের নিজেদের সমস্যা সমাধান করার দক্ষতা অর্জন করা উচিত, যা তাদের আত্মনির্ভরশীলতা, আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাসের বিকাশে সাহায্য করবে। আর একজন সচেতন বাবা-মার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে তাদের সন্তানকে সমস্যা সমাধানে দক্ষ করে গড়ে তোলা।

একটা বয়স পর্যন্ত সবকিছুর জন্যই শিশুরা পরনির্ভরশীল হয়ে থাকে। কিন্তু শিশুর বয়স যখন ৩ বছর হয়ে যায় এরপর থেকে খাওয়া, গোসল করা, বাথরুম করা, নিজের সব খেলনা-বই গুছিয়ে রাখা ইত্যাদি এই কাজগুলো শিশুর নিজের দায়িত্ব। অভিভাবক হিসাবে এটি আপনার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

কিন্তু এই বয়সের পরও যেসব শিশুরা পরনির্ভরশীল হয়, যারা মনে করে যে তাদের বাবা-মা সব করে দিবে, সেসব শিশুরা জীবনে ভালো কিছু অর্জনের দিক থেকে পিছিয়ে পরে। তাই যেসব বাবা-মা চান যে তাদের সন্তান জীবনের সকল বাঁধাকে অতিক্রম করে এগিয়ে যাবে, তারা তাদের সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলেন। তাদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করতে শিখায়।

এমন কিছু কাজ আছে যেগুলো আপনার বাচ্চার সমস্যা সমাধান দক্ষতাকে পরিপূর্ণ করবে। এই কাজগুলো যদি একটি শিশুকে ছোটবেলা থেকে শিখানো যায় তবে জীবনের সকল ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় সে সমস্যা সমাধানে দক্ষ হয়ে উঠবে। তো আর ভূমিকা না করে চলুন দেখে আসি ৭টি কাজ যে কাজগুলোর মাধ্যমে একটি শিশুকে সমস্যা সমাধানে দক্ষ করে গড়ে তোলা যায়:

সবসময় মাথা ঠান্ডা রাখতে শিখা্নো

প্রায়ই যখন আমরা একটি সমস্যা সম্মুখীন হই, আমরা হতাশ হই বা রেগে যাই। আর হতাশ অথবা গরম মস্তিষ্ক কখনো সঠিক ফলাফল দিতে পারেনা। তাই প্রথমত সন্তানকে শিখাতে হবে যে, যত বড় সমস্যাই আসুক না কেন, মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।একটি প্রবাদ আছে- “রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন” এটির মানে গল্পের মাধ্যমে তাকে বুঝাতে হবে। এসব নিয়ে নানান গল্প আছে তা শিশুকে শুনাতে হবে। তাহলে দেখা যায় অনেক সময় গল্প শিশুর উপর খুব ভাল প্রভাব ফেলে।

সমস্যা চিহ্নিত করতে শিখানো

অনেক সময় বাচ্চারা বলে যে, এই জিনিসটাতে সমস্যা আছে বা তার এই সমস্যা হয়েছে। কিন্তু যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয় যে আসলে সমস্যাটি চিহ্নিত করার জন্য, তখন সে বুঝেই উঠতে পারেনা যে সমস্যাটা আসলে কোনটা। তাই নিজেকে ঠান্ডা রেখে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনের প্রথম কাজটি হচ্ছে সমস্যার identify করা। সমস্যাটি কি তা চিহ্নিত করতে পারলেই তা সমাধান অনেকাংশেই সহজ হয়ে যায়।

একটি সমস্যার একাধিক সমাধান বের করে রাখা

একটি সমস্যা চিহ্নিত করার পর তার জন্য অনেকগুলো সমাধান চিন্তা করে রাখতে হয় তা শিখাতে হবে। কারন প্রতিটি সমাধান কাজ করবে না। একটি সমাধান এক সময় কাজ করবে কিন্তু অন্য সময় না হতে পারে। শিশু যত বেশি সমস্যার সমাধান করবেন, ততো বেশি সমাধানের উপায় বের করা শিখবে। এই সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি বাচ্চাদেরকে খেলার ছলে, গল্পের ছলে শিখানো যেতে পারে। বিভিন্ন গল্পের বইতে দেখা যায় বিভিন্ন সমস্যা সমাধান বের করার চেষ্টা করছে, একই সমস্যা অনেকগুলো উপায়ে সমাধান করছে। এভাবে মজার ছলে একটি সমস্যার নানা সমাধান বের করা শিখানো যেতে পারে।

সমস্যার প্রতিটি সমাধান প্রয়োগ করা শিখানো

সাধারণত আমরা যেকোন সমস্যার একাধিক সমাধান থাকলেও যেকোন একটি দিয়েই সমাধান করে বসে থাকি। কিন্তু ভালো সমস্যা সমাধানকারী হতে হলে প্রতিটি সমাধান প্রয়োগ করে সবচেয়ে ভালো সমাধানটি প্রয়োগ করা উচিৎ। এভাবে ধাপে ধাপে সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধান করা শিখাতে হবে। যদিও এগুলোকে পুঁথিগত বিদ্যার মত লাগছে কিন্তু এই বিষয়গুলো শিশুকে চর্চা করানো হলে শিশুর সমস্যা সমাধান দক্ষতা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি হবে।

চিন্তা শক্তি বাড়ায় এমন খেলা খেলতে হবে

বাচ্চারা খেলতে পছন্দ করে। এমন অনেক খেলা আছে যা তাদের চিন্তা করতে শিখায়। যেমন: দাবা খেলা, শিশুকে গল্পের ছলে বিভিন্ন চিন্তামূলক প্রশ্ন করা শিশুর চিন্তা চেতনার বিকাশে সাহায্য করে থাকে। আপনি আপনার সন্তানকে নিয়ে দাবা খেলার সময় সে নানা সমস্যার সামনে পড়বে। তখন তাকে সমস্যাটি সমাধানের জন্য বিভিন্ন চিন্তামূলক প্রশ্ন করতে পারেন। একসময় তাকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকুন এবং তাকে নিজেকেই চিন্তা করতে দিন। এর ফলে তার বিভিন্ন দিকে চিন্তার পরিধি বাড়বে, সমাধানের উপায় বাড়বে।

বিভিন্ন বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা

ছোটরা গল্প খুবই পছন্দ করে। তাই শিশুদের যদি ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন থ্রিলার বা গোয়েন্দার বই পড়ার অভ্যাস করানো যায় তবে সেটি হবে সমস্যা সমাধান দক্ষতা অর্জনের অন্যতম কারন। কেননা থ্রিলার বইয়ে দেখা যায় বিভিন্ন রহস্য এবং সেই রহস্যেগুলোর সমাধান। এগুলো থেকে তাদের মাঝেও কোন কিছু সমাধান করার একটা প্রবণতা এসে পড়ে। ফলে তাদের নিজেদের কোন সমস্যা হলেও তা সমাধানের জন্য তাদের তেমন সমস্যা হয়না।

নিজেরাই সমস্যা বের করে দিন

মাঝে মাঝে আপনিও কিছু ছোট সমস্যা তৈরী করতে পারেন এবং তা কিভাবে সমাধান করা যেতে পারে তা নিয়ে শিশুর সাথে আলাপ করতে পারেন। অথবা আশেপাশের নানান সমস্যা তাকে দেখিয়ে তা কিভাবে সমাধান করা যায় তাকে চিন্তা করতে বলতে পারেন। এভাবে শিশুর চিন্তার মানকে অনেক শক্ত করা যায় যা তার সমস্যা সমাধান দক্ষতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিবে।

 

এভাবে ছোটবেলা থেকেই তাকে বিভিন্ন সমস্যার সাথে পরিচিত করান এবং কিভাবে এগুলোর সমাধান করা যায় তার চর্চা করাতে থাকুন। এর ফলে শিশু মানসিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবে। কোন সমস্যায় আগেই হার না মেনে তা সমাধান করার শিক্ষা অর্জন করবে এবং সে একজন ভালো সমস্যা সমাধানকারী হিসেবে গড়ে উঠবে।

………………………………………………………………………………………………………………………………………………..

Avishkaar Box ভারতে শিশুদের জন্য robotics শেখানোর সবচেয়ে বড় প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। পাশাপাশি তাদের বয়স উপযোগী বেশ কিছু robotics kits আছে যেগুলো দিয়ে শিশুরা নিজেরা শিখতে পারে। Robotics, engineering এবং coding এর সমন্বয়ে তৈরি করা কোর্সটির মূল উদ্দেশ্য শিশুদের analytical and problem solving skill বৃদ্ধি করা।

আমাদের Robokids কোর্সে মাত্র ১৫ টি সীট আমরা রেখেছি প্রথম ব্যাচে। আগ্রহী অভিভাবকরা নিচের লিঙ্কে যেয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

রেজিস্ট্রেশন লিংক: https://goo.gl/forms/8p1vwhsU1JKpqk2C3